কেমন নারী সাংসদ চায় আওয়ামী লীগ? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 20.01.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

কেমন নারী সাংসদ চায় আওয়ামী লীগ?

একাদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়স পেতে ফরম কিনেছেন ১৫১০ জন৷ ফরম কিনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বিপুল সংখ্যক অভিনেত্রী, মডেল ও চলচ্চিত্র তারকা৷ প্রশ্ন উঠছে আওয়ামী লীগ কোন যোগ্যতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে?

এবার ১৫১০ নারী মনোয়ন প্রত্যাশীর কাছ থেকে ফরম বিক্রি করে আওয়ামী লীগ মোট আয় করেছে চার কোটি ৫৩ লাখ টাকা৷ প্রতিটি ফরম বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার টাকা করে৷ যেসব নারীরা সরসরি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং একসময় সংসদ সদস্যও ছিলেন, তারা তো বটেই, নবীন এবং সরাসরি রাজনীতেত যুক্ত না থাকা সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত অনেক মুখও মনোনয়নপত্র কিনেছেন৷

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, নাট্যাভিনেত্রী, দলের জন্য অবদান রাখা প্রয়াত নেতাদের সহধর্মিণী-সন্তান ছাড়াও তৃতীয় লিঙ্গের কয়েকজনও কিনেছেন ফরম৷ পরিচিত ও স্বল্প পরিচিত মিলিয়ে কমপক্ষে ১০০ জন অভিনেত্রী, মডেল এবার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন চাইছেন৷ এমনকি আগে বিএনপি করতেন এমন কেউ কেউও এখন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চান৷

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে এককভাবে ২৫৭টি আসন পেয়েছে৷ এই সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে ৩০ জানুয়ারি৷ এরপর তারা নারী সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন

১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করবে৷ এটা সরাসরি নির্বাচন নয়। বর্তমানে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে৷ সংসদের দলের পাওয়া আসনের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত এই নারী আসনে রাজনৈতিক দল বা জোটগুলো তাদের একক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়৷

সংরক্ষিত ৫০ সংখ্যাকে দেশের মোট নির্বাচনি আসন ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যাবে তাকে দলের জয় করা আসন দিয়ে গুণ করলেই পাওয়া যায় সে দলের নারী সদস্যের সংখ্যা৷ উহাদরণস্বরূপ, জাতীয় পার্টি সংসদে ২২টি আসন পেয়েছে৷ এই হিসাবে এ দলটির ৪টি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পাওয়ার কথা৷ ৫০/৩০০ = ০.১৬৬৭৷ এরপর ২২ X০.১৬৬৭= ৩.৬৭৷

এই হিসাবে, আওয়ামী লীগের এককভাবে ৪৩ জন নারী সংসদ সদস্য পাওয়ার কথা৷ অন্য কোনো দল বা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হলে এই সংখ্যা বেড়ে যাবে৷ বিএনপি ও তাদের মিত্র গণফোরাম ৮টি আসনে বিজয়ী হয়ে সংরক্ষিত আসনে একজন মহিলা সংসদ সদস্য পাওয়ার কথা৷ কিন্তু এখনো তাঁরা শপথ না নেয়ায় সে আসনটি বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে৷

নারী সংসদ সদস্যরা একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমান মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করেন৷

অডিও শুনুন 02:46
এখন লাইভ
02:46 মিনিট

‘সুষম বন্টনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হয়’

আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বডুয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ সংসদীয় বোর্ডের মাধ্যমে মনোনয়ন দেয়৷ আর সংসদীয় বোর্ডের প্রধান হলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ আমরা বরাবরই দেখেছি যে প্রথমত সংবিধানে সংসদ সদস্য হওয়ার যে যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে তা আছে কিনা৷ এরপর দলের সাথে তাঁর সম্পর্ক কতদিনের৷ তাঁর দলের জন্য কতটুকু ত্যাগ বা কমিটমেন্ট রয়েছে৷ স্ব স্ব পেশায় বা দলীয় রাজনীতিতে তাঁদের কন্ট্রিবিউশন কতটুকু আছে৷ আমরা তৃণমূল এলাকা থেকে যখন কাউকে নিয়ে আসি তখন দেখি ওই এলাকায় নারী সংসদ সদস্য আছেন কিনা৷ না থাকলে কত দিন আগে ছিল৷ সুষম বন্টনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হয়৷''

সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং তারকাদের মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা এখন সবচেয়ে বেশি৷ বিভিন্ন পেশা এবং অঙ্গনের নারীরা যে মনোনন চাইছেন এটা তারই প্রতিফলন৷ তাঁরাও আওয়ামী লীগকে সময় দিতে চাইছেন৷ তবে তারকা খ্যাতি বা অন্য যেকোনো যোগ্যতার চাইতে দলের প্রতি কমিটমেন্টই মনোনয়নের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরত্ব পাবে৷''

অডিও শুনুন 06:38
এখন লাইভ
06:38 মিনিট

‘দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার বিবেচনার প্রতি আমাদের আস্থা আছে’

যেসব নারীরা মনোনয়ন চেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন মহিলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রোকেয়া প্রাচী৷ তিনি একজন খ্যাতিমান অভিনেত্রীও৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এবারই প্রথম বিপুল সংখ্যক সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যক্তিত্ব, অভিনেত্রী আওয়ামী লীগের নির্বাচনে কাজ করেছেন, প্রচারে অংশ নিয়েছেন৷ তাই তাঁদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে৷ তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ যদি সংসদ সদস্য হয়ে যান তাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখি৷ আগে আওয়ামী লীগ করতেন না, কিন্তু এখন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান, তাতে দোষের কিছু নেই৷ এখন হয়তো তিনি আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত হতে চান৷ সবচেয়ে বড় কথা মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা৷ তাঁর বিবেচনার প্রতি আমাদের আস্থা আছে৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘এর আগেও আমরা দেখেছি বরেণ্য ব্যক্তি বা সমাজে যাদের ইতিবাচক ইমেজ আছে তাঁদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে৷ আর নতুন যাঁরা মনোনয়ন চান, তাঁরা দলের সাথে কত দিন থাকেন তা সময়ই বলে দেবে৷''

অডিও শুনুন 02:32
এখন লাইভ
02:32 মিনিট

‘যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁদেরই মূল্যায়িত করা উচিত’

যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার ২০০৯ সালের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন৷ এবারও তিনি মনোনয়ন চান৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ এমন একটি দল যেখানে সব শ্রেণী, পেশা, সম্প্রদায়ের মানুষকে ধারণ করে৷ তবে রাজনীতি যাঁরা করেন, রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রাম করেন, তাঁরা দলের সঙ্গে সমব সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে থাকেন৷ তাই তাঁদের আশা থকে যে তাঁরা একসময় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হবেন৷ সেটা যেকেনো পর্যায়ের হতে পারে৷ সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য তো অনেক বড় ব্যাপার৷ তাই এই ব্যাপারে যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁদেরই মূল্যায়িত করা উচিত৷''

তিনি বলেন, ‘‘পাশাপাশি, জননেত্রী শেখ হাসিনা সাংস্কৃতিক কোটা, উপজাতি কোটা, সংখ্যালঘু কোটায়ও মনোনয়ন দেন৷ অতীতে দিয়েছেন৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘অনেকেই তাঁদের সেক্টরের কথা সংসদে বলতে চান৷ তাঁরা চান তাঁদের কথা তুলে ধরতে৷ এটা স্বাভাবিক৷ তাই বলে ১৫০ জন নায়িকা মনোনয়ন চাইবেন! এটা নিয়ে আমাদের কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক আছে৷ কিন্তু আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন