কোন জাতীয়তাবাদে আজকের বাংলাদেশ? | বিশ্ব | DW | 13.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

কোন জাতীয়তাবাদে আজকের বাংলাদেশ?

ডনাল্ড ট্রাম্পে, বরিস জনসনে, নরেন্দ্র মোদীতে উগ্র জাতীয়তাবাদের ধ্বনি শুনে চলেছে যারা – সেই শ্রোতামণ্ডলীতে বাংলাদেশের বড় এক জনগোষ্ঠীও আছে৷ বাঙালির নিজের দেশের পরিস্থিতি আসলে কেমন?

ঢাকার রাজনীতি এখন একমুখী৷ রাজপথের বিরোধীদল বলতে নিজেদের যারা পছন্দ করছে, তাদের এমপিরা পর্যন্ত সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুকম্পার প্রশংসা করছেন৷ কেউবা মন্ত্রীর কাছে জমির জন্য তদ্বির করছেন৷ সবটা মিলে নিরঙ্কুশ একটা সময় পার করছে সরকারি দল৷ আগের শতকের সত্তরে-একাত্তরে কেবল এমন একটা সময়ই পেয়েছিল আওয়ামী লীগ৷ তখন আসলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার বীজতলা গড়ার কারিগর হিসেবে সুফল পেয়েছে দলটি৷ সেই অবস্থা ও অবস্থান কোনোটিই আর নেই৷ আওয়ামী লীগ তখন ছিল রাজপথে, আর এখন ক্ষমতার মসনদে৷ তা ধরে রাখতে যত রকমের কৌশল দরকার, তার সবকিছু দিয়েই প্রতিপক্ষকে পর্যদুস্ত রাখায় সফল হয়েছে তারা৷ এতে জাতীয়তাবাদের কোনো ‘জিগির' দরকার পড়ছে না তাদের৷ বরং বিরোধীরাই ধর্মীয় চেতনাবহ ‘বাংলাদেশি' জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ভারত বিরোধিতার যে আফিম দিয়ে নিজ দেশের জনতাকে বশ করতে চেয়েছে, সাড়ে চার দশকের মাথায় এসে সেই সূত্র এখন আর ততটা কাজে আসছে না৷ তাহলে কী জাতীয়তাবাদের চেতনাই বাংলাদেশের মানুষের মাঝে আর নেই? এমন প্রশ্নে ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. শরীফ উদ্দিন আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি৷ বাংলাদেশের জন্য সবকিছু করতে পারি৷ এটা একটা ফ্যাক্টর৷ এটা আমাদের সবার মধ্যে আছে৷ কিন্তু রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে এটা কোনো কাজ করছে না৷ তবে সংস্কৃতির জায়গা থেকে, আবেগের ক্ষেত্রে, গভীরতার ক্ষেত্রে এখনো কিন্তু এটা খুব কাজ করে৷''

অডিও শুনুন 04:25

দেশের প্রতি ভালোবাসা রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে না: ড. শরীফ উদ্দিন আহমেদ

সময়ের বদলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদের স্লোগান আগের মতো আর প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক৷ ড. শরীফ বলছেন, ‘এখন এটার উপযোগিতা আর নেই৷ আমাদের দেশে যদি কোনো রকম সমস্যাও আসে সেটা ভারতভিত্তিক সমস্যা হতে পারে৷ কিন্তু আমাদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খুবই ভালো৷ তাই ভারতও এখন কিছু করবে না৷ আমার মনে হয় না যে আসামের লোক ভাগিয়ে আমাদের এখানে পাঠিয়ে দেবে৷''

আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক বর্তমান৷ অকেজো অস্ত্র বুঝে বিএনপিও এখন আর আগের মতো ভারতবিরোধিতায় উচ্চকণ্ঠ নয়৷ কিন্তু সমাজমাধ্যমে চোখ রাখলে দেখা যায় ক্রিকেটে কিংবা চন্দ্রাভিযানে ভারতের ব্যর্থতায় বাংলাদেশের অনেকেই উৎফুল্ল৷ তবে একে জনমতের বড় কোনো প্রতিফলন মানতে রাজি নন লেখক ও গবেষক আফসান চৌধুরী৷ ডয়েচে ভেলেকে তিনি বলছেন, ‘‘সোশ্যাল মিডিয়ায় যা হচ্ছে এটা কোনো বড় বিষয় না৷ মানুষের যখন যা ইচ্ছা হয় তাই লিখে দেয়৷ এজন্য মনে হয় সবাই এর মধ্যে জড়িয়ে গেছে৷ আসলে দেশের বড় জনসংখ্যা এসব নিয়ে মাথা ঘামায় না৷ আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি অংশ যারা ফেসবুকে সক্রিয় তারাই এটা করে৷ আমাদের দেশের কয়জন মানুষ ফেসবুকে আছে? আমাদের দেশের কয়জন মানুষের কাছে ইন্টারনেট আছে? আসলে এখনো সব জায়গায় ইন্টারনেট যায়নি৷ সাধারণ মানুষ কী ভারত নিয়ে চিন্তা করে?''

অডিও শুনুন 07:25

আমাদের দেশে কোনো অর্থনৈতিক আন্দোলন নেই: গবেষক আফসান চৌধুরী

ফ্যাসিবাদের শঙ্কা আর অর্থনৈতিক বাস্তবতা

বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা নিয়ে আস্থার সংকট থেকেই যাচ্ছে৷ ভিন্নমতের মানুষেরা খুব যে স্বস্তিতে থাকেন তা নয়৷ ধর্মীয় যে কোনো বিষয়ে আপোষকামী মনোভাব রয়েছে সরকারের মধ্যে৷ নানা কারণে দেশে তৈরি হয়েছে ভয়ের সংস্কৃতি৷ স্বেচ্ছা-নিয়ন্ত্রণের পথ বেছে নিয়েছে গণমাধ্যমগুলো৷ ‘ক্রসফায়ার', ‘বন্দুকযুদ্ধ', ‘গুম'-এর অবসান হচ্ছে না কোনোভাবেই৷ ভারতের পার্লামেন্টে সেই দেশের রাজনীতিবিদ মহুয়া মৈত্রের দেয়া ভাষণমতে, এসব কিন্তু ফ্যাসিবাদের লক্ষণ৷ বাংলাদেশ কী তবে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র? সহজেই এর উত্তর মেলানো যাবে না৷ কারণ লক্ষণগুলোর মাত্রা আগে মেলাতে হবে৷ টানা তিন দফা ক্ষমতার থাকার কারণে সরকারি দলের মধ্যে কিছুটা কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাব থাকলেও নানা বিষয়ে জনমতের চাপে সরকার নতি স্বীকারে বাধ্য হয়৷ বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার অনেক আলোচনা-সমালোচনা আমলে নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়েছে৷ সরকারি দলের অনেক নেতা প্রায়ই বলে থাকেন তারা উন্নয়নের গতি বাড়াতে চান৷ অর্থনীতির চাকা সচল থাকলে জনতা রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে অতটা ভাবে না৷ তাই অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হলে অনেক সমস্যাই কেটে যাবে বলে মনে করেন লেখক ও গবেষক আফসান চৌধুরী৷ তিনি বলছেন, ‘‘আমাদের দেশে কোনো অর্থনৈতিক আন্দোলন নেই৷ ভারতের অবস্থাও একই৷ বুঝতে হবে এদেশের অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উপরে উঠাবার ক্ষমতা না থাকলে মানুষ রাজনীতির স্লোগান তোলে৷ এটা দক্ষিণ এশিয়ারই বড় সমস্যা৷''

তায়েব মিল্লাত হোসেনের এই প্রতিবেদনটি আপনার কেমন লাগলো? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন