ক্রাইস্ট হাউজ: ঘরহীন মানুষের ঠিকানা | বিশ্ব | DW | 14.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র

ক্রাইস্ট হাউজ: ঘরহীন মানুষের ঠিকানা

বছর দশেক আগেকার কথা৷ মার্কিন মুল্লুকের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির পথে ঘাটে দিন কাটাতেন হেনরি জোন্স৷ তখন শরীরটাও ভালো যাচ্ছিল না তাঁর৷ সবমিলিয়ে টালমাটাল অবস্থা৷

দীর্ঘদিন ধরে মদ ছিল জোন্সের নিত্য সঙ্গী৷ এক পর্যায়ে, শরীরের এমন অবস্থা হয়েছে, পা ফেলা দায়৷ কোনো মতে পৌঁছালেন ওয়াশিংটনের এক হাসাপাতালে৷ গেলেন জরুরি বিভাগে৷ জায়গা হলো না সেখানে৷ কর্তব্যরতরা বললেন, তাঁর অবস্থা অতটা সঙ্গীন নয়৷

ওইসময় এগিয়ে এলেন একজন৷ পরামর্শ দিলেন—অন্তত একটা আশ্রয় খুঁজে বের করতে, যেখানে মাথাটা রাখা যায়, ক'টা দিন নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায়৷ সঙ্গে বাতলে দিলেন আরেকটা উপায়৷ একটা ছোট্ট প্রতিষ্ঠানে জোন্স যেতে পারেন৷ সেখানে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবাটাও পাওয়া যাবে, সঙ্গে মাথা গোঁজার একটা ঠিকানা৷

দ্বিতীয় অপশনটা বেছে নিলেন জোন্স৷ তাঁর নতুন ঠিকানা ‘ক্রাইস্ট হাউজ৷' এই সংগঠনটি তাঁকে দিল চিকিৎসা আর থাকার ব্যবস্থা৷ সেখানে চিকিৎসা নিয়ে মদ ছাড়লেন, শরীর সুস্থ হলো, একটি ঠিকানা জুটলো৷ এমনকি রুটি রোজগারে পেলেন একটি চাকরিও৷

নিজের দুঃসময় পেরিয়ে এসেছেন জোন্স৷ তবু আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘‘রাস্তায় ছিলাম বলে মানুষ নিচু হয়ে তাকাতো আমার দিকে৷ তাঁরা ভাবতো, এভাবেই হয়তো কেটে যাবে জীবনের বাকি দিনগুলো৷''

‘‘আর এখানেই সবার চেয়ে আলাদা ক্রাইস্ট হাউজ৷ সংগঠনটি একজন মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখায়''— ক্রাইস্ট হাউজ নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন জোন্স৷

১৯৮৫ সালে ক্রাইস্ট হাউজ প্রতিষ্ঠিত হয়৷ এখন প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে৷ স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি একজন মানুষকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রাণপণ চেষ্টা করে তাঁরা৷ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সঙ্গে এখানেই তাঁদের পার্থক্য৷

ঘরহীন মানুষের পুনর্বাসনে কাজ করা সংগঠন আমব্রেলার জুলিয়া ডবিন্স বলেন, ‘‘হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি হলে, চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেয়া হয়৷ কিন্তু পুরোপুরি সেরে উঠতে ঘরহীন মানুষেরা নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হয়৷ এখানেই আসলে যত্ন আত্তির আসল পার্থক্যটা বোঝা যায়৷''

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকলেও, দিনে ওসব বন্ধ থাকে৷ ডবিন বলেন, ‘‘আমরা ঘরহীন মানুষদের অপরাধী করে তুলছি৷ তারা কোথাও মাথা গুঁজতে পারছে না, সারাক্ষণ ছোটাছুটির মধ্যে থাকতে হচ্ছে৷''

নিজেদের সম্পর্কে ক্রাইস্ট হাউজ বলছে, তাঁরা ভিন্নধর্মী একটি প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয়সহ মানুষকে নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে৷

প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যানেল গোয়েটিয়াস বলেন, ‘‘দুই বছর আগে তাঁদের কাছে এক রোগী আসেন৷ তাঁর ছিল ক্যান্সার৷ হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা নেয়ার পর, কাছেই একটি পার্কের বেঞ্চিতে রাত কাটাতেন৷''

পরে ক্রাইস্ট হাউজে ওই লোকের থাকার একটা জায়গা হলো, আর চিকিৎসার জন্য হাসাপাতালে আনা নেয়ার দায়িত্বটাও নিয়েছিল সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানটি৷  এরকম নানা উদাহরণ আছে বলে জানান জ্যানেল৷

কিন্তু এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে অর্থ৷  গেল বছর ম্যাসাচুটেসের ব্র্যান্ডিস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কারণে বছর হাজার হাজার ডলার খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব৷ কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এমন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্র একমাত্র বাধার নাম অর্থ৷ তহবিলের অভাবে অনেক ভালো উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷

এসব সংগঠন চালাতে গড়ে তিন ধরনের তহবিল পাওয়া যায়৷ কিন্তু অনেক সময় ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে মেডিকেল সহায়তাকারি হিসেবে বিল আদায় কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানালেন জুলিয়া ডবিন্স৷ ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানবহিতৈষী ও সাধারণ মানুষের দান দক্ষিণার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় বলেও জানান তিনি৷

প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা যেমন বাড়ছে, তেমনি তাদের কিছু সংকটও মোকাবেলা করতে হচ্ছে৷ তা সত্ত্বেও পোর্টল্যান্ড সিটি কনসার্ন নামের আরেকটি সংগঠন মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ শুরুর কথা ভাবছে৷  প্রতিষ্ঠানটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার গর্ডন উইলহেলমস বলেন, ‘‘ঘরহীন মানুষ যে প্রান্তেরই হোক, আমরা মনে করি, তাঁদের মানসিক সেবা দেয়াটা প্রয়োজন৷''

তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার আরেকটি বড় দিক হলো, মানুষে মানুষে সম্পোর্কন্নয়নটা খুব জরুরি৷ কারণ, গৃহহীনদের জীবনের মানুষেরও অভাব রয়েছে বলেও মনে করেন উইলহেলমস৷

টিএম/জেডএ (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন