ক্ষমতার সঙ্গে ধর্ষকের সংযোগ ও তার ফল | বিশ্ব | DW | 03.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ক্ষমতার সঙ্গে ধর্ষকের সংযোগ ও তার ফল

বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ঘটনায় দেখে গেছে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তরা ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত৷ এমনকি ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী বা অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্বেও ছিল কেউ কেউ৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতার সঙ্গে ধর্ষণের সরাসরি সংযোগ আছে৷

default

প্রতীকী ছবি

বগুড়ায় ধর্ষণ এবং পরে ধর্ষণের শিকার মেয়ে ও মাকে সালিশের নামে মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার ঘটনায় বাংলাদেশে প্রতিবাদ অব্যহত৷ পুলিশ ধর্ষণ মামলার আসামি তুফান এবং তার সহযোগীদের এরইমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে৷ তুফান বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ছিল৷ তাকে শ্রমিক লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়৷ শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় তুফানের বড় ভাই আব্দুল মতিনকে বগুড়া শহর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাকের পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়৷ তবে এই ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশই হতো না যদি না ধর্ষণপরবর্তি নির্যাতনের খবর, অর্থাৎ মা-মায়ের মাথা ন্যাড়া করার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না হতো৷

যাই হোক, এ পর্যন্ত যা জানা গেছে তাতে স্পষ্ট যে, তুফান ও তার পরিবারের সদস্যরা রাজনীতির জোরেই দীর্ঘদিন ধরে নানারকম অপরাধ করে আসছিল৷ বগুড়ার সাংবাদিক নাজমুল হুদা নাসিম ডয়চে ভেলেকে জানান, ২০১৫ সালে তুফান দুই বস্তা ফেনসিডিলসহ র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছিল৷ পরে ছাড়া পেয়ে তার বড় ভাই যুবলীগ নেতা মতিনের সহয়াতায় শ্রমিক লীগে যোগ দিয়ে অল্প দিনেই বড় নেতা হয়ে ওঠে সে৷ তাদের দুই ভাইয়ের ভিরুদ্ধে অনেক মামলা থাকলেও, তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি৷ পুলিশের কাগজে দেখানো হয় যে, তারা পলাতক৷ অথচ তারা প্রকাশ্যেই গোটা এলাকা দাপিয়ে বেরিয়েছে৷ মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে বক্তৃতা দিয়েছে, এমনকি ছবিও তুলেছে৷’’

অডিও শুনুন 04:50
এখন লাইভ
04:50 মিনিট

‘প্রথমে লোক দেখানো গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তদন্ত ও বিচার পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করে ধর্ষকরা’

নাসিম আরো জানান, ‘‘তারা রাজনৈতিকভাবে এতটাই ক্ষমতাধর যে পুরো পরিবারটি মিলে বগুড়া শহরে মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে তোলার পরও পুলিশ তাদের কিছুই করতে পারেনি৷’’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বগুড়ার এই শ্রমিক লীগ নেতা কেমন, সেটা যে তাদের উপরের সারির নেতারা জানতেন না, তা নয়৷ তারা জানতেন৷ আমার ধারণা, তারা আরো অনেকের খবর জানেন এবং প্রশ্রয় দেন৷ এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তারা নিজের মুখ রাক্ষায় ব্যবস্থা নিয়েছেন৷’’

গত বছর সিলেটে খাদিজা আক্তার নারগিসকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে সিলেট শাহজাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক বদরুল৷ বদরুলের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নারগিসকে সে পরপারে পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল৷ এই ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর প্রতিবাদের মুখে পড়ে বদরুলকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার করা হয়৷ বিচারে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও হয়৷ তবে বদরুল যে বেশ কয়েক বছর ধরে নারগিসের ওপর যৌন হয়ারানি চালিয়ে আসছিল, সেটা নিয়ে কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি রাজনৈতিক দলটি৷

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যার ক্ষমতা আছে সে এক ধরনের বিচারহীনতার সুবিধা ভোগ করে৷ সেই সুবিধা তাকে নানা অপকর্মে প্ররোচিত করে৷ এর মধ্যে ধর্ষণ একটি৷’’

অডিও শুনুন 03:15
এখন লাইভ
03:15 মিনিট

‘যার ক্ষমতা আছে সে এক ধরনের বিচারহীনতার সুবিধা ভোগ করে’

তিনি বগুড়ার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘হতে পারে জাতীয় পর্যায়ের অনেক নেতা ওই শ্রমিক লীগ নেতার চরিত্র সম্পর্কে জানতেন না৷ কিন্তু যিনি শ্রমিক লীগের শীর্ষ নেতা, তিনি এ সব তথ্য জানবেন না কেন?’’

কুমিল্লার তনু হত্যা এবং ধর্ষণের ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বা পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি৷ ঐ ঘটনাটি ঘটেছিল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভিতর৷ অনেক আন্দোলন ও প্রতিবাদ হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি৷ এমনকি যারা জড়িত বলে তনুর বাবা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি৷ স্পর্শকাতর ও নিয়ম নীতির দোহাই দিয়ে অনেক তথ্য আড়াল করা হচ্ছে৷ ড. মিজান বলেন, ‘‘ক্ষমতার নানা দিক এবং রূপ আছে৷ শুধু রাজনৈতি নয়, অর্থবিত্ত এবং কাঠামোরও ক্ষমতা আছে৷ সেই ক্ষমতার প্রভাবে অনেক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আড়ালে চলে যাচ্ছে৷’’

নূর খান বলেন, ‘‘প্রথমে লোক দেখানো গ্রেপ্তার করা হলেও পরে গিয়ে তদন্ত এবং বিচার পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করে ধর্ষকরা৷’’

আর ড. মিজান বলেন, ‘‘রাজনীতির সুস্থ চর্চা ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে৷ উন্নত বিশ্বেও যাঁরা রাজনীতি করেন, তাঁরাই ক্ষমতাবান৷ কিন্তু তাঁরা জানেন যে, তাঁদের বিচারব্যবস্থায় অপরাধ করে ছাড় পাওয়া প্রায় অসম্ভব৷ তাই তারা অপরাধ থেকে নিবৃত্ত থাকেন৷’’

নূর খান বলেন, ‘‘রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী যাঁরা, তাঁরা যদি অপকর্ম করে তাহলে তা সমাজেও সঞ্চারিত হয়৷ আমরাও এমনটা হতে দেখছি৷’’

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

গত নভেম্বরের এই ছবিঘরটি দেখতে পারেন..

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়