খাওয়ার অভিজ্ঞতা নয়, খাওয়াটাই একটা অভিজ্ঞতা | বিশ্ব | DW | 22.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

খাওয়ার অভিজ্ঞতা নয়, খাওয়াটাই একটা অভিজ্ঞতা

লিন্ডা লেৎসিয়ুস-এর ইভেন্ট ডিনারে গেস্টদের পরস্পরের সঙ্গে হাত বেঁধে দেওয়া হতে পারে; আবার হয়ত চোখ বাঁধে হলো ফেট্টি দিয়ে; কিংবা হয়ত নানা ধরনের ফুল দিয়ে ভোজ হচ্ছে – যেন বিভূতিভূষণের ‘মধুলিড়’!

হাতে হাতে আজ চোখে ফেট্টি বেঁধে কানামাছি হয়ে ডিনার খাওয়া? বার্লিনের উত্তর-পশ্চিমে ক্যুরিৎস শহরে খ্রিষ্টীয় যাজিকাদের মঠের বাগানে লিন্ডা লেৎসিয়ুস যে সব ‘ইভেন্ট ডিনার’-এর আয়োজন করেন, তার রীতি-নীতি, কায়দা-কানুন সব আলাদা – সাধারণ রেস্টুরেন্টের সঙ্গে তা ঠিক মেলে না৷ লিন্ডার ‘ইভেন্ট এজেন্সি’-র নাম হল ‘ওয়াইল্ড অ্যান্ড রুট’৷ এখানে খাওয়া-দাওয়াই হল একটা নতুন, নিজস্ব অভিজ্ঞতা৷

ভিডিও দেখুন 03:05
এখন লাইভ
03:05 মিনিট

খাওয়াটাই যেখানে একটা অভিজ্ঞতা

লিন্ডা বলেন, ‘‘এক অর্থে আমাদের স্পেশাল ডিনারে অতিথিদের পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়; ভাগাভাগি করে নিতে, একসঙ্গে খেতে, টেবিলে অন্যভাবে বসতে৷ অনেক সময় ওপর থেকে খাবার পেড়ে নিতে হয়, কিংবা মাটি থেকে খুঁড়ে বার করে নিতে হয়; এমনকি বাক্সের স্ক্রু খুলে বার করে নিতে হয়৷ খাবার টেবিলে একসঙ্গে বসা আর একসঙ্গে খাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়৷’’

লিন্ডার ‘ওয়াইল্ড অ্যান্ড রুট’ এজেন্সির আয়োজিত প্রতিটি ডিনারের ধরন আলাদা হলেও, খাবার-দাবার কিন্তু সবসময়ে আসে স্থানীয় খামারচাষিদের কাছ থেকে৷ ব্রান্ডেনবুর্গ প্রদেশের ‘সুখি’ শাক-সবজি দিয়ে লিন্ডা তাঁর নিরামিষ ভোজের আয়োজন করেন কুইরিৎস শহরের ‘মঠ ভোজনে’৷ ‘মঠ ভোজনের’ উপজীব্য হল খাওয়া যায়, এমন নানা ধরনের ফুল৷ ফুল যে শুধু দেখতে ভালো, শুধু তাই তো নয় – খাদ্য হিসেবেও ফুলের নানা গুণাগুণ আছে৷

লিন্ডা বলেন, ‘‘শুধু দেখানোর জন্য যে, ফুলের মধ্যে যে কতো ধরনের ওষধি থাকে, আমরা আজ তা ভুলে গেছি৷ আমরা বেসিল বা তুলসীপাতা কিনি, টমেটো আর মোৎসারেলা চিজ বেসিল দিয়ে খেতে ভালো লাগে বলে৷ কিন্তু তুলসীপাতা যে মাথা ধরা সারাতেও কাজে লাগে, তা আজ আর কেউ জানে না বা আমাদের বলে দেয় না৷ কাজেই বাড়ির কাছে যে সব জিনিস পাওয়া যায়, তার ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা লোকজনকে সচেতন করে তুলতে চাই, যাতে তারা অন্যভাবে বাজার করতে, অন্য ধরনের জিনিসপত্র খেতে শেখেন৷’’

জিনা মঠের ক্রিস্টফ লেনৎসেন-এর বাগানে সেই সব ফুল ফোটে, লিন্ডা তাঁর ডিনার রান্নায় যা ব্যবহার করে থাকেন৷ বার্লিনের ক্রয়েৎসব্যার্গ এলাকার ন'নম্বর সবজি-বাজারে ক্রিস্টফের একটি ফুলের দোকান আছে – সেখানেই দু'জনের আলাপ৷ ক্রিস্টফের ব্যবসা অরগ্যানিক সার্টিফিকেট প্রাপ্ত, কাজেই তাঁর বাগানের বা দোকানের ফুল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্দ্বিধায় খাওয়া চলে৷ ক্রিস্টফের ব্যাখ্যা: ‘‘সহজ কথায় বলতে গেলে, আমরা কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করি না; কোনো কীটনাশক ব্যবহার করি না৷ পাতায় পোকা ধরলে অন্য পোকারা তাদের খেয়ে ফেলবে, বলে আমরা আশা করি৷’’

সাধারণত ফুলের ব্যবসায়ীরা ফুলকে খাদ্য বলে মনে করেন না৷ অপরদিকে লিন্ডা জানেন যে, কর্নফ্লাওয়ার ফুলটি হজমের পক্ষে ভালো, বা ক্যালেন্ডুলা ফুলে ত্বক ভালো হয়৷ ‘সেজ’ গাছের পাতা জার্মান রান্নায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়; কিন্তু তার ফুলগুলোর স্বাদও অনেকটা একই রকম, কাজেই সেগুলোকেও খাওয়া চলে৷

বিরগিট ভলস্কে/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন