কোনোভাবেই শরণার্থী নিতে রাজি নয় হাঙ্গেরি | বিশ্ব | DW | 09.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

হাঙ্গেরি

কোনোভাবেই শরণার্থী নিতে রাজি নয় হাঙ্গেরি

জার্মানির ‘বিল্ড' পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বান বলেছেন তাঁর দেশ ইইউ'র কোটা অনুযায়ী উদ্বাস্তু নিতে চায় না, কারণ, উদ্বাস্তুরা ‘মুসলিম হামলাকারী'৷

পপুলিস্ট নেতা অর্বান তাঁর কট্টর উদ্বাস্তুবিরোধী মনোভাবের জন্য পরিচিত৷ বিল্ড পত্রিকায় সোমবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে অর্বান বলেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতি হাঙ্গেরির ‘সার্বভৌমত্ব ও সাংস্কৃতিক সত্তার' জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷

‘‘আমরা এসব মানুষকে মুসলিম উদ্বাস্তু হিসেবে গণ্য করি না৷ আমরা ওদের মুসলিম হামলাকারী হিসেবে দেখি,'' বলেন অর্বান৷

সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন যে, সিরীয় উদ্বাস্তুরা প্রাণের আশঙ্কায় দেশত্যাগ করছেন না৷ হাজার হাজার অভিবাসী যে হাঙ্গেরির মতো অপেক্ষাকৃত কম সমৃদ্ধিশালী ‘কিন্তু স্থিতিশীল' দেশের মধ্য দিয়ে যাবার সময় জার্মানির মতো পশ্চিম ইউরোপের অপেক্ষাকৃত সমৃদ্ধিশালী দেশগুলিতে যাবার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন – এ থেকে প্রমাণ হয় যে, তাদের উদ্বাস্তু হিসেবে গণ্য করা চলে না, বরং তারা ‘‘অর্থনৈতিক অভিবাসী, যারা উন্নততর জীবনের খোঁজ করছেন৷''

মুসলিম-প্রধান দেশগুলি থেকে আগত মানুষদের তাঁর দেশে নেওয়া প্রসঙ্গে অর্বান বলেন যে, হাঙ্গেরি ‘বাধ্যতামূলকভাবে' তা করতে রাজি নয়৷

অবার্নের মতে, ‘‘বেশি মুসলিম এলে, তা অনিবার্যভাবে দ্বিবিধ সমাজ সৃষ্টি করবে বলে আমাদের ধারণা, কেননা, খ্রিষ্টান ও মুসলিম সমাজ কোনোদিন এক হতে পারবে না৷''

তিনি মনে করেন, ‘‘বহুসংস্কৃতি একটা ভ্রম ছাড়া আর কিছু নয়৷''

ভিডিও দেখুন 01:45
এখন লাইভ
01:45 মিনিট

Orban lays into Merkel's refugee policy

জার্মানি ‘অভিবাসীদের চেয়েছে'

যে উদ্বাস্তু পুনর্বাসন কোটা নিয়ে বুদাপেস্ট আর ব্রাসেলসের মধ্যে বিরোধ, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস (ইসিজে)-তে সেই কোটা চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি ব্যর্থ হয়েছে৷

জার্মানি যেখানে লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু ও অভিবাসী নিচ্ছে, সেখানে হাঙ্গেরি কাউকে নিচ্ছে না, এটা ন্যায্য কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে অর্বান বলেন, ‘‘তফাৎটা হলো এই যে, তোমরা অভিবাসীদের চেয়েছিলে, আমরা নয়৷''

হাঙ্গেরীয় কর্মকর্তারা ইসিজে-র রায়কে ‘রাজনৈতিক' বলে প্রত্যাখ্যান করেন৷ এমনকি হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিজার্তো মন্তব্য করেন যে, ‘‘রাজনীতি ইউরোপীয় আইনকানুন ও মূল্যবোধকে ধর্ষণ করেছে৷''

হাঙ্গেরি যে ইইউ-এর একমাত্র দেশ, যার সমালোচনা করা হয়েছে, যদিও উদ্বাস্তু পুনর্বাসন কোটা ‘‘বিশটির বেশি দেশে কার্যকরি করা হয়নি,'' অর্বান তাকে ‘দু'মুখো বিচার' বলে অভিহিত করেন৷

ইউরোপীয় কমিশনের সর্বাধুনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইইউ-এর মাত্র দু'টি সদস্যদেশ কোটা অনুযায়ী কোনো উদ্বাস্তু নিতে অস্বীকার করেছে – হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ড৷ স্লোভাকিয়া, অস্ট্রিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র কোটা অনুসারে সামান্য কিছু উদ্বাস্তু নিয়েছে৷ তবে প্রতিটি দেশ কোটা অনুযায়ী যে পরিমাণ উদ্বাস্তু নেবার ‘আইনগত প্রতিশ্রুতি' দিয়েছে, মোট ২২টি দেশ তার চেয়ে কম উদ্বাস্তু নিয়েছে৷ এমনকি জার্মানিও তার কোটা পূরণ করতে পারেনি৷

হাঙ্গেরিতে আগামী এপ্রিল মাসে সাধারণ নির্বাচন৷ তার আগে অর্বান তাঁর অভিবাসনবিরোধী অবস্থান আরো জোরালোভাবে প্রচার করছেন৷ গত শুক্রবার তিনি বাভেরিয়ার খ্রিষ্টীয় সামাজিক ইউনিয়ন বা সিএসইউ দলের একটি সম্মেলনে আবির্ভূত হন৷ সিএসইউ দলকে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের ‘সহোদরা' বলা হয়ে থাকে৷ সিএসইউ দল আপাতত তাদের নিজেদের অভিবাসন সংক্রান্ত মনোভাব প্রচার করতে সচেষ্ট৷

রেবেকা স্টাউডেনমায়ার/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও