কোনো কারণ ছাড়াই ১৫ ঘণ্টা বন্ধ ছিল আপওয়ার্কডটকম | বিশ্ব | DW | 09.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

কোনো কারণ ছাড়াই ১৫ ঘণ্টা বন্ধ ছিল আপওয়ার্কডটকম

অনলাইনে ফ্রিল্যান্সারদের মার্কেট প্লেস ‘আপওয়ার্কডটকম' প্রায় ১৫ ঘণ্টা বাংলাদেশে বন্ধ ছিল৷ বন্ধের কারণ বলতে পারছেন না কেউ৷এ কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার এবং ফ্রিল্যান্সারদের কাজ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে৷

বাংলাদেশে যাঁরা অনলাইনে ফ্রিলান্স আউট সোর্সিংয়ের কাজ করেন, তাঁদের জন্য বড় একটি মার্কেট প্লেস আপওয়ার্কডটকম  (www.upwork.com)৷  ২০০৩ সাল থেকে এই অনলাইন মার্কেট প্লেসটি কাজ করছে৷ এখানে রেজিস্টার্ড ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা প্রায় এক লাখ৷ কিন্তু বুধবার রাত ৯টা থেকে বাংলাদেশ থেকে এই অনলাইন মার্কেট প্লেসটিতে আর ঢোকা যাচ্ছিল না৷ ওয়েব অ্যাড্রেস থেকে সাইটটি পাওয়া যাচ্ছিল না৷  বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে আবার সাইটটি বাংলাদেশে খুলে দেয়া হয়৷

আপওয়ার্কের বালাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাইদুর মামুন খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ঠিক কখন বন্ধ করে দেয়া হয় আমরা জানি না৷ তবে বুধবার রাত ৯টার দিকে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে৷ আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে আইসিটি ডিভিশনকে জানালে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর আবার সাইটটি বাংলাদেশে চালু হয়৷ এটা চালু করতে জুনায়েদ আহমেদ পলক (আইসিটি প্রতিমন্ত্রী) খুব সহায়তা করেছেন৷ আইসিটি বিভাগও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে৷ কিন্তু কী কারণে সাইটটি বাংলাদেশে বন্ধ হয়েছিল, তা আমাদের জানানো হয়নি৷''

তিনি বলেন, ‘‘এর ফলে যা হয়েছে, ওই সময়ে যাঁদের কাজ ডেলিভারি দেয়ার কথা ছিল, তাঁরা দিতে পারেননি৷ নতুন অর্ডার নিতে পারেননি৷ আর যাঁদের ঘণ্টায় ঘণ্টায় কাজ ডেলিভারি দিতে হয় তাঁরা বেকার ছিলেন৷ কারো হয়তো কাজের জন্য ইন্টারভিউ ছিল, তাঁরা সেটা করতে পারেননি৷''

অডিও শুনুন 04:33

কী কারণে সাইটটি বন্ধ হয়েছিল তা জানানো হয়নি: সাইদুর মামুন খান

প্রথম ক্লায়েন্টদের কাছ থেকেই বাংলাদেশের ব্যাপারে অভিযোগ আসে৷ তাঁরা বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের কাছ থেকে কাজ পাচ্ছিনে না বা সময়মতো রেসপন্স পাচ্ছিলেন না৷ এরপর আপওয়ার্কের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের যত ক্লায়েন্ট আছে, তাঁদের ই-মেলের মাধ্যমে পরিস্থিতি জানানো হয়৷

কেন এই অনলাইন মার্কেট প্লেসটি বাংলাদেশে বন্ধ করা হয়েছিল? বিটিআরসি'র সিনিয়র সহকারি পরিচালক (জনসংযোগ) জাকির হোসেন খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা বিটিআরসির পক্ষ থেকে বন্ধ করা হয়নি৷ খোঁজ নিয়ে জেনেছি আমাদের কাছে বন্ধের কোনো নির্দেশনা ছিল না৷ বন্ধ হয়ে থাকলে আর কেউ করেছে কিনা আমাদের জানা নেই৷''

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)-র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের কাছে আপওয়ার্কের গেটওয়ে বা কোনো লিংক বন্ধের নির্দেশনা ছিল না৷ আমরা বন্ধ করিওনি৷ এখন আমাদের মাধ্যম ছাড়াও বন্ধ করা যায়৷''

অডিও শুনুন 00:59

এখন আমাদের ছাড়াও বন্ধ করা যায়: ইমদাদুল হক

তিনি বলেন, ‘‘এখন ন্যাশনাল টেলিকম্যুনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) সবগুলো আইআইজিতে (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) তাদের নিজস্ব মনিটরিং ডিভাইস বসিয়েছে৷ তারা চাইলে এখন একটি কমান্ডেই সবকিছু বন্ধ করে দিতে পারে৷ তারা মনিটর করে৷ আমাদের প্রয়োজন হয় না৷ তবে তারা আপওয়ার্ক বন্ধ করেছে কিনা তা আমার জানা নেই৷''

আপওয়ার্কের রেজিস্ট্রার্ড ফ্রিল্যান্সার ৬০ হাজারের মতো৷ আপওয়ার্কের মার্কেট প্লেস ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিং করেন এরকম একজন তরুণ হলেন আমীন কবির৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যদি টাকার অংকে ধরি, তাহলে হয়তো এই কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার ক্ষতি তেমন বেশি না৷ কেউ হয়ত এই সময়ে কাজ পেতেন, পাননি৷ কেউ হয়তো কাজ সময়মতো ডেলিভারি ডিতে পারেননি৷ আমাদের ইমেজের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে৷ এমনিতেই আমাদের ইমেজ সমস্যা আছে৷ অনেক অদক্ষ ফ্রিল্যান্সার আমাদের সমস্যা তৈরি করেছে৷ আমাদের কাজ পেতে অনেক কষ্ট হয়৷ এখন নতুন করে এই ঘটনা আমাদের আরো ইমেজ সংকটে ফেলবে৷ আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাজ করি৷ আর যেসব প্রতিষ্ঠানের কাজ করি, তার মধ্যে অনেক বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানও আছে৷ তারা জানল আমাদের দেশে এরকম সাইটও যে-কোনো সময় বন্ধ হয়ে যায়৷ তাই এখন আর তারা আমাদের কাজ দিতে ভরসা পাবে না৷ আস্থা রাখতে পারবে না৷ তারা মনে করবে, হাঠাৎ যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমাদের পক্ষে সঠিক সময় কাজ ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হবে না৷ তাতে তারাও বিপর্যয়ে পড়বেন৷''

অডিও শুনুন 04:33

ইমেজের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে: আমীন কবির

তিনি বলেন, ‘‘একটি কাজের ভিন্ন ভিন্ন অংশ ভিন্ন ভিন্ন দেশের ফ্রিল্যান্সাররা করেন৷ যদি এমন হয়, টানা ৫-৭ দিন সাইট এখানে বন্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশে আউটসোর্সিংয়ের কাজ দিতে আর কেউ আগ্রহ দেখাবে না৷ তরুণ সমাজের একটি অংশ বেকার হয়ে পড়বে৷ বিশাল আর্থিক ক্ষতি হবে৷

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা জেনেছি, পর্ন সাইট বন্ধ করতে গিয়ে এটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল৷ কিন্তু এইসব কাজ যদি এত অদক্ষভাবে করা হয়, তাহলে আরো বিপর্যয় হতে পারে৷ আমার মনে হয়, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ আরো দক্ষ এবং প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন লোকজনকে দেয়া উচিত৷ সরকার দেশের জন্য ক্ষতিকর, নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন কোনো সাইট বা লিংক বন্ধ করতেই পারে৷ কিন্তু একটা করতে গিয়ে যেন আরেকটার ক্ষতি না হয়৷ আর ভবিষ্যতে যাতে এরকম আর না হয় সে ব্যাপারে শুধু সতর্কতা নয়, নিশ্চয়তা দিতে হবে৷''

অডিও শুনুন 01:12

বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজারের মত ডেডিকেটেড ফ্রিল্যান্সার আছেন: ফাহিম মাশরুর

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস(বেসিস)-এর সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজারের মতো ডেডিকেটেড ফ্রিল্যান্সার আছেন৷ তাঁরা বছরে ৪০ মিলিয়ন ডলারের মতো বৈদেশিক মূদ্রা আয় করেন৷ আপওয়ার্কের মতো মার্কেট প্লেস ছোট ছোট ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি বড় জায়গা৷ এটা যদি  বাংলাদেশে হঠাৎ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বড় ক্ষতি৷ এই ক্ষতিটা এখন বড় আকারে দেখা না গেলেও দীর্ঘ মেয়াদে অনেক বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা দেবে৷''

গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা ভাষায় প্রথম কমিউনিটি ব্লগ সামহোয়ারইন ব্লগও একইভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন