কেন্দ্রের বিশেষ দূত কি কাশ্মীর ইস্যুর জট খুলতে পারবেন? | বিশ্ব | DW | 07.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

কেন্দ্রের বিশেষ দূত কি কাশ্মীর ইস্যুর জট খুলতে পারবেন?

কাশ্মীরের ভূমিগত বাস্তবতার নিরিখে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজতে সোমবার কাশ্মীরে গেছেন কেন্দ্রের বিশেষ প্রতিনিধি দীনেশ্বর শর্মা৷ সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে সাড়া না এলেও, কথোপকথনের ধারাটা বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

অশান্ত কাশ্মীরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পাঁচ দিনের সফরে জম্মু-কাশ্মীরে গেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি দীনেশ্বর শর্মা৷ তিনি শ্রীনগরে পা রাখতে না রাখতেই কাশ্মীরের ফুলওয়ামা জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে নিহত হয় তিনজন জঙ্গি৷ নিহতদের একজন সম্পর্কে জয়স-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজাহারের ভাইপো৷ এছাড়া ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর একজন জওয়ানও প্রাণ হারায় কান্দি-আগলার গ্রামে৷

কেন্দ্রের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে প্রাক্তন এই গোয়েন্দা কর্তার নাম ঘোষণার সময় থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, এই কাজে তিনি কতটা সক্ষম হবেন? তবে কাশ্মীরের হালহকিকত সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল তিনি৷ বিরোধী পক্ষগুলির বক্তব্য শোনার ধৈর্য ও সহনশীলতা আছে তাঁর৷ এমনকি কাশ্মীর ইস্যুর সংবেদনশীলতাও তিনি বোঝেন৷ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, সব শিবিরের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত তিনি৷ সেকথা চিঠি দিয়েও তিনি জানিয়েছেন৷ কিন্তু গলদ রয়ে গেছে গোড়াতেই৷ কাশ্মীরের রাজনৈতিক দল, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং যুব সমাজ ভালোভাবেই জানে যে, কেন্দ্রীয় সরকারের যে-কোনো শান্তি আলোচনাকারীকে সংবিধানের মধ্যেই থাকতে হবে৷ অর্থাৎ সমাধানের কোনো সূত্রই সংবিধানের লক্ষণরেখার বাইরে গিয়ে হবে না৷

এটা বুঝেই সম্ভবত প্রধান প্রধান পক্ষ, যেমন হুরিয়াতের কট্টরপন্থি, মধ্যপন্থি  এবং রাজ্যের শাসক বিরোধী রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স দীনেশ্বরের ‘মিশন কাশ্মীর'-এর প্রতি আগ্রহ দেখায়নি৷ উপত্যকার শান্তি আলোচনায় বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করতেও নারাজ তারা৷ হুরিয়াত জানিয়েছে, এইসব শান্তি আলোচনা অর্থহীন৷ স্রেফ কালক্ষেপ করা৷ তাদের ভাষায়, কাশ্মীর আন্দোলনে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, এই ধরনের আলোচনায় যোগ দেওয়া মানে তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা৷ উল্লেখ্য গিলানি, মিরওয়াইজ, ইয়াসিন মালিকের মতো শীর্ষ নেতারাই এখন হুরিয়াত, তথা কাশ্মীরের জনগণের সর্বেসর্বা৷

ওদিকে কাশ্মীরের উত্তপ্ত বাতাবরণে সম্প্রতি ঘি ঢেলেছেন কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী চিদামবরমের একটি  মন্তব্য৷ তিনি কাশ্মীরে স্বশাসনের প্রসঙ্গটি তুলেছেন৷ এহ বাহ্য, সংবিধানের ৩৭০ নং ধারা এবং ৩৫-এ সংশোধন করার ইস্যু নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক৷ আর এতে বিজেপি সরকার পড়েছে আরো বেকায়দায়৷ সমস্যা আরও জটিল হয়েছে৷ কাজেই প্রথমে শান্তি-সমঝোতার দু'টো প্রধান কাঁটা তুলতে হবে৷ এক, যে করেই হোক হুরিয়াতকে আলোচনার টেবিলে আনা৷ কিন্তু পাকিস্তানের অঙুলে লেহন ছাড়া হুরিয়াতকে আলোচনার টেবিলে আনা কার্যত অসম্ভব৷ দিল্লি তা মেনে নেবে না৷ দুই, সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫-এ ধারা নিয়ে যাবতীয় বিতর্কের অবসান করা৷ কাশ্মীরিদের আশঙ্কা, এভাবে সংবিধান সংশোধন করা হলে কাশ্মীরি মুসলিমরা শেষ পর্যন্ত রাজ্যে সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে৷

অডিও শুনুন 02:53
এখন লাইভ
02:53 মিনিট

‘কেন্দ্রের উচিত আম কাশ্মীরিদের মনের কথা খোলাখুলিভাবে আদানপ্রদান করা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্য নেওয়া যেতে পারে’

তবে প্রথমদিন শ্রীনগরে দীনেশ্বর শর্মার সঙ্গে বৈঠকেযোগ দেন রাজ্যের ১০টি যুব গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা৷ তাঁরা জানান, কাশ্মীরিদের আস্থা অর্জন করতে হলে নিরাপত্তা বাহিনীকে ছররা গুলি চালানো বন্ধ করতে হবে৷ তুলে নিতে হবে কাশ্মীরি যুবকদের ওপর করা যাবতীয় মামলা৷ সীমান্তবর্তী গুজ্জর বাক্কারওয়াল সম্প্রদায়ের জেনারেল সেক্রেটারি ইয়াসিন পসওয়াল বলেন, দীনেশ্বর শর্মার মনোভাব ইতিবাচক৷ তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর কাশ্মীর সফরের সময়ে তাঁর কাছেও অনুরুপ দাবি রাখা হয়েছিল৷ দীনেশ্বর অবশ্য ইতিমধ্যেই তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন৷ এর মধ্যে উল্লেখ্য, কাশ্মীরের যুব সমাজকে চরম পথ থেকে ফিরিয়ে আনা এবং কাশ্মীরকে আর একটি সিরিয়া হতে না দেওয়া৷

কাশ্মীর সমস্যার জট খোলা কি কেন্দ্রের বিশেষ প্রতিনিধি দীনেশ্বর শর্মার পক্ষে সম্ভব হবে? ডয়চে ভেলের এই প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক প্রতীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাশ্মীরে যাঁরাই গেছেন তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি সব সময়েই সামরিক বা রাজনৈতিক ছিল৷ রাজ্যে জঙ্গি তত্পরতা চলছে, কাজেই ধরাবাঁধা পথেই তাঁরা সামরিক সমাধানের চেষ্টা করে এসেছেন৷ কাশ্মীরের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিতের দিকে নজর দেওয়া হয়নি৷ তাই ‘‘কেন্দ্রের দৃষ্টিভঙ্গির যতক্ষণ না বদল হবে, সমাজের মুখ যতক্ষণ না তাতে সামিল হবে, ততক্ষণ মরীচিকা হয়ে থাকবে শান্তি৷'' তিনি জানান, ‘‘কেন্দ্রের উচিত আম কাশ্মীরিদের মনের কথা খোলাখুলিভাবে আদানপ্রদান করা৷ আর সেজন্য অন-লাইন, ভিডিও কনফারেন্স বা সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্য নেওয়া যেতে পারে৷ এছাড়া সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে কাশ্মীরিদের আশঙ্কা দূর করতে হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও