কেন ক্রমেই আস্থা হারাচ্ছে রাজ্যের পুলিশ? | বিশ্ব | DW | 14.04.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

কেন ক্রমেই আস্থা হারাচ্ছে রাজ্যের পুলিশ?

পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ কি ক্রমশ আস্থা হারাচ্ছে? সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনায় আক্রান্তরা পুলিশের উপর ভরসা করছেন না। আবার আদালতের নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণে পুলিশের প্রতি অনাস্থাই প্রকাশিত হচ্ছে।

Indien | Protest gegen Polizeigewalt - Anis Khan

ফাইল ফটো

এই রাজ্যের একের পর এক মামলার তদন্তভার সিবিআই এর হাতে তুলে দিচ্ছে কলকাতা হাইকোর্ট। গণহত্যা থেকে নাবালিকা ধর্ষণ কিংবা স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি--এমন গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগে পুলিশ তদন্ত চালালেও পরবর্তীতে দায়িত্ব হস্তান্তরিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে। পশ্চিমবঙ্গে গত ১৮দিনে পাঁচটি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দশে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিগত কয়েক দশকে ভারতে আর কোথাও এত অল্প সময়ে পাঁচটি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হয়নি, যা এককথায় বেনজির।

কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ আস্থা হারাচ্ছে

সিবিআইয়ের ট্র্যাক রেকর্ড যাই বলুক, পশ্চিমবঙ্গে কোন বড় ধরনের ঘটনা ঘটলেই আক্রান্তরা কেন্দ্রীয় সংস্থার তত্ত্বাবধানে তদন্ত চাইছেন। সম্প্রতি দেশের প্রধান বিচারপতি এম এম মার্যাভান সিবিআই সম্পর্কে সমালোচনা মূলক মন্তব্য করলেও এই রাজ্যের মানুষের কাছে এখন পরম কাঙ্ক্ষিত সিবিআই। ভোট পরবর্তী হিংসা, হলদিয়া বন্দরে তোলাবাজি সহ একাধিক মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হয়েছে আগেই। আমতায় ছাত্রনেতা আনিস খানের রহস্যমৃত্যু, ঝালদায় কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু হত্যা, রামপুরহাট গণহত্যা থেকে হাঁসখালি ধর্ষণ ও হত্যায় আক্রান্তের পরিবার সমস্বরে দাবি তুলেছে তাদের সিবিআই তদন্ত চাই। কিন্তু সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। যদিও এ রাজ্যের আক্রান্তরা মনে করছেন, অপরাধীকে যদি পাকড়াও করতে হয় তাহলে তা রাজ্য পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়।

কেন সাধারণ মানুষের মধ্যে এই মনোভাব দেখা যাচ্ছে? বিশ্লেষকরা এজন্য পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক দলতন্ত্র কায়েম করাকে দায়ী করেছেন। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশে পুলিশ কাজ করে। শাসকদলের অনুমতি ছাড়া পুলিশ পদক্ষেপ দেয় না। বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী সমীর আইচ ডয়চে ভেলেকে বলেন, "পুলিশকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক চাপ তো আছেই। এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে পুলিশকে দিয়ে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের ওপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। এবং কোর্টও সেটাই অনুধাবন করেই রায় দিচ্ছে।”

‘পুলিশের একাংশ দলদাসে পরিণত হয়েছে শাসকলের ভয়ে‘

পুলিশ যখন 'দলদাস'

রাজ্যজুড়ে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে তা পুলিশের অজানা নয় বলে বিরোধীদের দাবি। খুন ও ধর্ষণের ক্ষেত্রে ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় জনতা পুলিশের উপর আস্থা রাখতে পারছে না। তাদের সারকথা, শাসকদলের যোগসাজশ থাকলে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেবে না। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের শাসন ব্যবস্থায় এমন একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম করেছে যে পুলিশ দলদাসে পরিণত হয়েছে। প্রাক্তন পুলিশকর্তা সন্ধি মুখোপাধ্যায় মনে করেন, "স্থানীয় শাসকদলের প্রভাবে পুলিশ কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি যেমন হচ্ছে, তেমনি শাসকদলের কথা না শুনলে ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।” রাজ্যের সাবেক পুলিশ কর্তা পঙ্কজ দত্ত বলেন, "পুলিশকে রাজনৈতিক দলের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখলে সমস্যা মিটে যাবে। পুলিশকে যদি দলীয় কাজে ব্যবহার করা হয় তাহলে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। এ কারণেই দিনের পর দিন পুলিশের উপর আস্থা কমছে।”

কীভাবে এই নিয়ন্ত্রণ কায়েম করল শাসকদল? আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "পুলিশকে এখন নিয়ন্ত্রণ করে সিভিক ভলান্টিয়ার। যেখানে তিনজন এএসআই কর্মরত সেখানে ১৫০ জন সিভিক পুলিশ। এই সিভিক ভলান্টিয়াররা দীর্ঘদিন ধরে পুলিশকে কন্ট্রোল করছে। তারা বলে দেয় যে অপারেশন শেষ হওয়ার পরেই শুধু আপনারা বেরোবেন। পুলিশের মেরুদণ্ডটা এখন ধুলোয় মিশে গেছে।” সমীর আইচ বলেন, "পুলিশের একাংশ দলদাসে পরিণত হয়েছে শাসকলের ভয়ে। আর একাংশ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে, পছন্দসই পোস্টিং, নিজেদের অন্যায়গুলো চাপা দেওয়ার জন্য। অনেকে ভাল থাকলেও তাঁদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বরং কমপালসারি ওয়েটিংয়ে পাঠিয়ে শাস্তিও দেওয়া হচ্ছে।”

‘শাসন যাঁর, পুলিশ তাঁর'। এ দেশে এটাই হয়ে উঠেছে দস্তুর। এই নীতি নিয়ে অতীতে দেশের পুলিশ-প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা। এ রাজ্যে পুলিশকে দলদাসে পরিণত করার অভিযোগ কংগ্রেস বা বাম আমলে উঠেছে। বর্তমান সরকারের শাসনকালে অভিযোগ আরো তীব্র হয়েছে। জয়ন্ত নারায়ণ অভিযোগ করেন, "খাস কলকাতায় পুলিশকর্মী তাপস চৌধুরীকে খুন হতে দেখেছি। এর আগে পুলিশকে চড় মারার কথা মনে আছে বা বইমেলাতে পুলিশকে চাবকাতে হবে বলা হয়েছে।সুজেট জর্ডন ঘটনার পর ডিজিকে কিছু হয়নি বলতে হয়েছে। কামদুনির মামলায় অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।” প্রাক্তন আইপিএস অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, "সারদা কাণ্ডে সুদীপ্ত সেনের

কাছে যে ডায়েরি ছিল, তাতে প্রভাবশালীদের কত টাকা দেওয়া হয়েছে তার হিসেব লেখা ছিল। সে ডায়েরি রাজ্য পুলিশের লোক প্রথমে সিজ করেছিল। তারপর হাপিশ করে দিয়েছে। কাশ্মীরে সুদীপ্ত সেনদের কাছে কম্পিউটার, মোবাইল পাওয়া গিয়েছিল। রাজ্য পুলিশ সেসব নিয়ে তথ্য ডিলিট করে দেয়। এরকম অনেক তদন্তে প্রমাণ নষ্ট করেছে রাজ্য পুলিশ।” প্রশ্ন উঠছে, পুলিশের মনোবল ফেরাবে কে? কোন পথে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবে পুলিশ? জয়ন্ত নারায়ণ মনে করেন, "সিভিক ভলান্টিয়ার সরিয়ে পুলিশকে পুলিশের মতো কাজ করতে দিতে হবে। বারবার পুলিশকে প্রভাবমুক্ত হয়ে তদন্ত করতে বলা হচ্ছে।” এ প্রসঙ্গে সন্ধি মুখোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, "২০১০ সালে জনগনের স্বার্থে সু্প্রিম কোর্টের সাত দফা গাইডলাইনকে কার্যকরী করার জন্য জনমত তৈরি করতে হবে। মানুষকে সচেতন হতে হবে এই ব্যাপারে যে রাজনৈতিক দল এই গাইডলাইন কার্যকরী করবেন, তাদেরই ভোট দিতে হবে।”