কী তদন্ত হচ্ছে, কিছুই তদন্ত হচ্ছে না: অভিজিতের বাবা | বিশ্ব | DW | 07.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

কী তদন্ত হচ্ছে, কিছুই তদন্ত হচ্ছে না: অভিজিতের বাবা

ব্লগার ও বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক অভিজিৎ রায়কে কারা হত্যা করেছে, কেন হত্যা করেছে এবং কীভাবে হত্যা করেছে – তা জানার দাবি করেছে পুলিশ৷ তবে অভিজিতের বাবার কথায়, ‘‘কী তদন্ত হচ্ছে? কিছুই তদন্ত হচ্ছে না৷''

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আবু সিদ্দিক ওরফে সোহেল নামে একজন সদস্যকে আটকের পর পুলিশ বলছে, ‘‘অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ‘মোটিভ', এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং তাঁকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে – এই পুরো বিষয়টি এখন তদন্তকারীদের কাছে পরিষ্কার৷'' প্রসঙ্গত, সোমবার ঢাকায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের এই সদস্যকে আটক করা হয়৷

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা সিসিটিভির ফুটেজ ধরে যে ছ'জনকে চিহ্নিত করেছিলাম তাদের মধ্যে একজন হলো আবু সিদ্দিক সোহেল৷ আমরা এর আগে ঐ ছ'জনের মধ্যে আরো একজনকে গ্রেপ্তার করেছিলাম৷ পরে সে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়৷ এখন বাকি চারজনকে আমরা গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি৷''

তিনি জানান, ‘‘আবু সিদ্দিক সোহেল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে৷ তার জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের ‘মোটিভ', কারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কীভাবে এ হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল – তা আমরা জানতে পেরেছি৷ এখন সেই জবানবন্দি ধরেই আরো তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে৷''

অডিও শুনুন 02:14
এখন লাইভ
02:14 মিনিট

‘তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আর কী বলবো? দু'বছর ধরে শুনছি তদন্ত হচ্ছে কিন্তু কী তদন্ত হচ্ছে?’

মাসুদুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা এখন নিশ্চিত যে অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম জড়িত৷ তাদের ‘স্লিপার সেল' এই হত্যাকাণ্ড ঘটনায়৷ এদের আরো নানা ইউনিট কীভাবে অংশ নেয়, তাও আমরা জেনেছি৷ তবে সমস্যা হচ্ছে আমরা যেসব নাম জেনেছি, তা প্রকৃত নাম কিনা তা নিয়ে৷ কারণ এরইমধ্যে আমরা জানি যে এ ধরনের জঙ্গিদের একাধিক নাম থাকে এবং তারা বার বার নাম পরিবর্তন করে৷ এই হত্যাকাণ্ডে আট থেকে দশজন অংশ নেয় জানা গেছে৷ আবু সিদ্দিকেরও একাধিক নাম রয়েছে৷ এই যেমন, আবু সিদ্দিক ওরফে সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে সাহাদ৷

অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে সিসিটিভির ফুটেজ ধরে শরিফুল ইসলাম ওরফে মুকুল রানাকে গত বছর খিলগাঁওয়ে আটকের করা হলেও, পরে সে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়৷ এই মামলায় আরো সাতজনকে গত দু'বছরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তবে  সিসিটিভির ফুটেজ ধরে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আবু সিদ্দিক ও বন্দুক যুদ্ধে নিহত শরিফুল ইসলাম – এই দু'জনই পুলিশের হাতে আটক হয়৷

আবু সিদ্দিক তার জবানবন্দিতে বলে, ‘‘অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক প্রধান জিয়া ‘স্পট'-এ ছিল৷ সে-ই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদারক করেছে৷ জিয়াসহ মোট ন'জন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়৷ এদের মধ্যে চারজনের দায়িত্ব ছিল সরাসরি অভিজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করা৷ আর বাকি চারজনের দায়িত্ব ছিল অভিজিৎকে অনুসরণ করা৷ জবানবন্দিতে আবু সিদ্দিক নিজেকে অভিজিতের অনুসরণকারী বলে দাবি করে৷''

অডিও শুনুন 03:04
এখন লাইভ
03:04 মিনিট

‘এখন সেই জবানবন্দি ধরেই আরো তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে'

যে চারজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়, তারা প্রথমে বইমেলার বাইরেই অবস্থান করছিল৷ আবু সিদ্দিক নিজে তিন সহযোগী নিয়ে বইমেলার ভেতরে গিয়ে অভিজিতকে অনুসরণ করে৷ সে সময় টিএসসির আশেপাশেই অবস্থান করে মেজর জিয়া ও শরিফুল ইসলাম ওরফে মুকুল রানা৷ পরে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর দলের সদস্যরা টিএসসির একটু উত্তর দিকে ফুটপাতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে হত্যা করে অভিজিতকে৷

মামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সূত্র জানায়, ‘২০১৪ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগ দেয়া আবু সিদ্দিক-এর সঙ্গে জিয়ার প্রথম একটি ট্রেইনিং সেন্টারে দেখা হয়৷ অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের আগে অন্তত চারদিন সে বইমেলায় গিয়ে অভিজিতকে অনুসরণ করে৷''

নতুন আসামি গ্রেপ্তারের ব্যাপারে অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি শুনেছি আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ কিন্তু পুলিশ আমাকে জানায়নি৷'' তদন্তে সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সন্তুষ্টির তো আর শেষ নাই৷ যেদিন প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়বে, বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াবে, উপযুক্ত শাস্তি পাবে, সেদিন আমার সন্তুষ্টি৷''

অধ্যাপক অজয় রায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বলেন, ‘‘তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আর কী বলবো? দু'বছর ধরে শুনছি তদন্ত হচ্ছে৷ কিন্তু কী তদন্ত হচ্ছে? কিছুই তদন্ত হচ্ছে না৷ আমি বলবো, হয় তারা ইচ্ছা করে অপরাধীদের ধরছে না অথবা তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতার অভাব রয়েছে৷''

তিনি আরো জানান, ‘‘পুলিশও আর যোগাযোগ করে না৷ বরং আমি নিজেই তদন্তকারীদের সঙ্গে চার-পাঁচবার দেখা করতে গেছি৷ কিন্তু তাঁরা আমাকে দেখলেই বিব্রত হয়, অস্বস্তি বোধ করে৷ বলে স্যার, আমাদের তদন্ত চলছে৷''  প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সস্ত্রীক বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় টিএসসির সামনে অভিজিৎ রায় ও তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যার ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা৷এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান অভিজিৎ এবং গুরুতর আহত হন তাঁর স্ত্রী বন্যা৷

অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন৷ কিন্তু পুলিশ এখনো আদালতে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি৷ এ পর্যন্ত ২৭ বার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সময় নিয়েছেন তদন্তকারীরা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন