খাদ্যের অপচয় কমাতে ফিলিপাইন্সে অভিনব উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 07.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

খাদ্যের অপচয় কমাতে ফিলিপাইন্সে অভিনব উদ্যোগ

আধুনিক জীবনযাত্রার অঙ্গ হিসেবে অনেক খাবার নষ্ট হয়৷ ফলে অপচয়ের পাশাপাশি জলবায়ুরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে৷ ফিলিপাইন্সে এক প্রকল্পের আওতায় খাদ্যের অপচয় কমানোর চেষ্টা চলছে৷

আবর্জনারস্তূপেখাবারের সন্ধান

আবর্জনার স্তূপে উচ্ছিষ্ট খাবার দেখলে খাওয়ার ইচ্ছা জাগার কথা নয়৷ কিন্তু ক্ষুধার চোটে বাধ্য হয়ে এ সব খেতে হয়৷ ম্যানিলা শহরে ভোর থেকেই আবর্জনা কুড়ানিরা ফেলে দেওয়া খাদ্যের সন্ধান চালিয়ে যান৷ ফিলিপা বাল্ডে নিজের পরিবারকে এই ‘পাগপাগ' বা আবর্জনার স্তূপে কুড়িয়ে পাওয়া খাদ্যের অবশিষ্ট অংশ খাওয়ান৷ ফিলিপাইন্সের ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষের দিনে তিনবেলা খাবার সামর্থ্য নেই৷

ফিলিপাইন্সে খাদ্যের অপচয়ও কম হয় না৷ পকেটে টাকা থাকলে রেস্তোরাঁয় ‘যত পারো তত খাও' বুফে ভোজে অফুরন্ত খাবার খাওয়া যায়৷ শেষ পর্যন্ত প্লেট যে খালি হয় না, তাতে বিস্ময়ের কারণ আছে কি? ডাব্লিউডাব্লিউএফ-এর মেলোডি মেলো-রাইক মনে করিয়ে দেন, ‘‘যখন আপনি খাবার নষ্ট করছেন, তখন আসলে অনেক সম্পদ নষ্ট হচ্ছে৷ যেমন পানি, বিদ্যুৎ, মাটির পুষ্টি৷ খাবার উৎপাদন, পাঠানো, বিতরণের মতো অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়ার মধ্যেও অপচয় ঘটে৷ এই সব বিষয় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন তরান্বিত করছে৷''

অপচয় কমানোর উপায়

মেলোডি মেলো-রাইক এমন এক প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যার আওতায় রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলিকে খাদ্য অপচয় কমানোর বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে৷ ম্যানিলা থেকে গাড়িতে ঘণ্টাদেড়েক দূরে পর্যটকদের প্রিয় তাগাইতাই শহর৷ মেলোডি সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন৷

সপ্তাহান্তে বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির অসংখ্য মানুষ শহরের ব্যস্ততা থেকে পালিয়ে সেখানে চলে যান৷ বলাবাহুল্য খাওয়াদাওয়াও মনোরঞ্জনের মধ্যে পড়ে৷ সেখানকার পিকনিক পার্ক একটা বড় আকর্ষণ৷ ফিলিপাইন্সের মানুষ সাধারণত দিনে পাঁচ বার খাওয়াদাওয়া করেন৷ এখানে সবাই বাসা থেকে কিছু না কিছু নিয়ে আসেন৷

দেশে সমৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপচয়ের মাত্রাও বাড়ছে৷ সারা বছর গোটা দেশে প্রায় তিন লক্ষ টন চাল ফেলে দেওয়া হয়৷ মার্লন আসুয়েলোর মতো কিছু মানুষ এই প্রবণতার বিরুদ্ধে কিছু একটা করতে চান৷ স্পা হোটেলের রাঁধুনী হিসেবে তিনি শুধু অতিথিদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করতে চান না৷ জঞ্জালের পরিমাণ কমাতেও তিনি উদ্যোগ নিচ্ছেন৷

জঞ্জালের পুনর্ব্যবহার

পারলে সব কিছুই কাজে লাগাতে চান তিনি৷ অবশিষ্ট অরগ্যানিক জঞ্জাল কাজে লাগিয়ে তিনি সার তৈরি করেন৷ মার্লন তাঁর অতিথিদের আচরণের উপরেও প্রভাব রাখছেন৷ মার্লন আসুয়েলো বলেন, ‘‘আসলে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্লেটে খাবারের পরিমাণ স্থির করা৷ কারণ আগে আমরা প্রচুর পরিমাণ খাবার পরিবেশন করতাম৷ ফলে তার অনেকটাই নষ্ট হতো৷ তাই আমরা পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত নিলাম৷ কিন্তু আমাদের খাদ্য তালিকায় কিছু পদ এখনো দু'জন অথবা পাঁচজনের পরিবারের জন্য যথেষ্ট হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে৷ কিন্তু একক ব্যক্তিদের জন্য আমরা পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছি৷ এমনভাবে প্লেট সাজাচ্ছি, যাতে মনে হয় তাতে অনেক খাবার রয়েছে৷''

ভিডিও দেখুন 05:51

খাবার নষ্ট করা ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ

মার্লন আসুয়েলো মেলোডি-র প্রকল্পে অংশ নিচ্ছেন৷ তাঁকে সাধারণত রাঁধুনীদের বুঝিয়ে বলতে হয়, যে খাদ্যের অপচয় কীভাবে জলবায়ুর ক্ষতি করছে৷ মেলোডি বলেন, ‘‘খাদ্যের অপচয় ঘটলে সেগুলি আবর্জনার স্তূপে গিয়ে জমা হয়৷ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় ক্ষয়ের সময় সেগুলি মিথেনের মতো আরও মারাত্মক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করে, যা কার্বন ডাই অক্সাইডের তুলনায় ২০ গুণেরও বেশি শক্তিশালী৷ ফলে আমাদের বায়ুমণ্ডলে উষ্ণতা বন্দি হয়ে পড়ে৷''

রাঁধুনী হিসেবে মার্লন জানেন যে দামি হোটেলে কোর্সের আয়োজন করলে শুধু হাতে গোনা কিছু মানুষ এ বিষয়ে সচেতন হবেন৷ অদূর ভবিষ্যতে আর শুধু স্বেচ্ছায় অপচয় কমালে চলবে না৷ নতুন এক আইন কার্যকর হলে ফিলিপাইন্সে রেস্তোরাঁ ও সুপারমার্কেটগুলিকে উদ্বৃত্ত খাবার দান করতে হবে৷

ম্যানিলার দরিদ্র এলাকার চালচিত্র

ততদিন পর্যন্ত বস্তা বস্তা বর্জ্য খাবার আবর্জনার স্তূপে জমা হতে থাকবে, যেমনটা ম্যানিলার পায়াতাস নামের এলাকায় দেখা যায়৷ ধনীদের আবর্জনা দরিদ্রদের জীবনধারণের ভিত্তি হয়ে উঠেছে৷

ফিলিপা বাল্ডে তাঁর ‘পাগপাগ' নিয়ে বাসায় ফিরছেন৷ দুই বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর ৬৭ বছর বয়সি এই নারীর কাঁধে সংসার চালানোর দায়িত্ব এসে পড়েছে৷ তখন থেকেই তিনি আবর্জনা কুড়ানি হিসেবে কাজ করছেন৷ বাসায় ফিরে তিনি কুড়িয়ে পাওয়া মুরগির মাংস ব্যাকটেরিয়া-মুক্ত করতে পানিতে ফোটাচ্ছেন৷ পিঁয়াজ ও মসলা যোগ করে তিনি সন্তান ও নাতিনাতনিদের জন্য রাতের খাবার রান্না করলেন৷ তিনি এই কঠিন পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘‘এখানে হয় কাজ আছে কিংবা নেই৷ অবশ্যই এমন খাবার খেতে না হলেই ভালো হতো৷ কিন্তু এ ছাড়া উপায় নেই৷ জীবন বড় কঠিন৷''

ধনীদের উচ্ছিষ্ট খেয়ে বেঁচে থাকলেও ভবিষ্যতে অপচয়ের বদলে উদ্বৃত্ত খাবার দান করা হলে ফিলিপা বাল্ডে-র জীবনযাত্রা অনেক সহজ হয়ে উঠবে৷ কারণ তাঁর মতে, আবর্জনার দুর্গন্ধে কখনোই অভ্যস্ত হওয়া যায় না৷

গ্যোনা কেটেল্স/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন