ক্যাসিনো: যা খুঁজে পেল ঢাকার গণমাধ্যমগুলো | বিশ্ব | DW | 25.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ক্যাসিনো: যা খুঁজে পেল ঢাকার গণমাধ্যমগুলো

ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িতদের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে৷ এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার৷

এছাড়া সরকারদলীয় কোন কোন নেতা পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন তা নিয়েও খবর প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো৷

দৈনিক প্রথম আলো লিখেছে, যুবলীগের অব্যাহতি পাওয়া চেয়ারম্যান ওমর ফারুকসহ সংগঠনিটর প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন নেতার ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দের আদেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক৷

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বাবু, তাঁর স্ত্রী সায়মা আফরোজ, তাঁদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সূচনা ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিং লিমিটেড, স্টার ট্রেডিং কোম্পানি, বাবু এন্টারপ্রাইজ ও সূচনা ডায়িং প্রিন্টিং উইভিং ইন্ডাস্ট্রিজের হিসাব তলব করেছে এনবিআর৷

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার, স্ত্রী পারভীন লুনা, মেয়ে নুজহাত নাদিয়া নীলা এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠান ফাইন পাওয়ার সল্যুয়েশন লিমিটেড; যুবলীগের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী শেখ সুলতানা রেখা, ছেলে আবিদ চৌধুরী, মুক্তাদির আহমেদ চৌধুরী ও ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী এবং তাঁদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান লেক ভিউ প্রোপার্টিজ ও রাও কনস্ট্রাকশন; যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, তাঁর স্ত্রী সানজিদা রহমান, তাঁদের দুটি প্রতিষ্ঠান টি-টোয়েন্টিফোর গেমিং কোম্পানি লিমিটেড ও টি-টোয়েন্টিফোর ল' ফার্ম লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব; স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থবিষয়ক সম্পাদক কে এম মাসুদুর রহমান, তাঁর স্ত্রী লুতফুর নাহার লুনা, বাবা আবুল খায়ের খান, মা রাজিয়া খান এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠান সেবা গ্রীন লাইন লিমিটেড; ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি মুরসালিক আহমেদ, তাঁর বাবা আবদুল লতিফ, মা আছিয়া বেগম এবং স্ত্রী কাওসারী আজাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এনবিআর৷

গ্রেপ্তার যারা

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে রাজধানীর ইয়াংমেনস ফকিরাপুল ক্লাবে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক (পরে বহিষ্কার করা হয়) খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে৷ এরপর যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম, মোহামেডান ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ মো. লোকমান হোসেন ভূইয়া, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, সম্রাটের সহযোগী এনামুল হক আরমান, কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল আলম (ফিরোজ), অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমানের (মিজান) ও তারেকুজ্জামান রাজীব গ্রেপ্তার হন৷

প্রথম আলো বলছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শুরুতে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের নিলেও এখন পর্যন্ত তাদের অনুসন্ধান তালিকায় প্রায় ১০০ জনের নাম এসেছে এবং প্রতিদিনই এই তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে৷

২২ জনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী ও নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনসহ ২২ জনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দুদক৷

এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন দুদকের এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান দলের প্রধান সৈয়দ ইকবাল হোসেনব ওই চিঠিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দেশে মানি লন্ডারিংসহ বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ আছে৷ এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে৷

দুই সাংসদ ছাড়াও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারেরও বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে৷

গ্রেপ্তার ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, মোহামেডান ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, তার সহযোগী এনামুল হক আরমান, কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল আলম (ফিরোজ), অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমানের (মিজান) বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে৷

এছাড়া গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় যুবলীগের বহিষ্কৃত দপ্তর সম্পাদক কাজী কাজী আনিছুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ ও লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী নাবিলা লোকমান এবং এনামুল হক এনুর সহযোগী ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কর্মচারী আবুল কালাম আজাদ, রাজধানীর কাকরাইলের জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. জাকির হোসেন ও সেগুনবাগিচার শফিক এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শফিকুল ইসলামের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়৷

আরও জোরদার হচ্ছে অভিযান

ক্যাসিনোবিরোধী চলমান অভিযান আরও জোরদার হচ্ছে জানিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক সমকাল৷

সেখানে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যারা ক্যাসিনোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের অপারেশন অব্যাহত রাখবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী৷ বেশ কয়েকজন রাঘববোয়ালকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে এবং ২৫ যুবলীগ নেতাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে৷ সবুজ সংকেত পেলে যে কোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে৷

এসআই/কেএম (প্রথম আলো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, সমকাল)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন