‘‘কুসংস্কার থেকেই কবিরাজিতে বিশ্বাস’’ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘‘কুসংস্কার থেকেই কবিরাজিতে বিশ্বাস’’

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই যুগেও মানুষ কেন কবিরাজের পেছনে ছোটেন; এই চিকিৎসায় আদৌ সুস্থ্য হওয়া যায় কিনা- সেসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া৷

তাঁর মতে, বৈজ্ঞানিক ভিত্তি না থাকলেও কুসংস্কারের কারণেই মানুষ এসবের পেছনে ছোটেন৷

ডয়চে ভেলে: আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই যুগে এখনও কেন মানুষ কবিরাজিতে বিশ্বাস করেন?

অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: আমি মনে করি, এটা মাইন্ডসেট৷ আমাদের বাবা-মা আমাদের যেভাবে যে শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন আমরা সেভাবেই বড় হয়েছি৷ আধুনিক চিকিৎসার পরও অবচেতন মনে জন্মগতভাবে আমাদের কবিরাজি বা হোমিওপ্যাথির উপর বিশ্বাস রয়েই যায়৷ দেখেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার উপত্তি যেখানে সেই ব্রিটিশরা কিন্তু এটা নিষিদ্ধ করেছে৷ অথচ ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানে কিন্তু কবিরাজি চিকিৎসার একটা প্রভাব আগে থেকেই চলে আসছে৷ ছোটবেলা থেকে আমরা বাবা-মায়ের মুখে যেভাবে শুনে আসছি, সেটার কারণেই এই বিশ্বাস৷ যেমন ধরেন ক্যান্সার চিকিৎসা৷ এটা তো ব্যয়বহুল৷ আবার একটা পর্যায়ে গিয়ে আর রোগীকে বাঁচানো যায় না৷ সেখানে মানুষ মনে করে এই চিকিৎসায় হচ্ছে না, তাহলে কবিরাজি দিয়েই চেষ্টা করে দেখি৷

আধুনিক চিকিৎসার উপর কি মানুষের আস্থা নেই? যদি থাকে তাহলে কেন হাজার হাজার মানুষ বোতলে পানি ভরে মাঠে সমাবেত হচ্ছেন?

অডিও শুনুন 09:33

কবিরাজি চিকিৎসায় ওষুধ খেয়ে অনেকে অন্ধ হয়ে গেছে: ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া

আমাদের মন এখনও কুসংস্কারে ভরা৷ একটা কিছু শুনলে নিজে যাচাই না করেই দৌঁড়াচ্ছেন৷ প্রবাদ আছে না, চিলে কান নিয়ে গেল, নিজের কান না দেখেই চিলের পেছনে দৌড়ানোর মতো৷ পীর বা হুজুরের পানি পড়া দিয়ে কেউ সুস্থ্য হয়েছে একথা শুনেই বোতলের পর বোতল পানি নিয়ে সবাই দৌড়াচ্ছেন৷ আমরা শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও মনের দিক থেকে সেভাবে শিক্ষিত নই৷ আমার একটা রোগীর ঘটনা বলি- আমার এক চিকিৎসক বন্ধুর বড় ভাই স্টোকের রোগী৷ আমার কাছে নিয়ে এলেন৷ আমি তার অপারেশন করে হাড্ডিটা বের করে রাখলাম৷ সে সুস্থ্য হলে পরে লাগিয়ে দেব৷ এর মধ্যে তিনি মারা গেলেন৷ এরপর আমার সেই চিকিৎসক বন্ধু বললেন মৃত ব্যক্তির দেহে সেই হাড্ডিটা লাগিয়ে দিতে৷ এটা কি সম্ভব? অথচ তার সঙ্গে থাকা একজন বয়স্ক মুরুব্বি বললেন, এটা লাগাতে হবে না৷ আমরা বরং লাশ নিয়ে চলে যাই৷ দেখেন উনি একজন চিকিৎসক হয়ে কি করে বলেন, মরা মানুষের শরীরে হাড্ডি লাগিয়ে দিতে হবে! আমি মনে করি আমার বন্ধুর চেয়ে ওই মুরুব্বি কিন্তু অনেক বেশি জ্ঞানী৷

মানুষের কবিরাজি চিকিৎসার প্রতি আগ্রহ তৈরির কারণ কি?

