ক্রুজ ট্রিপের রমরমা | অন্বেষণ | DW | 11.05.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ক্রুজ ট্রিপের রমরমা

ক্রুজ ট্রিপ এখন পর্যটন শিল্পের সোনার হাঁস, নিয়মিত সোনার ডিম পাড়ে৷ ক্রুজ জাহাজগুলি যেন ভ্রাম্যমান দ্বীপ, তা-ও আবার ভূমধ্যসাগরে – সঙ্গে রয়েছে খানাপিনা, নাচগান, শরীরচর্চা, এক কথায় যা প্রাণ চায়৷

ভিডিও দেখুন 04:17
এখন লাইভ
04:17 মিনিট

পর্যটন শিল্পের সোনার হাঁস

সাগরের বুকে ছুটি কাটানোর নাম ক্রুজ৷ ক্রুজে যারা যান, তারা একদিকে সমুদ্র, অন্যদিকে নানা দেশ দেখতে আর উপভোগ করতে চান৷ হোটেল তো সঙ্গেই আছে, শুধু সুটকেস খুলে জামাকাপড় বের করে নিলেই হলো৷ রথ দেখা আর কলা বেচার আদর্শ হলো এই ক্রুজ ট্রিপ৷

গতবছর বিশ লাখ জার্মান গিয়েছিলেন ক্রুজ ট্রিপে৷ কিসের আকর্ষণে? এক যাত্রী বললেন, ‘‘প্রথম ক্রুজ ট্রিপটা সত্যিই দারুণ, প্রথমবার এ রকম একটা জাহাজ দেখা৷ বিশেষ করে ডাঙা থেকে এলে প্রথমে অনুভূতিটা হজম করতে হয়৷’’

হামবুর্গ বন্দর থেকে ক্রুজ শিপগুলো ছাড়ে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেনের উদ্দেশ্যে৷ হামবুর্গের পর্যটন বিশেষজ্ঞ উলরিশ রাইনহার্ড টুরিজমের হালের ট্রেন্ডগুলো নিয়ে চর্চা করেন৷ তাঁর মতে,‘‘ক্রুজ জাহাজগুলো হলো ভবিষ্যতের সব ভাসন্ত দ্বীপের মতো৷ চড়লে মনে হবে যেন একটা নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে৷ দূরে দিগন্ত, আবার প্রতিটি সকালে একটি করে নতুন শহর, যা ঘুরে দেখা যায়৷ নিরাপত্তা রয়েছে, জাহাজে নতুন নতুন লোকের সঙ্গে আলাপ হয়৷ সব মিলিয়ে ক্রুজ ট্রিপের ব্যবসা বাড়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে৷’’

ক্রুজের রকমফের

ইউরোপীয়দের বিশেষ প্রিয় হলো ভূমধ্যসাগর ক্রুজ৷ এখানে গরমকালে বিশেষ বৃষ্টি হয় না, মানে আকাশ নীলই থাকে৷ ওদিকে জাহাজ নোঙর ফেললে স্পেনের বার্সেলোনার মতো সুন্দর শহর ঘুরে দেখা যায়

স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ক্রুজ যাত্রীদের পছন্দ নরওয়ে৷ আর নরওয়ে মানেই রাজধানী অসলো৷

ক্রুজ জাহাজে মনোরঞ্জনের কর্মসূচি ক্রমেই আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে৷ জাহাজের ডেক-এ ঘাস ছাড়াই গল্ফ খেলা যায়৷ সন্ধ্যায় থাকে নানা ধরনের কনসার্ট আর স্টেজ শো৷ ওয়েলনেস বা ফিটনেস, মানে ওয়ার্কআউট করার জিম – এ সবই আছে৷

ওয়ার্কআউটের পর ভালো খাওয়াদাওয়া না হলে কি চলে? অধিকাংশ ক্রুজ শিপ খানাপিনার ব্যাপারে যে কোনো তিন বা পাঁচ তারা রেস্টুরেন্টের সঙ্গে টক্কর দিতে পারে৷

ক্রুজযাত্রীদের পছন্দ-অপছন্দ

ক্রুজ শিপের আকর্ষণ যত বাড়ছে, সেই অভিজ্ঞতা উপভোগ করার মতো লোকের সংখ্যাও তত বাড়ছে৷ প্রফেসর উলরিশ রাইনহার্ড বলেন, ‘‘আগে লোকে ক্যাপ্টেনস ডিনার বলতে যা বুঝতো, সুট-টাই বা বল-ড্রেস পরে ক্যাপ্টেনস টেবিলে বসে খেতো, আজ তা সাধারণ মানুষদের জন্য চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকে – শুধু খানাপিনাই নয়, বরং মনোরঞ্জন বা সময় কাটানোর জন্য বাকি যা কিছু করা যায়, সেখানেও ক্রুজ জাহাজগুলো অনেকদূর এগিয়েছে৷’’

কিছু ক্রুজ ট্রিপ আবার বিশেষ ধরনের গ্রাহকদের কথা ভাবে – যেমন কোপেনহেগেন থেকে গ্যোটেবর্গ পর্যন্ত তিন দিনের ‘ফুল মেটাল ক্রুজ’, এটা হলো হার্ডরক ফ্যানদের জন্য৷ এ ক্ষেত্রে আওয়াজটা একটু বেশি হবে আর সুযোগ বুঝে আরো একটা-দু’টো উলকি আঁকিয়ে নিতে পারা যাবে৷

সে তুলনায় ছোট ছোট জাহাজে নদীবক্ষে রিভার ক্রুজ অনেক বেশি শান্ত৷ যেমন ড্যানিউব নদীর বুকে দক্ষিণ জার্মানির পাসাউ শহর থেকে রোমানিয়া পর্যন্ত৷ প্রফেসর উলরিশ রাইনহার্ড বললেন, ‘‘রিভার ক্রুজ চিরকালই জনপ্রিয়, বিশেষ করে ড্যানিউব নদীর ওপর রিভার ক্রুজ, কারণ এভাবে ইউরোপের বিভিন্ন বড় শহর ঘুরে দেখা যায়৷ বহু মানুষ সাগরে যেতে চান না, বরং প্রতিটি মিনিট ডাঙার কাছাকাছি থাকতে চান৷’’

এবার শুধু ক্রুজ জাহাজগুলোকে আর একটু পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠতে হবে৷ এজন্য আরো ভালো ইঞ্জিন ও সুট ফিল্টার বসাতে হবে৷ তাহলেই ক্রুজপ্রেমীরা বিবেকের দংশন ছাড়াই ক্রুজ ভ্রমণে যেতে পারবেন – আর ব্যবসাও চলবে ভালো৷

সুসানে ডাউস/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন