‘কোরাম সংকটে মিনিটে দেড় লাখ টাকার বেশি অপচয়′ | বিশ্ব | DW | 18.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

‘কোরাম সংকটে মিনিটে দেড় লাখ টাকার বেশি অপচয়'

টিআইবি বলেছে, সংসদে কোরাম সংকটের কারণে ২০১৭ সালে প্রায় সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে৷ গতবছর সংসদে মোট কার্যদিবস ছিল ৭৬ দিন, যার মধ্যে কোরাম সংকটের কারণে ৩৮ ঘণ্টা তিন মিনিট অপচয় হয়েছে৷

সেই হিসেবে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে অপচয় হয়েছে ৩০ মিনিট৷ এবং ‘অপচয়’ হওয়া সময়ের মোট আর্থিক মূল্য ৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৮ টাকা৷ প্রতি মিনিট হিসেবে অঙ্কটি দাঁড়ায় এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৮৬ টাকা৷

জার্মানির বার্লিনভিত্তিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ চ্যাপ্টার টিআইবি বলছে, চলতি দশম সংসদের সব অধিবেশন মিলিয়ে কোরাম সংকটের কারণে ১২৫ কোটি ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৪৫৫ টাকা অপচয় হয়েছে৷

অবশ্য টিআইবি একে অপচয় বলতে চায় না৷ ‘‘এই ব্যয়কে আমরা অপচয় বলছি না৷ একটা ধারণা দিতে সময়ের আর্থিক মূল্য হিসাব করা হয়েছে,’’ বলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান৷ বৃহস্পতিবার ঢাকায় ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের সদস্য সংখ্যা ৩৫০৷ এর মধ্যে ন্যূনতম ৬০ জন সদস্য উপস্থিত থাকলে কোরাম গঠিত হয়৷ তা না হলে কোরাম সংকট হয়৷

কোরাম সংকট নিয়ে প্রতিবছরই এরকম প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি৷ গতবছর তাদের প্রতিবেদন প্রকাশের পর টিআইবির বিরুদ্ধে সংসদকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসম্মানিত করার চেষ্টার অভিযোগ এনেছিলেন সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ৷

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ শুক্রবার ​​​​​​​টিআইবির বিরুদ্ধে সংসদকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাওয়ার অভিযোগ আনেন৷ তিনি বলেন, “এই রিপোর্ট প্রকাশের উদ্দেশ্যে হচ্ছে ভিন্ন, তথাকথিত গবেষণার নামে এই রিপোর্ট প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে হচ্ছে সংসদকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং গণতন্ত্রের যাত্রাকে ব্যাহত করা, এছাড়া অন্যকিছু না।’’

ফেসবুক ব্যবহারকারী মোস্তফা ফিরোজ টিআইবির প্রতিবেদন সম্পর্কে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘‘... টিআইবির মনে হয় কাজ নেই৷ নাহলে এই সংসদ নিয়ে আবার গবেষণা! ১২৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, এরশাদ বিশেষ দূতের কোনো কাজ ছাড়াই মাসে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করছেন এসব তথ্য প্রকাশ করে কী লাভ? সরকার নির্বাচিত হয়েছে যখন, তখন তার যা খুশি তা-ই করবে৷ তারা কি টিআইবির খায়, না পরে? জনগনের টাকা যদি এভাবে অপচয় করে থাকে, সেটা তারা বুঝবে৷ জনগণ তো কিছু বলছে না৷ যদি তারা ক্ষুদ্ধ হতো, তাহলে তো আন্দোলন করতো৷ কই সে রকমতো কিছু হচ্ছে না৷ চারিদিকে শান্তি আর শান্তি৷ উন্নয়ন আর উন্নয়ন৷ টিআইবির মনে হয় সহ্য হচ্ছে না!’’

প্রসঙ্গ এরশাদ

টিআইবি বলছে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের জন্য সরকারি প্রটোকল, বিশেষ ভাতা ও অন্যান্য খাত বাবদ গড়ে পাঁচ লাখ টাকা সরকারি ব্যয় হচ্ছে৷ এটি দুর্নীতি কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়ে থাকলে সেটাকে দুর্নীতি বলা যেতে পারে৷’’

গুরুত্বপূর্ণ কাজে সময় কম দেয়া হয়েছে

সাংসদদের অন্যতম প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন করা৷ টিআইবি বলছে, ২০১৭ সালে ২৪টি সরকারি বিল পাস হয়েছে৷ পাসকৃত বিলের সময় বিশ্লেষণ করে টিআইবি দেখেছে যে, বিলগুলো উত্থাপন এবং বিলের ওপর সংসদ সদস্যদের আলোচনা ও মন্ত্রীর বক্তব্যসহ সময় লেগেছে গড়ে প্রায় ৩৫ মিনিট৷ এ বিষয়ে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল বলেন, ‘‘আইন প্রণয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আর এখানেই সবচেয়ে কম সময় ব্যয় হচ্ছে৷’’

টিআইবির প্রতিবেদন বলছে, ২০১৭ সালে ভারতের লোকসভায় একটি বিল পাস করতে গড়ে ২ ঘণ্টা ২৩ মিনিট সময় লেগেছে এবং রাজ্যসভায় বিল পাস করতে গড়ে সময় লেগেছে ১ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট৷’’

জেডএইচ/এসিবি (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, টিআইবি)

এ বিষয়ে আপনার মতামত লিখতে পারেন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন