কুর্দি ইস্যুতে তুর্কি চাপে নত জার্মানি? | বিশ্ব | DW | 21.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

কুর্দি ইস্যুতে তুর্কি চাপে নত জার্মানি?

জার্মানির কোলনে এক উৎসবে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি – পিকেকের ব্যানার দেখানো হয়৷ এ ব্যাপারে অতিরিক্ত সহনশীল আচরণ করায় পুলিশের সমালোচনা করেছে খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ তুরস্কের চাপই এর কারণ, মনে করছেন কুর্দি নেতারা৷

জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে পিকেকের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নিষিদ্ধ প্রতীকের তালিকা আরো সম্প্রসারণ করা হবে৷ তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছে জার্মান কুর্দি সম্প্রদায়৷ তাঁরা মনে করছেন, তুরস্কের ভয়ে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে৷

কোলন পুলিশ অবশ্য সমাবেশ থেকে একজনকে আটক করেছে, জব্দ করেছে একটি ব্যানার৷ হলুদ রংয়ের ব্যানারটিতে ১৯৯৯ সাল থেকে তুরস্কে কারাবন্দি পিকেকে নেতা আবদুল্লাহ ওকালানের ছবি ছিল৷

উৎসবে অংশ নিয়েছেন অন্তত ১৩ হাজার কুর্দি৷ সেখানে আরো শত শত ব্যানার ও ফেস্টুনে ওকালানের ছবি থাকলেও সেগুলোতে হলুদ রং না থাকায় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ৷ জার্মান সরকার মার্চ মাসে নিষিদ্ধ প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করে, তাতে ওকালানের ছবি প্রদর্শন করা যাবে না, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না৷ 

১৯৯৩ সাল থেকে পিকেকে জার্মানির সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় আছে৷ কিন্তু তখন থেকে তুর্কি বনাম কুর্দি সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের কথাই বলে আসছেন ওকালান৷ স্বাধীন কুর্দিস্তানের দাবি নয়, বরং এখন তুরস্ক, ইরাক ও সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় স্বায়ত্বশাসনের দাবি পিকেকের৷

নিষিদ্ধ ছবি

কোলন পুলিশের কর্মকাণ্ডের দায় নিচ্ছে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ ‘‘আমাদের কাছে এটা পরিস্কার যে বাস্তবে যা ঘটেছে, তার সাথে নিষিদ্ধ প্রতীকের সম্পর্ক নেই৷ সাধারণভাবে ওকালানের সব ছবিই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল,'' বলছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়োহানেস ডিমরোথ৷

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় শুধু হলুদ রংয়ের ব্যানারে নয়, ‘অনুরূপ' সব ছবি নিষিদ্ধ করা হলেও কোলন পুলিশ তাদের সিদ্ধান্তকেই সমর্থন করছে৷ কোলন পুলিশের এক মুখপাত্র সংবাদ মাধ্যম ডব্লিউডিআরকে জানিয়েছেন, ‘‘আমরা আগেই কোলন স্টেট প্রসিকিউশনের সাথে আমাদের প্রক্রিয়া এবং আইনী ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেছিলাম৷''

তুরস্কের পদানুসরণ

কুর্দি কমিউনিটি সেন্টার সিবিকা আজাদের মুখপাত্র মাকো কোকগিরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্ত ‘হাস্যকর' বলে মন্তব্য করেছেন৷

এখন কেন এমন সিদ্ধান্তের কথা জানাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন ডব্লিউডিআরের মতো বেশ কিছু জার্মান সংবাদ মাধ্যম৷ জার্মানিতে বরাবরই কুর্দি সমাবেশে ওকালানের ছবি প্রদর্শন হয়ে আসছে৷

১৬ সেপ্টেম্বরের উৎসব নিয়ে আপত্তি জানাতে তুরস্কে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ এর একদিন পরেই জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘নিষিদ্ধ' প্রতীকের তালিকা ‘সম্প্রসারণের' ঘোষণা কাকতালীয় বলে মনে করছেন না কোকগিরি৷ 

 ‘জঙ্গি প্রচারণা' চালাতে পিকেকে সদস্যদের অনুমতি দিয়েছে, জার্মান সরকারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে বিবৃতিও দিয়েছে আঙ্কারা৷

‘‘তুর্কি সংবাদমাধ্যম উৎসবের আগে থেকেই – জঙ্গি সমর্থকদের সমাবেশে জার্মানির অনুমতি - এমন শিরোনাম করছিল৷'' এই নিষিদ্ধ তালিকা সম্প্রসারণের ঘোষণা এরই ‘প্রতিক্রিয়া' এবং তুর্কি সরকারের সাথে ‘আপসের' ইঙ্গিত বলে মনে করছেন কোকগিরি৷

জার্মানির কুর্দিরা মনে করেন, সবসময়ই তাঁদের ব্যাপারে তুরস্কের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে সরকার৷ অথচ অন্যান্য বিষয়, যেমন তুরস্কে আটক জার্মান সাংবাদিকদের ব্যাপারে নেয়া হয় কঠোর অবস্থান৷ ‘‘এটা আমাদের জন্য খুব অস্বস্তিকর৷ কারণ আমাদের মনে হয়, তুরস্কের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার জন্য আমাদের বলি দিচ্ছে জার্মান সরকার৷''

জার্মানি অবশ্য কিছু কুর্দি গোষ্ঠীকে সমর্থন দেয়৷ ইরাকে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের সাথে যুদ্ধে কুর্দি পেশমেরগা বাহিনীকে অস্ত্র দিয়েছে জার্মানি৷ তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো সিরিয়ায় যুদ্ধরত ওয়াইপিজি বা পিপলস প্রটেশকশন ইউনিটকে সামরিক সহায়তা দেয়নি জার্মানি৷

২৫ বছর ধরে চলে আসছে আন্তর্জাতিক কুর্দি সাংস্কৃতিক উৎসব৷ এই উৎসবে ঐতিহ্যবাহী কুর্দি নাচ ও গানের আয়োজনও থাকে৷ কোকগিরি বলছেন, ‘‘কুর্দিরা যখন এক জায়গায় হয়, তখন সেটার সবসময়ই একটা রাজনৈতিক চরিত্র থাকে৷ ওকালানের মুক্তি ও কুর্দি স্বায়ত্বশাসনের দাবিও থাকে সেখানে৷'' 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন