কৃত্রিম পরিবেশেও হাতিদের স্বাচ্ছন্দ্য | অন্বেষণ | DW | 01.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

কৃত্রিম পরিবেশেও হাতিদের স্বাচ্ছন্দ্য

চিড়িয়াখানায় দর্শকদের মনোরঞ্জন ঘটলেও প্রাণীদের জন্য এমন কৃত্রিম পরিবেশ কতটা উপযুক্ত? সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরের চিড়িয়াখানায় হাতিদের জন্য এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়ক৷

এলিফ্যান্ট বুল বা এই ষাঁড় হাতির নাম মাক্সি৷ খাবারের সন্ধানে তাকে রোজ বেরোতে হয়৷ এর মধ্যে সে ৪০০ কিলোগ্রাম ওজন কমিয়ে ফেলেছে৷ কারণ, বছর দুয়েক ধরে জুরিখ শহরের চিড়িয়াখানায় কিছু রদবদল চলছে৷ হাতিদের ডেরা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, খাবারের নাগাল পেতে হাতিদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে৷ দিনে তাদের প্রায় ২০০ কিলোগ্রাম খোরাকের প্রয়োজন পড়ে৷ আর্টুর কেল হাতিদের দেখাশোনা করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আগে দিনে প্রধানত একবার খেতে দেওয়া হতো৷ আর এখন ২৪ ঘণ্টায় বেশ কয়েকবার খোরাক দেওয়া হয়৷ পাইপ, বলসহ নানা জায়গায় সেই খাদ্য রাখা থাকে৷ তাদের সেসব বের করে নিতে হয়৷ এমন পরিশ্রম তাদের জন্য ভালো৷ তাতে ওজনও কমে, পা'গুলি ঠিকমতো কাজে লাগে৷ এটা একটা বিশাল সুবিধা৷’’

তবে এই আয়োজনের জন্যও অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়৷ দেখতে লুকোচুরি খেলার মতো মনে হলেও এর পেছনে দক্ষ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ রয়েছে৷ আর্টুর কেল ও তাঁর সহকর্মীরা প্রতিদিন হাতির ডেরায় ৪০টিরও বেশি আধারে খাদ্য ভরেন৷ হাতিদের জন্য এটা একটা চ্যালেঞ্জ বটে৷

রোব্যার্ট সিং-এর জন্য হাতিদের সুষ্ঠু প্রতিপালনের ক্ষেত্রে খোরাক একটি অংশ মাত্র৷ তিনি নতুন এই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন এবং চিড়িয়াখানায় যে পশুদের উপযুক্ত প্রতিপালন সম্ভব, তিনি সে কথা বিশ্বাস করেন৷ রোব্যার্ট বলেন, ‘‘হাতিরা আসলে তাদের প্রজাতির দূত৷ মুক্ত প্রকৃতিতে যেসব প্রাণী থাকে, হাতিরা তাদেরই প্রতিনিধি৷ আমরা সেইসব প্রাণীর জন্য কাজ করছি৷ হাতিরা শুধু চিড়িয়াখানায় টিকে থাকবে, এমনটা হতে পারে না৷ তারা মুক্ত প্রকৃতির প্রাণীদের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের বার্তা বহন করবে এবং তাদের সুরক্ষায় অবদান রাখবে৷’’

জুরিখ শহরের চিড়িয়াখানায় প্রায় ১১,০০০ বর্গমিটার বিশাল এলাকায় ৮টি হাতি রয়েছে৷ এভাবে তাদের মৌলিক সামাজিক আচরণ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে৷ বিশেষ করে শাবকদের হাতির পালের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের প্রয়োজন৷ তবে সব হাতি বাকিদের বরদাস্ত করতে পারে না৷ সে কারণে হাতিরা প্রায়ই দল বদলায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট অংশে বিচরণ করে৷

জুরিখ চিড়িয়াখানার হাতিদের ডেরা ইউরোপের সবচেয়ে আধুনিক ব্যবস্থা৷ কিন্তু সেখানে কি হাতিদের সত্যি সুষ্ঠু প্রতিপালন হচ্ছে? বিখ্যাত হাতি-গবেষক আঙ্গেলা স্ট্যোগার-হোরভাট-কে তার মূল্যায়ন করতে হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘মুক্ত পরিবেশে হাতিরা অনেক সময় খাবার সংগ্রহ ও খাবারের জন্য সময় ব্যয় করে৷ চিড়িয়াখানায় সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারলে তো ভালোই৷ কারণ, এভাবে তাদের ব্যস্ত রাখা যায়৷’’

দলবদ্ধ এই প্রাণীদের জন্য চিড়িয়াখানায় কি সত্যি যথেষ্ট জায়গা রয়েছে? কারণ, মুক্ত পরিবেশে হাতিরা দিনে কয়েক কিলোমিটার অতিক্রম করে থাকে৷ ড. স্ট্যোগার-হোরভাট বলেন, ‘‘মজ্জাগতভাবে তারা অনেক দূর চলে যায় বটে, কিন্তু খাদ্য ও পানির খোঁজেই তাদের সেটা করতে হয়৷ তাছাড়া ঋতু অনুযায়ী তারা আলাদা জায়গায় খাদ্য ও পানি খুঁজে পায়৷ শুষ্ক বা বর্ষার সময় তাদের গন্তব্য বদলে যায়৷’’

জুরিখ চিড়িয়াখানায় কোনো কিছুর অভাব নেই৷ তেষ্টা পেলে হাতিদের বেশি সময় ধরে পানি খুঁজতে হয় না৷ চারিদিকে জলপ্রপাত ও পুকুর রয়েছে৷ দর্শকদের কাছে সে সবের আকর্ষণ কম নয়৷ হাতিদের জন্য পানির উৎস অত্যন্ত জরুরি৷ ত্বকের যত্ন নিতে সম্ভব হলে সপরিবারেও স্নান করে তারা৷ শুধু দর্শকদের মনোরঞ্জন নয়, তাদের সুস্থ সামাজিক আচরণের জন্যও এটা প্রয়োজন৷

মোনিকা কোভাকসিক্স/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন