‘কুয়োর ব্যাং′ থাকতে চান না চীনের প্রেসিডেন্ট | বিশ্ব | DW | 10.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

চীন

‘কুয়োর ব্যাং' থাকতে চান না চীনের প্রেসিডেন্ট

‘কমিউনিস্ট' চীনের প্রেসিডেন্ট বিশ্বায়ন প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করতে সে দেশের অর্থনীতি আরও উন্মুক্ত করার অঙ্গীকার করলেন৷ ‘ধনতান্ত্রিক' অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্টের বিচ্ছিন্নতার পথের বিরোধিতা করলেন তিনি৷

ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যামেরিকাকে যত বদ্ধ করে তুলতে চাইছেন, শি জিনপিং চীনকে ততই উন্মুক্ত করে তোলার অঙ্গীকার করছেন৷ ‘অ্যামেরিকা ফার্স্ট' নীতির আওতায় চীনসহ একাধিক দেশ থেকে আমদানির উপর বাড়তি শুল্ক চাপানোর পথে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷ তাঁর বাণিজ্য যুদ্ধের দামামা শুনে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে৷বিশেষ করে চীনের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগের শেষ নেই৷ মেধাসত্ত্ব থেকে শুরু করে বিদেশি কোম্পানিগুলির প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি নিয়ে তাঁর মনে অনেক ক্ষোভ রয়েছে৷

শুধু অ্যামেরিকা নয়, অন্য অনেক দেশও চীনের বাজারে এমন বাধার সম্মুখীন হয়ে থাকে৷ সেই অভিযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার দ্বারস্থ না হয়ে ট্রাম্প ‘একলা চলো রে' নীতির পথে চলেছেন৷

চীনও বিদেশি কোম্পানিগুলির ক্ষোভের কথা জানে৷ সে দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মঙ্গলবার চীনের অর্থনীতিকে চলতি বছর আরও উন্মুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন৷ দেশের দক্ষিণে হাইনান প্রদেশে এক ভাষণে তিনি বলেন, সেইসঙ্গে গাড়িসহ একাধিক পণ্য আমদানির উপর শুল্ক কমানো হবে৷ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য চীনের বাজার আরও খুলে দেবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি৷ তাঁর ভাষণে ব্যাংক ও বিমাসহ আর্থিক ক্ষেত্র আরও উন্মুক্ত করা এবং মেধাসত্ত্ব আরও জোরদার করার আভাসও পাওয়া গেছে৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে পরোক্ষভাবে সমালোচনা করে শি বলেন, শীতল যুদ্ধের মনোভাব ও চারিদিকে দেওয়াল তুলে ধরার নীতি ‘প্রাচীরে ধাক্কা খাবে'৷ উল্লেখ্য, গত ২০১৩ সাল থেকেই চীনের একাধিক নেতা ও কর্মকর্তা গাড়ি শিল্পে বিদেশি কোম্পানিগুলির উপর কড়া শর্ত তুলে নেবার অঙ্গীকার করে এসেছেন৷ কিন্তু কার্যক্ষেত্রে কোনো ফল দেখা যায় নি৷ এখনো তারা কোনো উদ্যোগে বড় অংশীদার হতে পারে না৷

বলা বাহুল্য চীনের প্রেসিডেন্টের এই ভাষণের পর আন্তর্জাতিক শিল্প ও বাণিজ্য জগতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে৷ পুঁজিবাজারও সামগ্রিকভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে৷ তবে সংস্কারের এই অঙ্গীকার সত্ত্বেও সুনির্দিষ্ট ঘোষণার অভাবে কিছুটা হতাশাও থেকে গেছে৷ সমালোচকদের মতে, যে সব ক্ষেত্রে চীন এর মধ্যে যথেষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেছে, শুধু সেগুলিই উন্মুক্ত করা হচ্ছে৷

এমন প্রেক্ষাপটে চীন ও অ্যামেরিকার মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ এড়ানোর সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে৷ সোমবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন সম্ভবত চীনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটাতে সক্ষম হবে৷ চীন শুরু থেকেই এমন সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে এসেছে৷

এসবি/ডিজি (রয়টার্স, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়