কৃষি আইনে কোর্টের স্থগিতাদেশ, তাও বিক্ষোভ জারি | বিশ্ব | DW | 12.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

কৃষি আইনে কোর্টের স্থগিতাদেশ, তাও বিক্ষোভ জারি

তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইনের উপর স্থগিতাদেশ জারি করলো সুপ্রিম কোর্ট। কৃষকদের সঙ্গে আলোচনার জন্য কমিটি।

তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লির সীমানায় আন্দোলনরত কৃষকরা।

তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লির সীমানায় আন্দোলনরত কৃষকরা।

দিল্লির সীমানায় কৃষক আন্দোলনের জের। তিন বিতর্কিত কৃষি আইনের রূপায়ণ আপাতত সাসপেন্ড করল সুপ্রিম কোর্ট। তার মানে এই আইন এখন আর চালু থাকবে না। সর্বোচ্চ আদালত একটি কমিটি গঠন করেছে। সেই কমিটি আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করবে। কমিটি সুপ্রিম কোর্টের কাছে রিপোর্ট দেবে। প্রধান বিচারপতি বোবদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের রায়, ''পরবর্তী নির্দেশ দেয়া পর্যন্ত তিনটি কৃষি আইন চালু করা যাবে না।'' এই তিন আইনের ফলে কৃষকদের সঙ্গে চুক্তি চাষ করতে পারতো কর্পোরেট সংস্থাগুলি। বড় প্রতিষ্ঠানগুলির শষ্য গুদামজাত করার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বসীমা উঠিয়ে দেয়া হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরেও আন্দোলন থেকে সরে আসছে না কৃষক সংগঠনগুলি। জয় কিষান সংগঠনের নেতা যোগেন্দ্র যাদব জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন, কিন্তু তাঁদের দাবি হলো, তিনটি আইনকে পুরোপুরি বাতিল করতে হবে। সেই দাবিতে আন্দোলন চলবে। সুপ্রিম কোর্ট নিজের সুবিধার জন্য কমিটি করতে পারে। তার সঙ্গে কৃষকদের কোনো সম্পর্ক নেই। কৃষকরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। প্রত্যাহার করার প্রশ্নই ওঠে না।

প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ''এর সঙ্গে মানুষের জীবন-মৃত্যুর বিষয় জড়িত। আমরা এই আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা আন্দোলনকারীদের জীবন ও সম্পত্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে চাই। আমাদের হাতে একটিই ক্ষমতা আছে, আইনগুলি সাসপেন্ড করা।'' সেই ক্ষমতারই প্রয়োগ করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

কৃষকদের তরফে আইনজীবী এমএল শর্মা আদালতে জানিয়ে দেন, তাঁরা কমিটিতে থাকবেন না। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেননি। বিচারপতিরা তখন বলেন, ''আমরা এখানে প্রধানমন্ত্রীকে ডাকতে পারি না। কারণ, এই মামলায় তিনি পার্টি নন। আর এটা রাজনীতি নয়। রাজনীতি ও বিচারবিভাগের মধ্যে ফারাক আছে। আপনাদের সহযোগিতা করতে হবে।''

সরকারও কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আরো সময় চেয়েছিল। কিন্তু প্রধান বিচারপতি বোবদে বলেন, ''আপনারা কার্যকরভাবে বিষয়টি সামলাতে পারছেন বলে মনে হচ্ছে না। রক্তপাত হলে কে দায়ী থাকবে?''

সর্বোচ্চ আদালতের কাছে সরকার জানায়, কৃষকরা যদি ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন কোনোরকম বাধা দেয়, তা হলে তা বিড়ম্বনার কারণ হবে। যোগেন্দ্র যাদব বলেছেন, ''২৬ জানুয়ারি আমাদের প্রস্তাবিত ট্র্যাক্টর মার্চের পরিকল্পনা বহাল আছে। কোথায় বলা আছে, কৃষক ওইদিন দিল্লিতে ঢুকতে পারবে না? আমরা তো জাতীয় পতাকাকেই উঁচুতে তুলে ধরতে চাইছি।''

ফলে সুপ্রিম কোর্ট আইন স্থগিত করার নির্দেশ দিলেও এখনো পর্যন্ত কৃষকরা আন্দোলন থেকে সরে আসছে না। ফলে সে দিক থেকে দেখলে, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ধাক্কা খেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আইন স্থগিত হয়ে গেল। কৃষক আন্দোলনও উঠল না। সলিসিটার জেনারেল আবার বলেছিলেন, এই আন্দোলনে খালিস্তানিরা ঢুকে পড়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, একদিনের মধ্যে তথ্যপ্রমাণ সহ হলফনামা দিতে হবে সরকারকে।

জিএইচ/এসজি(পিটিআই, এএনআই)

বিজ্ঞাপন