আমরা ছোটবেলা থেকে যে সমস্ত জিনিস শিখে আসি বা বাবা-মায়ের কাছ থেকে দেখে শিখি সেটাই তো বলি৷ উনাদের তো কবিরাজি, হোমিওপ্যাথি বা ভেষজ চিকিৎসার প্রতি আস্থা ছিল৷ গ্রামেগঞ্জে দেখেন সেখানে চিকিৎসক থাকলেও মানুষ কিন্তু কবিরাজের কাছে যাচ্ছেন৷ কারণ তাদের আস্থা সেখানে৷ আমার মনে হয়, এটা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত৷  

বলা হচ্ছে আধুনিক চিকিৎসা ব্যয়বহুল  হওয়ায় কবিরাজিতে অনেকের আগ্রহ, এটা কতটা ঠিক?

এটা ঠিক না৷ আমাদের তো এখন পার ক্যাপিটা ইনকাম (মাথাপিছু আয়) অনেক বেড়ে গেছে৷ আমরা এখন অনেক বেশি খরচ করতে পারি৷

কুসংস্কার থেকে সাধারণ মানুষকে আধুনিক চিকিৎসায় ফেরাতে পারেন জনপ্রতিনিধিরা৷ কিন্তু তারাও তো কবিরাজির প্রতি আস্থা

দেখাচ্ছেন- এর কারণ কি?

জনপ্রতিনিধিরা কি আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন কেউ৷ উনারা তো আমাদের মতোই মানুষ৷ উনাদেরও বাবা-মা ছোটবেলা থেকে ব্রেনে যা ঢুকিয়ে দিয়েছেন সেটা থেকে তো উনারাও বের হতে পারেননি৷ উনাদেরও তো কবিরাজির প্রতি দূর্বলতা তৈরি করে দিয়ে গেছেন৷ মনের দিক থেকে আমরা কবিরাজির প্রতি দূর্বল হয়ে আছি৷ আর্থিক অবস্থা এখন ভালো হলেও এটাও আসলে এখানে জড়িত৷ অনেকে লুকিয়ে এ্যালোপ্যাথির সঙ্গে কবিরাজি ওষুধ খান৷

মানুষের ধারণা ঝাড়ফুঁকে তারা উপকৃত হচ্ছেন৷ কবিরাজি চিকিৎসার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কী? এই চিকিৎসায় কেউ কি আরোগ্য লাভ করেন?

যেটুকু আরোগ্য লাভ করেন, সেটা ওইসব রোগীর নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থেকে৷ অনেক সময় বলা হয় না, ঝড়ে বক মরে, ফকিরের কেরামতি বাড়ে৷ একটা কখনও মিলে গেলে তখন সেটাই ছড়িয়ে পড়ে৷ বাংলাদেশে তো কবিরাজি চিকিৎসার কোনো গবেষণা নেই৷ তবে ভারতে ভেষজ চিকিৎসার পাঁচ হাজার বছরের ঐতিহ্য আছে৷ সেটার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কিনা আমি জানি না৷ আমাদের দেশে এটার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই৷

বলা হচ্ছে আধুনিক ব্যবস্থায় ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা গেলেও কবিরাজিতে সেই ঝুঁকি নেই- কথাটা কতুটুকু ঠিক? 

এটা একেবারেই ঠিক না৷ বরং অনেক সময় কবিরাজি চিকিৎসায় ওষুধ খেয়ে অনেকে অন্ধ হয়ে গেছে৷ এ্যালোপ্যাথি ওষুধে তো সবকিছু লেখা থাকে৷ কিন্তু কবিরাজি ওষুধে তো কিছুই লেখা থাকে না৷ কিসের নামে কি খাওয়াচ্ছে তা তো বোঝাও যায় না৷

মানুষকে কিভাবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্য আনতে আপনার পরামর্শ কি?

মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়ানো৷ মানুষকে আসল শিক্ষায় শিক্ষিত করা৷ আমরা তো আসলে শিক্ষিত হচ্ছি না, বরং উল্টো দিকে ফিরে যাচ্ছি৷ ছোটদের স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে এগুলো ঢোকাতে হবে৷ তাদের আসল শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব৷

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন