‘ক্রসফায়ার ব্ল্যাকমেইল’: ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে মামলার মিছিল | বিশ্ব | DW | 03.09.2020

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

‘ক্রসফায়ার ব্ল্যাকমেইল’: ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে মামলার মিছিল

টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে একটার পর একটা মামলা হচ্ছে৷ মেজর (অব.) সিনহা হত্যার পর এপর্যন্ত আরো নয়টি মামলার খবর পাওয়া গেছে৷ মামলাগুলোর অভিযোগ একই রকম ‘টাকা না পেয়ে ক্রসফায়ারে হত্যা’৷

তবে সিনহা হত্যা মামলার বাইরে অন্য মামলাগুলোর তদন্ত নিয়ে তেমন তোড়জোড় দেখা যাচ্ছেনা৷ মামলাগুলো হয়েছে আদালতে৷ আদালত আবার সংশ্লিষ্ট থানাকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে৷ তাই আশঙ্কা, সিনহা হত্যার বাইরে মামলাগুলোর তদন্ত কি আদৌ সঠিক ও দ্রুতগতিতে হবে? এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘মামলা মামলার গতিতে চলবে৷’’

৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভের চেকপোস্টে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যা করা হয় ক্রসফায়ারের নামে৷ বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য টেকনাফ থানার পক্ষ থেকে একটি ‘সাজানো’ এজাহার করা হয়৷ পরে সিনহার পরিবারের পক্ষ থেকে নয়জনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা হয়৷ সেই মামলার তদন্ত করছে র‌্যাব৷ এই মামলায় টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস, এসআই লিয়াকত, নন্দ দুলাল রক্ষিত গ্রেপ্তার হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়৷ টেকনাফের অনেকেই ওসি প্রদীপের ‘ক্রসফয়ার বাণিজ্য’ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন৷ কেউ কেউ মামলাও করেন৷ আর এই মামলা অব্যাহত আছে৷

অডিও শুনুন 00:30

মামলা মামলার গতিতে চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মামলার পর মামলা
প্রদীপের বিরুদ্ধে সর্বশেষ মামলা হয়েছে টাকা না পেয়ে আমানুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক ও তার ছোট ভাই আজাদুল ইসলাম আজাদকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে৷ তাদের ছোট বোন রিনাত সুলতানা শাহিন বাদী হয়ে চট্টগ্রামের আদালতে ২ সেপ্টেম্বর মামলাটি করেছেন৷ তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০১৮ সালের ১৩ জুলাই রাতে চন্দনাইশ এলাকা থেকে আজাদকে গ্রেপ্তার করে টেকনাফ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়৷ ১৫ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয় তার বড় ভাই ফারুককে৷ এরপর আট লাখ টাকা দাবি করা হয় ছেড়ে দেয়ার জন্য৷ টাকা দিতে না পারায় ১৬ জুলাই সকালে ওসি প্রদীপ ফোন করে তাদের লাশ নিয়ে যেতে বলে৷ এদের মধ্যে ফারুক একটি মাদক মামলার আসামি ছিলেন এবং মোবাইল ফোন মেরামতের ব্যবসা করতেন৷ আর তার ছোট ভাই আজাদ বাহরাইন প্রবাসী ছিলেন৷ ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন৷

এর আগে ওইদিনই কক্সবাজার আদালতে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে আরো দুইটি হত্যা মামলা দায়ের হয়৷ কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইকং ইউনিয়নে মুছা আকবর ও সাহাব উদ্দিন নামে দুই যুবককে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে মামলা দুটি করা হয়৷ মুছা আকবর হত্যা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, টেকনাফ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ঘর পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করায় গত ২৮ মার্চ রাতে পুলিশ মুছাকে তুলে নিয়ে যায়৷ এরপর ২০ লাখ টাকা দাবি করা হলে তার পরিবার তিন লাখ টাকা দেয়৷ তারপরও ভোরে মুছাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়৷

অন্যদিকে নিহত সাহাব উদ্দীনকে ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল টেকনাফ থানা পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়৷ ক্রসফায়ার থেকে বাঁচতে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় ৷ তার পরিবার ৫০ হাজার টাকা দিতে পারে৷ পুরো টাকা না পেয়ে ২০ এপ্রিল রাতে সাহাব উদ্দীনকে ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে৷

প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও রয়েছে একটি৷ দুদক চট্টগ্রামে ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে এই  মামলা করে ২৩ আগস্ট৷ এই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে৷

অডিও শুনুন 02:42

আলাদা মনিটরিং সেল গঠন করা যেতে পারে: ডিবির সাবেক প্রধান

কেন এখন মামলা?
সিনহা হত্যার আগে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে এরকম মামলার পর মামলা হয়নি৷ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘সিনহা হত্যার তদন্ত এবং ওসি প্রদীপ ও তার সহযোগীরা গ্রেপ্তার হওয়ায় মানুষ মনে করছে সরকার তার অপকর্মের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে৷ তাই যারা প্রদীপের অপকর্মের শিকার হয়েছেন তারা সাহস পাচ্ছেন, মামলা করছেন৷’’ এখন এই মামলাগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হলে সাধারণ মানুষের মনে আস্থা আরো দৃঢ় হবে বলে তিনি মনে করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে প্রদীপ ও তার সহযোগীরা ‘ক্রসফায়ারকে’ একটি বাণিজ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলো৷’’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান সৈয়দ বজলুল করিম মনে করেন, ‘‘ওসি প্রদীপ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এখন যেসব মামলা হচ্ছে সেগুলোর তদন্ত যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় তার জন্য আলাদা মনিটরিং সেল গঠন করতে পারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য এটা প্রয়োজন৷ সবাই যাতে ন্যায়বিচার পায় তার নিশ্চয়তা দেয়া দরকার৷’’

ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো আলাদা নজরদারি ও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘‘মামলা মামলার গতিতে চলবে৷ মামলা হচ্ছে, আইনে যেভাবে আছে সেভাবেই তদন্ত হবে৷ এরজন্য আলাদা তো কিছু করার দরকার নাই৷ সব মামলারই তদন্ত হচ্ছে৷’’

আর সিনহা হত্যার পর ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে এত মামলা হচ্ছে কেন সে ব্যাপারে তার ধারণা নেই বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়