কয়েদিদের নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভারতের তিহার জেলখানা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 25.05.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

কয়েদিদের নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভারতের তিহার জেলখানা

‘টিজে’ ভারতের একটি ব্র্যান্ডের নাম৷ তবে এটি অন্যান্য আর দশটা ব্র্যান্ডের মতো নয়৷ কেননা এই ব্র্যান্ড নামের পণ্যগুলো তৈরি করেন যারা তারা তিহার জেলের কয়েদি৷

default

তিহার জেলের একজন বন্দি (ফাইল ছবি)

পটেটো চিপস, বিস্কুট, শার্ট সবকিছুই তৈরি করে ‘টিজে'৷ আর এইসব পণ্য তৈরি করার মধ্যদিয়ে অতীতের স্মৃতি নিয়ে বর্তমানে কারাগারের বাইরের জগতকে যেন স্পর্শ করেন দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই কারাগারের বন্দিরা৷

এরইমধ্যে নতুন দিল্লির তিহার জেল ভবন বিভিন্নক্ষেত্রে বন্দিদের কারিগরি শিক্ষা দিচ্ছে, যার সফল রূপ তিহার জেল বা টিজে ব্র্যান্ডের পণ্য৷ ভেষজ পণ্য থেকে শুরু করে স্কুল ডেস্ক নানা ধরণের জিনিস তৈরি এবং বিক্রি করে থাকে টিজে৷ ‘মেড ইন তিহার'' ছাপ মারা পণ্য মার্কিন ডলারের হিসেবে গত বছর ২.৪৫ মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করেছিল৷

সঞ্জীবন রায় তিহার জেলের কয়েদি৷ গাঁজা পাচার করার জন্য তাকে এখানে জেল খাটতে হচ্ছে৷ বললেন, এই কারাগারে থেকে তিনি যে কাজ শিখেছেন ভবিষ্যতে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর সম্মানজনক একটা চাকরি খুঁজে পেতে তাকে সাহায্য করবে৷ তিনি বলেন, এখান থেকে আমরা যা শিখেছি তা দিয়ে নিজেরাই নিজেদের মতো করে ব্যবসা শুরু করতে পারবো৷ জলখাবারের ছোটোখাটো একটা দোকান দিয়ে আমরা শুরু করতে পারি আমাদের ব্যবসা৷'' তিহার জেলের মধ্যে একটি বেকারিতে কাজ করতে করতে তিনি বললেন এই কথা৷ তিনি আরও বলেন, এমনকি আমরা যদি সিদ্ধান্ত নেই যে, আমরা অন্য কোথাও কাজ করবো আমরা যা শিখেছি সেখানেও এটি কাজ দেবে৷

একবার জেল খাটার পর কারাগারের বাইরের জীবন এইসব মানুষদের জন্য স্বভাবতই অনেক কঠিন হয়ে ওঠে৷ কারাগারে থাকাটা তাদের জন্য এক ধরণের কলঙ্ক ছাড়া কিছু নয়৷ সামাজিকভাবে সবাই আর তাদের সঙ্গে আগের মতো মেলামেশা করেননা৷

তিহার জেল কমপ্লেক্স এর ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল রাম নিবাস শর্মা এ প্রসঙ্গে বলেন, কারাগারবাসীদের প্রতি এই ধরণের ট্যাবু দূর করা এবং তাদের কর্মদক্ষ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের উদ্দেশ্য৷ শর্মা আরো বলেন, এইভাবে কাজ শিখে নিজেদের কর্মদক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলছেন বন্দিরা৷ কারাগারে অলস সময় না কাটিয়ে তারা এখানে এমন কিছু করছেন এবং এমন কিছু শিখছেন যা তাদের জীবন ধারণের ক্ষেত্রে কাজে আসবে৷ এটা এমন কিছু যা মানবতার জন্য কল্যাণকর৷

প্রতিবেদন: জান্নাতুল ফেরদৌস

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক