কোভ্যাকসিন দিতে চায় না ছত্তিসগড় | বিশ্ব | DW | 12.02.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

কোভ্যাকসিন দিতে চায় না ছত্তিসগড়

ভারত-বায়োটেকের টিকা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য বিতর্ক। কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে কোভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধের আবেদন জানালো ছত্তিসগড় সরকার।

করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে এবার কেন্দ্র-রাজ্য বিতর্ক শুরু হলো ভারতে। ছত্তিসগড়ের সঙ্গে পত্রযুদ্ধ শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। ছত্তিসগড় চিঠি লিখে কেন্দ্রকে জানিয়েছে, ভারত-বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাকসিন যেন তাদের রাজ্যে সরবরাহ করা না হয়। কারণ ওই টিকা নিয়ে তাদের সন্দেহ আছে। পাল্টা চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন জানিয়েছেন, কোভ্যাকসিন সম্পূর্ণ নিরাপদ। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ছত্তিসগড় টিকাকরণে অনেক পিছিয়ে আছে।

ভারতে টিকাকরণ শুরু হয়ে গেছে বেশ কিছুদিন হলো। প্রাথমিক ভাবে দুইটি টিকা দেওয়া হচ্ছে প্রথম সারির করোনাযোদ্ধাদের। একটি অক্সফোর্ড এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট যে ভ্যাকসিন তৈরি করছে। অন্যটি হলো সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি কোভ্যাকসিন। ভারত-বায়োটেক এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। প্রথম থেকেই কোভ্যাকসিন নিয়ে বিতর্ক। অভিযোগ, তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার আগেই এই ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভারত-বায়োটেকের টিকা সরবরাহ করা হলেও অনেকেই সেই ভ্যাকসিন নিতে চাইছেন না।

তবে এই প্রথম কোনো রাজ্য চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে কোভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ করার আবেদন জানালো। ছত্তিসগড়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী টি এস দেও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে একথা জানিয়েছেন। চিঠিটি দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা টুইটারেও দিয়ে দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, মূলত দুইটি সমস্যা আছে টিকাটি নিয়ে। এক, তার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হয়নি। ফলে টিকাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। দুই, টিকাটির গায়ে এক্সপেয়ারি ডেট বা কতদিন টিকাটি কার্যকর থাকবে তা লেখা নেই।

চিঠির উত্তর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। তিনি লিখেছেন, কোভ্যাক্সিন সম্পূর্ণ নিরাপদ। যদিও কীসের ভিত্তিতে কোভ্যাক্সিনকে তিনি নিরাপদ বলছেন, তার ব্যাখ্যা দেননি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, টিকার গায়ে ম্যানুফ্যাকচারিং ডেটও লেখা আছে। অর্থাৎ, উৎপাদনের তারিখ বলা আছে টিকার গায়ে। এখানেই থেমে থাকেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। উল্টে ছত্তিসগড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ছত্তিসগড় অনেকটাই পিছিয়ে আছে। সেখানে এখনো পর্যন্ত মাত্র নয় দশমিক পাঁচ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন। অর্থাৎ, দুই লাখ নয় হাজার ৫১২ জন। অন্য রাজ্যগুলিতে টিকাকরণ অনেক দ্রুত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ছত্তিসগড়ে এখন কংগ্রেস ক্ষমতায়। সে কারণেই কেন্দ্র-রাজ্য এই সংঘাত শুরু হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা। চিকিৎসকদের মধ্যেও কোভ্যাক্সিন নিয়ে দ্বিমত আছে। চিকিৎসক পার্থপ্রতিম বোস ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছিলেন, দুইটি ভ্যাকসিনই ভালো। তবে তিনি নিজে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন নিয়েছেন। চিকিৎসক সাত্যকি হালদার ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, কোভ্যাকসিন নিয়ে নানা বিতর্ক আছে। তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল না হলে সেই টিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। সে কারণেই বহু চিকিৎসকও কোভ্যাকসিন নিতে চাইছেন না।

এসজি/জিএইচ (পিটিআই)