খরার কবলে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 25.01.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

খরার কবলে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ

ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ বালি পর্যটকদের স্বর্গভূমি বলে খ্যাত৷ কিন্তু পানীয় জলের দূষণ ও স্বল্পতা ইত্যাদি কারণে খুব বেশিদিন হয়তো এই সুনাম আর টিকে থাকবেনা৷ বিশেষ করে হোটেল, সুইমিং পুল, গল্ফ খেলার জায়গাগুলি খরার কবলে পড়েছে৷

default

ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ

পর্যটকরা যখন বালির সমুদ্র সৈকত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হোটেলগুলিতে তাঁদের ছুটি উপভোগ করেন, তখন স্থানীয় বাচ্চারা নদী ও পুকুরের নোংরা দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে খেলাধুলা ও হুটোপাটি করে৷ অজান্তেই শিকার হয়ে পড়ে অনেক অসুখবিসুখের৷

ইন্দোনেশিয়ায় দূষিত জল শোধনের কোনো ব্যবস্থা প্রায় নেই বললেই চলে৷ কল-কারখানা, চাষের খেত ও মানুষের বাড়িঘর থেকে দূষিত পানি নদী ও পুকুরে গিয়ে পড়ে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডাব্লিউ এইচ ও'র তথ্য অনুযায়ী ইন্দেনেশিয়ায় বছরে পঞ্চাশ হাজারের মত মানুষ দূষিত পানি বাহিত রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে৷ অসংখ্য মানুষ দূষিত পানির কারণে পেটের অসুখ ও নানাবিধ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে৷ সাহায্য সংস্থা বালিফোকাসের মুখপাত্র ইউইউন ইসমাভাটি মনে করেন, এই অবস্থার আশু পরিবর্তন প্রয়োজন৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘নোংরা পানি মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক৷ স্থানীয়দের অনেকেই এত অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন৷ তাদের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতাও খাপ খাইয়ে নিচ্ছে দূষিত পানির সঙ্গে৷ পর্যটকদের ক্ষেত্রে অবশ্য এ কথা প্রযোজ্য নয়৷ তবে দেশের বহু মানুষও বিভিন্ন ধরনের পেটের অসুখ বিসুখে ভুগছে৷''

দূষিত জলের কারণে শুধু যে স্বাস্থেরই ক্ষতি হচ্ছে তাই নয়, অর্থনৈতিক দিক দিয়েও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশটি৷ ইসমাভাটি বলেন,‘‘বিশেষ করে বাচ্চারা অসুখের কবলে পড়ে বেশি৷

BdT Indonesien UN Klimakonferenz Bali Klimawandel

বালির জিমবারান সমুদ্র সৈকত

যার ফলাফল ভোগ করতে হয় মা বাবাকেও৷ তারা কাজে যেতে পারেননা, উপার্জনও বন্ধ থাকে৷ বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারেনা৷ উচ্চ শিক্ষার দ্বারও রুদ্ধ হয়ে যায়৷ অর্থাৎ দূষিত পানি গোটা পরিবারকেই আর্থিক দিক দিয়ে কাবু করে ফেলে৷''

পর্যটকের দ্বীপ বালিতে ২৭ লক্ষ মানুষের জন্য পানির ব্যবস্থা রয়েছে৷ কিন্তু সেখানে ৩৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ বসবাস করেন৷ তার ওপর প্রতি বছর ৪০ লাখেরও বেশি পর্যটক আসেন দ্বীপটিতে৷ কতটা পানি তারা ব্যবহার করেন, সে সম্পর্কে অনেক পর্যটকেরই ধারণা নেই৷ এক পর্যটক বলেন, ‘‘মনে হয়না খুব বেশি পানি খরচ করি না আমি৷ খুব বেশি হলে ৪০ লিটার৷ খুব অল্প পানিতে স্নান সেরে নেই৷'' আরেক পর্যটক বলেন, ‘‘স্নান ও পানি পান করা, সবমিলিয়ে ১০০ লিটার খরচ হয় প্রতিদিন''৷ এছাড়া পর্যটক এলাকায় হোটেলের প্রত্যেকটি ঘরে প্রতিদিন ৫০০ লিটারের মত পানি খরচ হয়, জানায় সাহায্য সংস্থা বালিফোকাস৷ দূষিত পানি ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে সংস্থাটি৷ এই সংস্থার মতে স্থানীয় জনসাধারণের চেয়ে অনেক বেশি পানি খরচ করে পর্যটকরা৷ সুইমিং পুল ও বাগানের জন্যও কম পানি খরচ হয়না৷ এই ভাবে চললে ‘দেবতার দ্বীপ' বলে কথিত এই জায়গাটি পর্যটকহীন হয়ে পড়বে৷ মনে করেন ‘বালিফোকাসের ইউইউন ইসমাভাটি৷ তাঁর ভাষায় ‘‘এই ভাবে চললে ২০ বছর পর আমাদের আর ভূস্বর্গ বলে মনে করা হবেনা৷ কোনো স্বর্গের এত দুর্গন্ধ হয়না৷ আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে এই স্বর্গের অস্তিত্ব আর থাকবে কিনা৷''

বালি দ্বীপটিকে রক্ষা করার জন্য ‘বালিফোকাস' ব্রেমেনের একটি সংস্থার সঙ্গে দূষিত পানি শোধনের ব্যাপারে এক গবেষণা প্রকল্প গড়ে তুলেছে৷ ২০০৯ সালে পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য গোল্ডমান প্রাইজ পেয়েছেন ইউইউন ইসমাভাটি৷ ১৯৯০ সাল থেকে প্রতিবছর পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানের ছয় কৃতি ব্যক্তিত্বকে এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে৷

প্রতিবেদন : রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়