কূটনৈতিক বিবাদে এর্দোয়ান কেন পিছু হটলেন? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 27.10.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

কূটনৈতিক বিবাদে এর্দোয়ান কেন পিছু হটলেন?

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়্যিপ এর্দোয়ান গত সপ্তাহান্তে সে দেশে নিযুক্ত ১০ রাষ্ট্রদূতকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ এরপর সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তার সুর নরম শোনা গেছে৷

তুরস্কের ব্যবসায়ী ও দাতা ওসমান কাভালাকে দোষী সাব্যস্ত না করে গত চার বছর ধরে জেলে রাখা হয়েছে৷ তাকে মুক্তি দিতে সম্প্রতি জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল৷ সে কারণে এর্দোয়ান তাদের অবাঞ্ছিত করতে চেয়েছিলেন৷ তবে সোমবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকের পর এর্দোয়ান বলেন, ‘‘দূতাবাসগুলো আমাদের দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে৷ আমি বিশ্বাস করি ওই রাষ্ট্রদূতেরা তুরস্কের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিবৃতি দিতে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবেন৷’’

এর্দোয়ানের এই বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস একটি টুইট করে৷ এতে বলা হয়, কূটনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ে ভিয়েনা কনভেনশনের ৪১ ধারায় কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্র এই ধারার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ বলেও টুইটে জানানো হয়৷

অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে নজর সরাতে?

জার্মানির হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের তুর্কি রাজনীতি বিষয়ের বিশেষজ্ঞ শার্লটে ইয়োপিয়েন মনে করছেন, তুরস্কের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে সাধারণ নাগরিকদের নজর সরানোর চেষ্টা করছেন এর্দোয়ান৷ কারণ গত কয়েকমাস ধরে এর্দোয়ানের জনপ্রিয়তা কমছে৷ স্বাধীন জরিপ সংস্থা আভরাসিয়া বলছে, এর্দোয়ানের একেপি পার্টির সমর্থন এখন ৩০ শতাংশের নীচে৷

এদিকে বিরোধীদের মধ্যে এতদিন বিভাজন দেখা গেলেও বর্তমানে তাদের এক হতে দেখা যাচ্ছে৷ এমন দুটি দল- সিএইচপি ও আইওয়াইআই পার্টির প্রতি সমর্থন এখন ৪০ শতাংশের বেশি দেখা যাচ্ছে৷

এছাড়া এর্দোয়ানবিরোধী আরও কয়েকটি ছোট দলের অস্তিত্ব এবং কুর্দিপন্থি এইচডিপি পার্টির প্রতি সমর্থন প্রায় ১০ শতাংশ হওয়ায় এর্দোয়ান ও তার দল আগামী প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচনে হারের আশঙ্কায় আছে৷

মূল্যস্ফীতি, দুর্নীতি ও তুর্কি মুদ্রা লিরার অবমূল্যায়ন - এসব কারণে এর্দোয়ানের জনপ্রিয়তা কমছে৷

আগেও এমন করেছেন এর্দোয়ান

ঘরের সমস্যা থেকে নজর সরাতে এর আগেও এর্দোয়ান কূটনৈতিক সংকটকে কাজে লাগিয়েছেন৷ জার্মান সাংবাদিক ডেনিস ইউজেলকে জেলে প্রেরণ এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অটোমান তুর্কদের হাতে অসংখ্য আর্মেনীয়কে হত্যার বিষয়টি গণহত্যার শামিল কিনা, তা নিয়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের দ্বন্দ্বের সময়ও এর্দোয়ানকে এমন কৌশল নিতে দেখা গেছে৷ ঐসব দেশ তুরস্ককে নীচে নামানোর চেষ্টা করছে বলে জনগণের সামনে তুলে ধরেন এর্দোয়ান৷ কারণ তিনি জানেন বিদেশি শক্তির সঙ্গে লড়াই জাতীয়তাবাদী অনেক তুর্কিকে নাড়া দেবে৷

ডানিয়েল হাইনরিশ/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন