কৃষি সমস্যা সমাধান করবে ‘বায়োডায়নামিক′ চাষাবাদ! | বিশ্ব | DW | 10.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

কৃষি সমস্যা সমাধান করবে ‘বায়োডায়নামিক' চাষাবাদ!

সম্ভবত ভারতই একমাত্র দেশ যেখানে শত শত বছর ধরে চালু আছে জৈব চাষ৷ মাঝখানে এ পদ্ধতিকে পুরোনো বলা হলেও সারা বিশ্বেই এখন জৈব পদ্ধতির জয়জয়কার৷ অবশ্য জার্মানিতে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু হয় ৯০ বছর আগে৷

মূলত দু'টো কারণে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের আকোলা জেলার নাম সুপরিচিত৷ একটি তুলা চাষ, অন্যটি কৃষকের আত্মহত্যা৷ ঋণের বোঝা, দারিদ্রের দুষ্টচক্র, খরা ও স্বল্প ফলন এ এলাকার কৃষকদের প্রায়ই ঠেলে দেয় আত্মহত্যার দিকে৷ ২৯ বছর বয়সি নাসারি চাভান এ এলাকারই একজন আদিবাসী কৃষক৷ নাসারি যখন চাষের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন, এ এলাকার অন্যান্যদের মতো তাঁদের পরিবারও ধুঁকছিল ঋণের চাপে৷

এসএআরজি বিকাশ সমিতি নামের একটি বেসরকারি সংস্থা, যারা ভারতে বায়োডায়নামিক চাষাবাদ প্রবর্তনে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের একটি ওয়ার্কশপে সাত বছর আগে প্রশিক্ষণ নেন নাসারি৷ এরপরই কীটনাশক ও ক্ষতিকর সার ব্যবহার বন্ধ করে দেন তিনি৷ বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত কীটনাশক ও ক্ষতিকারক সারের ব্যবহার জমির যে ক্ষতি করেছিল, জৈব সারের ব্যবহারের ফলে তা পুষিয়ে নিয়ে আবারো উর্বর হয়ে উঠতে শুরু করেছে জমি৷ পরিবারকে ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করে লাভের মুখ দেখেছেন নাসারি৷ এখন ঐ এলাকায় তিনি আর একা নন৷ আরো প্রায় ৫০০ জন চাষী এখন জমিতে জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন৷  

২৯ বছর বয়সি এই চাষী সেই অভিজ্ঞতার কথায় শোনালেন অরগ্যানিক ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে৷ এ বছরের নভেম্বরে নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় অরগ্যানিক ফার্মিংয়ের উপর আন্তর্জাতিক এ সম্মেলন৷ ‘‘বায়োডায়নামিক চাষাবাদ আমাদের খরচ বাঁচায়, যেহেতু বাইরে থেকে আমাদের কিছুই কিনতে হয় না৷ সেই সঙ্গে এতে করে স্বাস্থ্যকর খাবারও খেতে পারি আমরা৷'' সম্মেলনে আসা বায়োডায়নামিক ও অরগ্যানিক কৃষক ও গবেষকদের সাথে নিজের ভাবনা ভাগাভাগি করে নেন নাসারি৷   

ভিডিও দেখুন 02:53
এখন লাইভ
02:53 মিনিট

Organic food catching on in India

বায়োডায়নামিক চাষ পদ্ধতি আলাদা করে সার দেয়ার উপর নির্ভর না করে জমির নিজস্ব বাস্তুসংস্থানের উপর নির্ভর করে৷ ফলে বাড়তি কিছু কেনার প্রয়োজন হয় না৷ এসএআরজি বিকাশ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা বিনিতা শাহ বলেন, ‘‘ঋণের দায়ে জর্জরিত কৃষকদের জন্য এটা এক অনন্য সমাধান৷''

নিউজিল্যান্ডের বায়োডায়নামিক পদ্ধতি ব্যবহার করে চাষাবাদ করতেন পিটার প্রোক্টর, যাঁর হাত ধরে বিনিতা শাহ ১৯৯০ সালে ভারতে আবারো নতুন করে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন৷ বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানের অধীনে সারা ভারতে ৫ হাজারেরও বেশি কৃষক এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন৷

সম্মেলনে অংশ নেয়া বেসরকারি সংস্থা ডেমেটার ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী আলেকজান্ডার গার্বার বলেন,‘‘জার্মানিতে আমাদের প্রায় সতের'শ সনদপ্রাপ্ত চাষিরয়েছেন, ভারতে আছেন প্রায় লক্ষাধিক৷ তবে জমির পরিমাণে পার্থক্য রয়েছে, কারণ ভারতীয়দের ক্ষেত্রে চাষীরা কম জমির মালিক৷ তারপরও এ এক অসাধারণ বিপ্লব এবং ডেমেটার এক্ষেত্রে ‘ব্র্যান্ড' হিসেবে ভারতে কাজ করতে চায়৷''  

কৃষিবিদ সার্ভদামান পাটেল বলেন, ‘‘ভারতে চাঁদ-তারার উপর ভিত্তি করে আগেকার দিনে যে চাষাবাদ হতো, এই বায়োডায়নামিক চাষাবাদ তার চেয়ে খুব বেশি আলাদা কিছু নয়৷ কেবল একে আরেকটু যথাযথ ও সময়ের সঙ্গে উপযুক্ত করা হয়েছে বর্তমানে৷'' সার্ভদামান পাটেলের অধীনেই এ চাষাবাদ পদ্ধতি শেখেন জার্মানির সোফিয়া ক্নোবেল্সডর্ফ৷ এই বিদ্যা কাজে লাগিয়ে তিনিসফল ওয়াইন ফার্মার  হতে চান৷

প্রাচীন ভারতের চাষাবাদ পদ্ধতির সাথে এর মিল রয়েছে প্রচুর৷ যেমন এ পদ্ধতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে গরু৷ গরুর বর্জ্য ব্যবহার করেই ভারতে বায়োডায়নামিক পদ্ধতিতে চাষ দেখেছে সফলতার মুখ৷ তবে কিছু নতুন জিনিসও রয়েছে৷ যেমন শীতের সময় গরুর বর্জ্য ব্যবহার করে যে সার হয়, সেটাই গরুর শিং-এর সাহায্যে মাটিতে পুঁতে  দলে জমি পুনরুজ্জীবন লাভ করে৷

সম্মেলনে ভারতের নানা অঞ্চলের কৃষকরা বায়োডায়নামিক পদ্ধতি ব্যবহার করে চাষাবাদের ফলে তাঁদের ভাগ্যের যে পরিবর্তন হয়েছে, সেই গল্প ভাগাভাগি করে নেন সবার সাথে৷ ভারতের তামিলনাড়ুর ধর্মযাজক ফাদার ক্লেমেন্ট জোসেফ জার্মান সরকারের সহায়তায় একটি প্রকল্পে কাজ করছেন৷ তামিলনাড়ুর দক্ষিণ ভাগে খরাক্রান্ত এলাকায় এই বায়োডায়নামিক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে সাফল্য অর্জনের অভিজ্ঞত  সম্মেলনে অংশ নেয়া অন্যান্যদের সাথে ভাগ করে নেন তিনি৷

যদিও কেবল এ পদ্ধতির ব্যবহার করেই ভারতের কৃষি সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তবুও এর মাধ্যমে ক্ষতিকর কীটনাশকের অতিব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব৷ তাছাড়া কেবল গ্রামের কৃষকরাই নন, বায়োডায়নামিক পদ্ধতিতে চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে শহুরে কৃষকদের কাছেও৷

রাজধানীর অদূরে শিল্প শহর হিসেবে খ্যাত নয়ডায় একটি বায়োডায়নামিক ফার্ম রয়েছে, যারা যৌথ খামারের ধারণাকে কাজে লাগিয়ে চাষাবাদ করছে৷ এ প্রকল্পের অংশীদার আমির আহমেদ বলেন,  ‘‘খারাপ খাবার খেতে খেতে ক্লান্ত হয়ে গেছি আমরা৷ তাই ঠিক করলাম কিছু করি৷ তবে এই প্রজেক্টির সঙ্গে আমি আরো অনেক মানুষকে যুক্ত করতে চাই আমরা৷''

সুনয়না কুমার/আরএন 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন