কে ছিলেন বেটোফেন? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 05.09.2008
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

কে ছিলেন বেটোফেন?

এলোমেলো চুল, চেপে রাখা পাতলা ঠোট, দৃষ্টি সুদূরে৷ বিশ্বখ্যাত সংগীতকার লুডভিগ ফান বেটোফেনের এই ছবিটিকেই লোকে চেনে৷ পোস্টকার্ড, টিশার্ট এমনকি ছাতাতেও দেখা যায় তাঁর এই অবয়ব৷ বহু ছায়াছবি নির্মিত হয়েছে বেটোফেনকে নিয়ে ৷

লুডভিগ ফান বেটোফেন

লুডভিগ ফান বেটোফেন

লেখা হয়েছে অসংখ্য বই৷ কিন্তু কে ছিলেন এই বেটোফেন?

লুডভিগ ফান বেটোফেনের জন্ম ১৭৭০ সালের ১৭ই ডিসেম্বর৷ এমন এক সময়ে যখন মানুষের কাছে সংগীতের খুব একটা গুরুত্ব ছিলনা৷ একদিকে হয়তো চলছে তাস খেলা কিংবা গল্পগুজবে মেতে আছে লোকে নেপথ্যে ভেসে আসছে হালকা কোনো গান৷ দৃশ্যটা ছিল অনেকটা এই রকম৷ কিন্তু বেটোফেন চেয়েছিলেন সংগীতকে মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে৷ সৃষ্টি করেছেন তিনি সোনাটা, সিম্ফনি, বাজিয়েছেন পিয়ানো অর্কেস্ট্রা৷ সংগীতের এই নব্য প্রকাশ তত্‌কালীন ধ্রুপদী সংগীতের কেন্দ্র ভিয়েনা শহরে অনেকেই পছন্দ করেননি৷ তবে কেউ কেউ আবার উত্‌সাহিতও হয়েছেন৷

Ludwig van Beethoven

বেটোফেনের জন্ম ১৭৭০ সালের ১৭ই ডিসেম্বর

বেটোফেনের জন্মস্থান বন শহরের জ্যাজ সংগীতের পিয়ানোবাদক মারকুস শিংকেল বলেন, বেটোফেনই ছিলেন প্রথম সংগীতকার যিনি কারো নির্দেশে সংগীত রচনা করেননি৷ রাজা রাজড়ার প্রভাব থেকে মুক্ত প্রথম স্বাধীন শিল্পী তিনি৷ হাইডেন বা মোত্‌সারটের মত গির্জা এবং রাজাদের জন্য সংগীত রচনা করেননি বেটোফেন৷ নিজের আবেগ ও অনুভূতিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি৷

মারকুস শিংকেল বলেন, সমসাময়িককালের অনেক সংগীত স্রষ্টার মত বেটোফেনও তাত্‌ক্ষনিকভাবে সংগীত রচনায় দক্ষ ছিলেন৷ স্বরলিপি ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন অনেক বিখ্যাত সংগীত৷যেমনটি অনেক জ্যাজ সংগীতকারও করে থাকেন৷

বেটোফেনের শৈশব কেটেছে কঠোর অনুশীলনের মধ্য দিয়ে৷ বাবা চেয়েছিলেন মোত্‌সারটের মতই এক অবাক করা শিশু হবেন লুডভিগ৷ তাই তাকে শৈশবেই পিয়ানো বাজানো শেখা শুরু করতে হয়৷ জনসমক্ষে প্রথম পিয়ানো বাজান তিনি ৭ বছর বয়সে৷ ১৭ বছর বয়সে প্রিয় মাকে হারান লুডভিগ৷ মদাসক্ত বাবার সঙ্গে সম্পর্কটা ছিল অনেকটাই শিথিল৷

বেটোফেন জীবনের অনেকটা সময়ই কাটিয়েছেন ভিয়েনায়৷ সেখানেই পেয়েছেন প্রভূত খ্যাতি ও সম্মান৷ সেই সাথে আর্থিক স্বাচ্ছল্যও ৷ সংগীতানুরাগী কিছু অভিজাত ব্যক্তির নজরে পড়ে বেটোফেনের বিশাল প্রতিভা৷ তাঁরা তাঁকে বিভিন্নভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে আসেন৷ ১৮১০ সালে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছান বেটোফেন৷ অন্যদিকে দীর্ঘ দিনের শ্রুতিজনিত সমস্যাটা এই সময়ে আরো বেড়ে যায় তাঁর৷ ৯ বছর পরে একেবারেই বধির হয়ে পড়েন বেটোফেন৷ কিন্তু তবু সংগীত রচনা থেকে বিরত থাকেননি তিনি৷ ১৮২৪ সালে বিখ্যাত নবম সিম্ফনি শেষ করেন বেটোফেন৷

১৮২৬ সালের মার্চ মাসে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন সংগীত জগতের কালজয়ী এই ব্যক্তিত্ব৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন