খড় পোড়ানোর কুফল | অন্বেষণ | DW | 25.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

খড় পোড়ানোর কুফল

ভারতের উত্তরাঞ্চলের মতো থাইল্যান্ডেও ফসল তোলার পর খড় পোড়ানোর ফলে পরিবেশ দূষণ এক বড় সমস্যা৷ এক উদ্যোক্তা খড় ব্যবহারের পরিবেশবান্ধব বিকল্প তুলে ধরে সেই প্রবণতা বন্ধ করতে সফল হয়েছেন৷

প্রতিবার ফসল তোলার পর থাইল্যান্ডের ধানচাষিরা উদ্বৃত্ত খড়কুটো পুড়িয়ে ফেলেন৷ ফলে চারিদিকে ধোঁয়া ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে৷ বহু দূরে থাকলেও সেই ধোঁয়ার কারণে চোখমুখ জ্বালা করে৷

উত্তরে লাম্পাং প্রদেশে পুরোদমে ফসল তোলা হচ্ছে৷ ভোর থেকেই নারীরা মাঠে নেমে পড়েছেন৷ তাঁরা ধারালো কাস্তে দিয়ে শস্য কাটেন৷ একটি খেতের উপর অনেক পরিমাণ খড় পড়ে রয়েছে৷ এক কিলোগ্রাম ধানের সঙ্গে এক কিলো পর্যন্ত খড়ও পাওয়া যায়৷ সেই খড় পচে গেলে জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস সৃষ্টি হয়৷ খড় পোড়ালে আবার কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয়৷ তাছাড়া বস্তুকণাও পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি করে৷

খড় আয়ের উৎস

উদ্যোক্তা হিসেবে জারুয়ান খামুয়াং এই পরিস্থিতি বদলাতে চান৷ ব্যাংককে উচ্চশিক্ষার পর তিনি নিজের গ্রামে ফিরে কিছু পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘চাষিদের প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হয়৷ দেখতে পাই, এভাবে ধান চাষ হচ্ছে, অনেক সময় লাগছে৷ তারপর খড় পোড়ানো দেখে মনে দুঃখ হয়৷ নিজের ভিটেমাটিতে ফিরে আমি সেই জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে পারিনি৷ তারা এখনো ধান চাষ করলেও খড় পোড়ানোর বিকল্প পথ বার করতে পেরেছি৷''

৩১ বছর বয়সি এই উদ্যোক্তার কাছে ধানগাছের খড় কোনো বর্জ্য নয়৷ বরং মূল্যবান উপাদান হিসেবে তিনি খড় কাজে লাগাচ্ছেন৷ তিনি কিলোপ্রতি প্রায় তিন ইউরো মূল্য দিয়ে চাষিদের কাছে খড় কেনেন৷ গাড়ি বোঝাই করে তিনি কাছে তাঁর কারখানায় সেই খড় নিয়ে যান৷ সেখানে সূক্ষ্মভাবে খড় কাটা হয়৷ খড়ের কণা বাতাসে ঘূর্ণির মতো উড়তে থাকে৷ মুখোশ না পরলে সেখানে টেকা যায় না৷ তারপর সেই কাটা খড় গরম পানিতে মেশানো হয়৷ সেই প্রক্রিয়ায় কোনো রকম রাসায়নিক পদার্থ যোগ করা হয় না৷ প্রায় চার ঘণ্টা ধরে পানি ফোটাতে হয়৷

এই প্রক্রিয়ার শেষে এক মণ্ড সৃষ্টি হয়৷ সেটি পরিশোধন করে শুকানো হয়৷ এখনো পর্যন্ত কারখানায় শুধু কাঁচামাল তৈরি করা হচ্ছে৷ কারণ প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রের মূল্য অত্যন্ত বেশি৷ সে কারণে জারুয়ান খড়ের মণ্ড ভারতে রপ্তানি করেন৷ জারুয়ান খামুয়াং জানান, ‘‘ভারতে আমাদের ক্রেতা রয়েছে, কারণ সে দেশে ছাঁচে ফেলে অনেক কিছু তৈরি করা হয়৷ তারা আমাদের কাঁচামালের উপর নির্ভর করে৷ তারাই যোগাযোগ করেছিল৷ বায়োডিগ্রেডেবল হওয়ায় তারা এই কাঁচামাল সম্পর্কে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল৷''

ভিডিও দেখুন 05:54

খড় পোড়ানো রোধের উদ্যোগ

উন্নতির জন্য গবেষণা

ভাতের মাড়ের পুরু স্তর লাগানো থাকলে ফ্যাট বা তেল, উত্তাপ ও তরল পদার্থ কমপক্ষে দুই ঘণ্টা প্লেটের ক্ষতি করতে পারে না৷ পেঁপের সালাদ দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যে কোনো তরল পদার্থ প্লেট থেকে চুইয়ে পড়ছে না৷

চিয়াং মাই শহরের উপকণ্ঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পার্কের ক্যাম্পাসের মাঝে অতিকায় ধানের এক দানা শোভা পাচ্ছে৷ সেখানে বিজ্ঞানীরা নিজেদের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে থাইল্যান্ডের স্টার্টআপ কোম্পানিগুলির সহায়তা করেন৷

জারুওয়ান খামমুয়াং নিজের কারখানায়ই ধান গাছে খড় দিয়ে তৈরি খাবারের মোড়ক তৈরি করতে চান৷ ২০২০ সালে তাঁর কারখানা প্রথমবার মুনাফার আশা করছে৷ বিজ্ঞানীরা যেভাবে ভাতের মাড় ব্যবহার করে প্রলেপ আরও মজবুত করে তুলছেন, জারুওয়ান সে বিষয়ে খুবই উৎসাহী৷ চিয়াং মাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সুথাফট কামথাই বলেন, ‘‘প্রাকৃতিক পণ্যের কিছু রাসায়নিক যোগ করে ফিল্ম প্রসেসিং-এর ফর্মুলায় পরিবর্তন আনা যায়৷ যেমন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে প্রলেপের মধ্যে কিছু তেল রাখা যায়৷'' 

স্থানীয় বাস্তবতা

কিন্তু প্রশ্ন হলো, চিয়াং মাই শহরে কি আদৌ এমন খড়ের তৈরি বাসনপত্রের চাহিদা রয়েছে? থাইল্যান্ডের জীবনযাত্রার অনেকটাই খোলা আকাশের নীচে আবর্তিত হয়৷ অসংখ্য ফেরিওয়ালা ও খাবারের স্টল একবার ব্যবহারের যোগ্য প্লেট বা বাসন ব্যবহার করে৷

একজন বিক্রেতার মতে, এমন বাসন উৎপাদন করতে চাইলে সেগুলির মাপের দিকে খেয়াল রাখতে হবে৷ মোড়ক খুব বেশি বড় করলে চলবে না৷ কারণ তখন ক্রেতার মনে হবে কম খাবার দেওয়া হয়েছে৷ মোড়কের দাম এক বাটের বেশি না হলেই ভালো৷ উল্লেখ্য, এক বাট প্রায় তিন ইউরো সেন্টের সমান৷ জারুয়ান খামুয়াং মনে করেন, ‘‘অনেক দোকান পরিবেশ দূষণের বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত৷ অতীতের তুলনায় সরকারের নীতিও অনেক শক্তিশালী হয়েছে বলে আমার মনে হয়৷ সরকার ফোম আর প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করছে৷ ছোট রেস্তোরাঁগুলিকে সরকার বায়োডিগ্রেডেবেল মোড়ক ব্যবহার করতে উৎসাহ দিচ্ছে৷''

খড়কে কীভাবে সোনায় পরিণত করা যায়, লাম্পাং-এর মানুষ তা শিখে গেছেন৷ ফলে এখন আর খড় পোড়ানোর প্রয়োজন নেই৷

ক্রিস্টিয়ান উলিশ/এসবি  

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন