‘কোন দলই দেশের মানুষের ভালো করার চেষ্টা করেনা’ | মুক্তিযুদ্ধ | DW | 10.08.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধ

‘কোন দলই দেশের মানুষের ভালো করার চেষ্টা করেনা’

একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একজন আমিনুর রহমান ফরিদ৷ দেশের মধ্যেই সেনা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে পাকবাহিনীর মোকাবিলা করেন তিনি৷ স্বাধীনতা সংগ্রামের চল্লিশ বছরে খানিকটা হতাশার কথা শোনালেন ফরিদ৷

A Bangladeshi girl has her head covered with national flag as she holds a rose during Independence day celebrations in Dhaka, Bangladesh, Thursday, March 26, 2009. Bangladeshis celebrated 38 years of independence Thursday amid tight security as tens of thousands of people visited a national memorial outside the capital to mark the independence from Pakistan in which millions of people died. (AP Photo/Pavel Rahman)

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আমিনুর রহমান ফরিদ

অস্ত্র যখন হকিস্টিক

বাংলাদেশের ফরিদপুরের বাসিন্দা আমিনুর রহমান ফরিদ৷ একাত্তরে শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি৷ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান'এর সাতই মার্চের ভাষণের পর মুক্তি সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হন ফরিদরা৷ দলবেঁধে সেনা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ফরিদপুরেই৷ সাত-আটশ ছেলেমেয়ে ছিল সেই দলে৷ শুরুতে তাদের অস্ত্র ছিলনা৷ একদিন ফরিদ তাই হকিস্টিক নিয়েই লড়তে গিয়েছিলেন পাক সেনাদের বিরুদ্ধে৷ তিনি জানান, ‘‘তখন কোনকিছু বিবেচনা না করেই পাক বাহিনীর মোকাবিলা করতে চেয়েছিলাম৷ আমাদের মাথায় ছিল না, সশস্ত্র পাকসেনাদের শুধু হকিস্টিক দিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়৷''

ভারতে নয় দেশেই প্রশিক্ষণ

মুরব্বিদের বাধার কারণে সেদিন হকিস্টিক নিয়ে পাকবাহিনীর মোকাবিলা করতে পারেননি ফরিদরা৷ তাই বলে থেমে যায়নি তাঁদের সংগ্রাম৷ বরং সিদ্ধান্ত নেন, বন্ধুরাসহ ভারতে যাবেন, সেখানে গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে প্রশিক্ষণ নেবেন, সংগ্রহ করবেন অস্ত্র৷ এরপর ঝাঁপিয়ে পড়বেন স্বাধীনতার লড়াইয়ে৷ এই চিন্তা নিয়ে একাত্তরে ফরিদরা যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, তখন দেখা হয় ওবায়দুর রহমান'এর সঙ্গে৷ তিনি ফরিদদেরকে দেশের মধ্যে থেকেই যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিলেন৷ এই পরামর্শের পর ফরিদরা ভারতে না গিয়ে ফরিদপুরেই অস্ত্র সংগ্রহ করেন এবং যুদ্ধে অংশ নেন৷

বারোখাদা সেতু

একাত্তরে বেশ কয়েকবার পাক সেনাদের মুখোমুখি হন ফরিদরা৷ সেপ্টেম্বরের একযুদ্ধে বারোখাদা সেতু পাহারারত একদল পাকসেনাকে হত্যা করেন তাঁরা৷ সেদিনের কথা আজও পরিষ্কার মনে আছে ফরিদের৷ তিনি বলেন, ‘‘কয়েকজন পাক সেনা সেতুতে বসে ধুমপান করছিল৷ আমরা তাদের সিগারেটের আগুন লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ি৷''

Sheikh Mujibur Rahman Flash-Galerie

শেখ মুজিবের ডাকেই সংগ্রামে যোগ দিয়েছিলেন তিনি সেদিন

কমলপুরে যুদ্ধ

এভাবে আসল ডিসেম্বর মাস৷ চূড়ান্ত লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিসেনারা৷ ফরিদরা তখন ফরিদপুরের আশেপাশে শত্রু নিধনে ব্যস্ত৷ নয় ডিসেম্বরের কথা৷ খবর এলো, যশোর থেকে ফরিদপুরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে পাক সেনাদের একটি বড় দল৷ এই খবর পেয়ে, কমলপুর এলাকায় ফরিদরা অবস্থান নিলেন৷ শুরু হলো যুদ্ধ৷ সে লড়াইয়ে ১১ মুক্তিসেনা শহীদ হন৷ প্রতিপক্ষ পাকবাহিনী'র পঞ্চাশজন সেনাও নিহত হয় সেই যুদ্ধে৷

স্বাধীন বাংলাদেশ

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ফরিদ ফিরে যান কলেজে৷ শিক্ষাজীবন শেষে খেলাধুলায় মনোযোগী হন তিনি৷ বিভিন্ন সংবাদপত্রের ফরিদপুর প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা৷ বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘যে আশা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলাম তা এখনো পূরণ হয়নি৷ রাজনীতিতে আমরা বারবার হেরে যাচ্ছি৷ আমি মনে করি, কোন দলই দেশের মানুষের ভালো করার চেষ্টা করেনা৷ আর কেউ যদি চেষ্টা করে তবে অন্যরা তাতে বাধা প্রদান করে৷''

বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের প্রশংসা করেন ফরিদ৷ তাঁর মতে, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণ করছে৷ দেশের উন্নতিতেও আশানুরূপ অবদান রাখছে৷ এই উন্নতিকে আরো এগিয়ে নিতে গেলে প্রয়োজন সকল পক্ষের সহায়তা৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন