কী চান চামড়া ব্যবসায়ীরা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

কী চান চামড়া ব্যবসায়ীরা

ক্রেতা না পাওয়ায় এবার কোরবানির পশুর চামড়া ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই৷ এমন পরিস্থিতিতে কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে সরকার৷

 

এই পরিস্থিতিতে ডয়চে ভেলে কথা বলেছে এই খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ীর সঙ্গে৷ কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তকে তারা কীভাবে দেখেছেন এবং চামড়াখাতে এই অস্থিতিশীলতার জন্য কারা দায়ী, তা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন তারা৷

ট্যানারি মালিকরা বলছেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছাড়া হাজারীবাগ থেকে সাভারের শিল্পনগরীতে ট্যানারি স্থানান্তরের কার্যক্রম চলায় গত তিন বছর ধরে চামড়া নিয়ে অস্থিতশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে৷ কাঁচা চামড়া রপ্তানি হলে ট্যানারি শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা করে তারা আশায় আছেন চামড়ার বাজার স্থিতিশীল হলে সরকার এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে৷

অন্যদিকে সরকারের ঘোষণার পর কাঁচা চামড়া রপ্তানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা৷ অর্থের অভাবে এবার সব চামড়া কিনতে পারেননি জানিয়ে চামড়া নষ্টের দায়ও নিয়েছেন তারা৷

বাংলাদেশে সারা বছর যে সংখ্যক পশু জবাই হয়, তার অর্ধেক হয় কোরবানির মৌসুমে। সরকারি হিসাবে এবার প্রায় সোয়া কোটি পশু জবাই করা হয়েছে। যারা কোরবানি দেন তাদের কাছ থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়া কিনে তা পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। পাইকাররা সেই চামড়ায় লবণ দিয়ে দুই থেকে তিন মাস সংরক্ষণ করে তা ট্যানারিতে বিক্রি করেন।

অডিও শুনুন 05:48

আশা করি সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে: শাহীন আহমেদ

এবার মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অনেকই নামমাত্র দামে চামড়া কিনেও তা পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে পারেননি৷ সংরক্ষণের নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই চামড়া ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন৷ যারা কোরবানি দিয়েছেন তাদের অনেকেও ক্রেতা না পেয়ে চামড়া মাটিতে পুতে ফেলেছেন৷

এমন পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মত কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করে মানুষ যে দাম পাচ্ছে, সেটা যৌক্তিক না। মানুষ যেন ন্যায্য দাম পায় তা নিশ্চিত করতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।  

সরকারের অনুরোধে এবার কয়েকদিন আগে চামড়া কেনা শুরু করা হবে বলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ জানিয়েছেন৷ বৃহস্পতিবার ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, প্রতি বছরই আমরা লবনযুক্ত চামড়া কিনি, ফলে ঈদের ১০-১৫ দিন পর থেকে চামড়া কেনা শুরু করি৷  তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ এবার একটু আগে কিনব৷

‘‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে) কিন্তু পরিস্থিতি ভিন্নও হতে পারে৷ কারণ বাজার স্থিতিশীল করতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা রিভউ করারও সুযোগ আছে৷ যদি দেখি বাজার ঠিক আছে তাহলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আদেশ প্রত্যাহার করে নেবে৷ আর যদি বাজারের অবস্থা একান্তই এ রকম থাকে তাহলে আবার বসব, আলাপ-আলোচনা করব কি করা যায়, কাঁচা চামড়া রপ্তানি করা যায়, নাকি ওয়েট ব্লু রপ্তানি করা যায়, সেই সিদ্ধান্ত নেব৷''

চামড়ার বাজার কেন অস্থিতশীল হলো- সেই প্রশ্নে শাহীন আহমেদ বলেন, তিন বছর ধরে ট্যানারি স্থানান্তরের কারণে অনেক ট্যানারি উৎপাদনে যেতে পারেনি৷ মৌসুমী ব্যবসায়ীদেরও দুই-তিন বছর ধরে লোকসান হচ্ছে৷ ...তারা ২০০-৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে চামড়া সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে৷ এই সিজনাল ব্যবসায়ীরা এবার বিনিয়োগ না করায় বাজারে তার প্রভাব পড়েছে৷

অডিও শুনুন 05:50

ঠিক সময়ে টাকা পেলে সব চামড়া কিনতে পারতাম: টিপু সুলতান

এজন্য দায়ী কে- এ প্রশ্নে শাহীন আহমেদ বলেন, ‘‘আমরা এখান থেকে শিফটিং হয়েছি, পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরী করব কিন্তু সেটা এখন পর্যন্ত পরিপূর্ণ হয়নি, যার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা প্রোডাক্ট সেল করতে পারছি না৷ রপ্তানি ফল করছে৷ (চামড়ার বাজার অস্থিতিশীলের জন্য) আমরাও দায়ী, বিসিকও দায়ী৷ কারণ বিসিক ভবিষ্যৎপরিকল্পনা করেনি৷ ''

কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তে আসতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ট্যানারি মালিকরা বর্তমান পরিস্থিতি মনিটর করছে বলেও জানান তিনি৷

শাহীন আহমেদ বলেন, হাজারীবাগে কিছু প্লট সরকারের কাছ থেকে লিজ নেওয়া, অন্যগুলো ব্যক্তিমালিকানার৷ ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেওয়া হাজারিবাগের প্লটগুলো এখন ব্যক্তিমালিকনায় হয়ে গেছে৷ আর সাভারের ট্যানারি পল্লীতে আমরা জায়গা কিনে নিয়েছি৷ ব্যাংকগুলো ট্যানারি মালিকদের বড় ধরনের বিনিয়োগ করেনি দাবি করে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো যে ৬০০-৬৫০ কোটি টাকা যা দিয়েছে তা এই সেক্টরের জন্য পর্যাপ্ত না৷

আড়ৎদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান ডয়চে ভেলেকে বলেন, টাকার অভাবে চামড়া কিনতে অনেক কষ্ট হয়েছে৷ অনুমতি পাওয়ায় পর আমরা কাঁচা চামড়া রপ্তানির প্রস্তুতি নিচ্ছি৷ এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকার যেন সরে না আসে৷

আড়ৎদাররা কেন চামড়া কেনেননি- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘আর্থিক সংকটে৷ কারণ ৯০ শতাংশ ট্যানারি কোনো টাকা দেয়নি৷ এক কোটি টাকা পেলে তারা দুই লাখ টাকা দেয়, কীভাবে পারপাস সার্ভ হবে?'' চামড়া নষ্ট হওয়ার জন্য দায়ী কে, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘এবার সারা দেশেই এটা হয়েছে, টাকা ঠিকমত দেয়নি, প্রান্তিক অঞ্চলে ট্যানারি মালিকরাও টাকা দেয়নি৷ এখন থেকে কাঁচা চামড়া রপ্তানি হলে আর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না৷...ঠিক সময়ে টাকা পেলে সব চামড়া কিনে নিতে পারতাম৷''

আগের বছরের চামড়া রয়ে গেছে বলে ট্যানারি মালিকরা যে দাবি করেছেন তার সঙ্গে এমমত নন টিপু সুলতান৷ তিনি বলেন, ‘‘যেভাবে বলছে আগের বছরের চামড়া রয়ে গেছে, ২৫ শতাংশ হয়ত রয়ে গেছে৷ এটাকে তারা বলছে ৪৫-৪৫ পারসেন্ট রয়ে গেছে৷ এটা তাদের ব্লেইম, ব্যাংকের টাকা, আড়ৎদারদের টাকা রাখার জন্য, আত্মসাৎ করার জন্য এগুলো বলছে৷ আগের বছরের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ চামড়া মজুদ থাকতে পারে৷''

বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার অ্যান্ড লেদারগুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট দিলজাহান ভুইয়া মনে করেন কাঁচা চামড়া রপ্তানি হলে ট্যানারিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে৷

এর ব্যাখ্যায় ডয়চে ভেলকে তিনি বলেন, ‘‘যে চামড়ার পাওয়া যায় তা দিয়ে আমরা চার মাস চলতে পারি৷ কাঁচা চামড়া রপ্তানি হলে আমরা পিছিয়ে পড়ব৷ এখন যে সংকট তা সাময়িক৷ আমরা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করছি৷''

অডিও শুনুন 03:06

কাঁচা চামড়া রপ্তানি হলে ট্যানারিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে: দিলজাহান ভুইয়া

এবার কেন চামড়া নষ্ট হলো, সেই প্রশ্নে দিলজাহান ভুইয়া বলেন, ‘‘অর্থ সংকটের জন্য চামড়া কিনতে পারেননি৷ ট্যানারিগুলো সাভারের শিল্পনগরীতে বিনিয়োগ করেছে, হাতে নগদ অর্থ ছিল না৷ বেপারিদের গতবছরের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে পারিনি৷  ফলে ব্যাপারিরাও চামড়া কিনতে পারেনি৷ ব্যাংক থেকে সহযোগিতা করলে চামড়া কিনতে পারব এবং এই সংকট থেকে মুক্ত হব৷''

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমরা রপ্তানির ঘোষণা দিয়েছি। দেখি না, যদি দেখি স্থানীয় শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাহলে রপ্তানি স্লো করে দেব।”

সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘রপ্তানি করতে আমরাও যে খুব উৎসাহী তা নয়৷ আমাদের লক্ষ্য মানুষ যেন ন্যায্য দাম পায়৷’’

এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা্, ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং খাসির কাঁচা চামড়া সারাদেশে ১৮-২০ এবং বকরির চামড়ার দাম ১৩-১৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার৷ তবে ওই দামে কোথাও চামড়া বিক্রি হয়নি৷ অনেক এলাকায় চামড়া কেনার জন্য যায়নি কেউ৷

এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলে, ‘‘বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নির্ধারিত মূল্যে কোরবানির পশুর চামড়া  ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে না৷ এ বিষয়ে চামড়া শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীগণকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে৷’’

কাঁচা চামড়ার গুণাগুণ যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য স্থানীয়ভাবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চামড়া সংরক্ষণের জন্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন