কেন হঠাৎ ‘বিজেপি’-ঝোঁক টলিউডে? | বিষয় | DW | 19.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

কেন হঠাৎ ‘বিজেপি’-ঝোঁক টলিউডে?

বৃহস্পতিবার ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লীতে ভারতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় অফিসে গিয়ে দলে নাম লেখালেন একঝাঁক টলিউড তারকা৷ কেন তৃণমূল থেকে মুখ ফেরাচ্ছে টলিউড?

Indien Neu Delhi Indische Schauspieler treten Bharatiya Janata Partei bei (Imago Images/Hindustan Times)

বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দেওয়া তারকাদের একাংশ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বেশ অনেকদিন ধরেই রয়েছে রূপালি পর্দা থেকে রাজনীতির ময়দানে আসার ঝোঁক৷ এই ‘ট্রেন্ড' বিশেষ করে নজরে আসে ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই৷

সিনেমা, সাহিত্য, সঙ্গীত ও নাটক- সব ক্ষেত্রের তারকাদেরই দেখা যায় একে একে তৃণমূল সরকারের পাশে থাকতে৷ শুধু তাই নয়, দলের হয়ে নির্বাচনে লড়েছেন কবীর সুমন, ব্রাত্য বসু, শতাব্দী রায়, মুনমুন সেন বা তাপস পালের মতো ব্যক্তিত্বরা৷ কিন্তু গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে ২০১৪ সাল থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির উত্থানের পর থেকেই, পশ্চিমবঙ্গের তারকারা বিভক্ত হয়েছেন৷

নুসরাত জাহান বা মিমি চক্রবর্তীর মতো তরুণ অভিনেতারা এবছর তৃণমূলের হয়ে ভোটের মাঠে নামলেও টেলিভিশনের বেশ কিছু পরিচিত মুখ এর মধ্যে যোগদান করেছেন বিজেপিতে

বৃহস্পতিবার নতুন দিল্লীতে ভারতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় অফিসে গিয়ে দলে নাম লেখালেন একঝাঁক টলিউড তারকা৷ যারা বিজেপিতে গেলেন, তারা হলেন: পার্নো মিত্র, ঋষি কৌশিক, মৌমিতা গুপ্ত, রূপাঞ্জনা মিত্র, কাঞ্চনা মৈত্র, অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপা ভট্টাচার্য, অরিন্দম হালদার (লামা), সৌরভ চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ও দেবরঞ্জন নাগ৷ এদের সাথে সেদিন উপস্থিত ছিলেন আগেই বিজেপিতে যোগদান করা দুই অভিনেতা অঞ্জনা বসু ও কৌশিক চক্রবর্তী৷

যোগদান পর্বে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ, দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র ও তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যাওয়া সাবেক মন্ত্রী মুকুল রায়৷

হঠাৎ কেন গেরুয়া শিবিরে যোগদানের হিড়িক টলিউডে?

‘ফিল্ম পাড়া' টালিগঞ্জে তৃণমূল-শাসিত কলাকুশলীদের ইউনিয়নের দাপটে বেশ অনেকদিন ধরেই জর্জরিত বিরোধী মত, বলে মনে করেন দিলীপ ঘোষ৷ তাঁর মতে, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস গোটা টলিউড পাড়াকে কুক্ষিগত করে রেখেছে৷ বিজেপির মতো জাতীয় পর্যায়ে শক্তিসম্পন্ন দলে যোগদানের ফলে এই কলাকুশলীরা এখন সাহস পাবেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে৷''

তবে শুধুই কি কর্মস্থলে অসুবিধার জন্য এমন পদক্ষেপ নিলেন এই ১৩ শিল্পী? অনেকেই মনে করছেন, আসন্ন ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই বিজেপির এই পরিকল্পনা৷ সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে তৃণমূলকে টক্কর দিতে পারা রাজনৈতিক দল এই মূহুর্তে বিজেপিই৷ ফলে আসন্ন ভোটের ময়দানে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতেই এমন দল-বদল টলিউডের৷

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বাড়ন্ত আসনসংখ্যা  শিল্পীদের বিজেপিতে আনার ক্ষেত্রে অনেকটা চুম্বকের কাজ করেছে বলে মনে করছেন অনেকে৷ যদি বা ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, সেক্ষেত্রে সরকারের সুনজরে থাকতে চেয়েই হয়ত এমন পদক্ষেপ নিলেন এই শিল্পীরা৷

গ্ল্যামার দুনিয়ার সদস্যদের এই দল পাল্টানোকে তৃণমূলনেত্রী কীভাবে দেখছেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২১ জুলাই পর্যন্ত৷ উল্লেখ্য, প্রতি বছরই এই দিনে তৃণমূল কংগ্রেস শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে, যেখানে ফি বছর উপস্থিত থাকেন দেব, হিরণসহ টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিরা৷

বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দেওয়া বেশ কয়েকজন অভিনেতা এর আগে পা মিলিয়ে ছিলেন ২১ জুলাইয়ের মিছিলে৷ কিন্তু এবার তাদের অভাব কিছুটা হলেও চোখে পড়বে বলে জানা যাচ্ছে বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া থেকে৷

Shabnam Surita Dana (Melissa Bach Yildirim/AU Foto)

শবনম সুরিতা, ডয়চে ভেলে

বিনোদন জগতের শিল্পীদের রাজনৈতিক দলে ‘টানার' এই হিড়িক পশ্চিমবঙ্গে শুরু করেছিলেন মমতাই৷ রাজনীতিতে গ্ল্যামারের ছোঁয়া এনে বিপুলভাবে নিজের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন এই নেত্রী৷

কিন্তু তাঁর এই অভ্যাসই এখন ভাগ বসাচ্ছে তৃণমূলের জনপ্রিয়তায়৷ শুধু তৃণমূল-ঘেঁষা শিল্পীরাই নন, দল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে ভিড়েছেন একাধিক সাংসদ-বিধায়ক-নেতারাও৷

এই ধাক্কা কি আদৌ সামলে উঠতে পারবেন পশ্চিমবঙ্গে এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? নিজের গোছানো ছকে কি তবে নিজেই বাঁধা পড়ে গেলেন তিনি?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়