কিশোরদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ ব্যবস্থা | বিশ্ব | DW | 25.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

কিশোরদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ ব্যবস্থা

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) মহানগরীতে রাত ৯টার পর কিশোরদের চলাচলে ও ঘোরাফেরায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে৷ এ জন্য ১৭টি ‘সাডেন চেকপোস্ট' কাজ করছে৷ কিশোরদের আচরণ সন্দেহজনক হলেই তাদের আটক করা হচ্ছে৷

১৭ জুন রাতে চট্টগ্রামের হালিশহর আর্টিলারি রোডে ছিনতাইকরীদের কবলে পড়েন মোহাম্মদ সুমন ও তার বন্ধুরা (১৭)৷ সুমনের মেবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার সময় ধস্তাধস্তি হয়৷ একপর্যায়ে সুমনকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা৷  ওই রাতেই  চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় সুমন৷ এরপর দু'দিনে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে  হালিশহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১০ কিশোরকে আটক করে পুলিশ৷ এরপরই এক সংবাদ সম্মেলনে  সিএমপি-র অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম কিশোর অপরাধবিরোধী বিশেষ অভিযানের ঘোষণা দেন৷

স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে সম্প্রতি কিশোর অপরাধ বেড়ে গেছে৷ দলবেধে অপরাধ করা, গ্যাং তৈরি করা, গ্রুপ তৈরি করা, দল বেধে ইভ টিজিং, একযোগে  মোটর সাইকেলের হর্ন বাজিয়ে উত্যক্ত করা একটা সাধারণ অপরাধ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে৷

কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে কিশোর অপরাধবিরোধী এই বিশেষ অভিযানের প্রয়োজন পড়ল, তা নিয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন সিএমপি-র অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম৷

তিনি জানান, ‘‘সম্প্রতি হালিশহরে একটি হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আমরা দেখি, যারা হত্যার সঙ্গে জড়িত তারা কিশোর৷ এদের সবার বয়স ১৭ বছরের নীচে৷ আবার নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে এক কিশোরী ব্যাগে ছুরি নিয়ে তার প্রেমিকসহ প্রাক্তন প্রেমিককে ছুরিকাঘাত করেছে৷ আরো কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি৷ কিছু রাস্তার মোড় আছে যেখানে কিশোররা আড্ডা দেয়৷ কোনো যাত্রী বা পথচারী হেঁটে যাওয়ার সময় তারা মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এ রকম অভিযোগ আছে৷''

অডিও শুনুন 07:51
এখন লাইভ
07:51 মিনিট

‘আমরা দেখেছি, অনেক কিশোরই হত্যার সঙ্গে জড়িত’

‘‘এইসব অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের পরিকল্পনায় আমরা কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নগরীতে চেকপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেই আমরা৷ এই চেকপেস্টগুলো ভ্রাম্যমান৷ একই জায়গায় অবস্থান করবে না৷ প্রয়োজন অনুযায়ী জায়গা বদল করবে৷ এরইমধ্যে ১৭টি চেকপোস্ট চেকপোস্ট কাজ শুরু করেছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সিদ্ধান্ত হলো, রাত ৯টার পর যদি কিশোরবয়সি কাউকে বাইরে বা রাস্তায় পাওয়া যায়, তারা যদি ঘোরাঘুরি করে, তাহলে আমরা তার দেহ তল্লাশি করব৷ যদি যে আমাদের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারে, তাহলে সে চলে যেতে পারবে৷ কিন্তু যদি সে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারে, তার আচরণ যদি সন্দেহজনক হয়, তাহলে তাকে আমরা থানায় নিয়ে যাব৷ তাদের মা-বাবাকে ডাকা হবে থানায়৷ এরপর তারা মুচলেকা দিয়ে যার যার সন্তানকে নিয়ে যেতে পারবেন৷ আর যদি তাদের দেহ তল্লাশি করে কোনো অস্ত্র, ধারালো বস্ত বা অবৈধ কিছু পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে৷''

এ রকম সন্দেহভাজন কিশোর কত আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সঠিক সংখ্যা বলা কঠিন৷ তবে আমরা ধারণা করছি নিম্নবিত্ত পরিবারের এরকম ৫-৭ হাজার কিশোর আছে৷ নির্দিষ্ট কিছু ‘স্পট' বা মোড় আছে যেখানে তারা আড্ডা দেয়৷ এ রকম ১৪৫টি স্পট আমরা চিহ্নিত করেছি৷ ওইসব স্পটে তারা বসে থাকে৷ তার পথচারীদের নানাভাবে ‘ডিস্টার্ব' করে বলেও আমাদের কাছে তথ্য আছে৷''

অবশ্য তিনি বলেন, ‘‘শুধু নিম্মবিত্ত নয়, উচ্চবিত্ত পরিবারের কিশোররাও নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে৷ তারা কোনো স্পট, মার্কেট বা মলে আড্ডা দেয়৷ সেখানে তারা ইভটিজিং করে৷ ছিনতাই হয়ত করে না৷ কিন্তু নিজেদের মধ্যে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে৷ নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং হয়, আধপত্য বিস্তারের ঘটনা ঘটে, গ্যাং তৈরি হয়৷ গ্রুপিং হলে নিজেদের মধ্যে মারামারি হয়৷ হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ সংঘটিত হয়৷

নানা কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে৷ এদের মধ্যে কিছু রয়েছে যাদের মা-বাবা নেই৷ আর এই ধরনের ছেলে-মেয়েদের দেখার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই৷ আবার অর্থনৈতিক কারণে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরা সন্তানদের সময় দিতে পারেন না৷ উচ্চবিত্ত পরিবারেও সন্তানদের দেয়ার মতো সময় নাই৷ সন্তান কোথায় যায়, কী করে, কার সঙ্গে মেশে – সেই খবর তারা রাখেন না৷ সন্তান স্কুলে যায় কিনা, প্রাইভেট টিউটরের কাছে বা কোচিং-এ যাওয়ার কথা বলে কোথায় যায়, কী করে, সে খবরও অভিভাবকরা রাখেন না৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের এই অভিযানে অভিভাবকরাও সতর্ক হবেন৷ কারণ তারা মনে করবেন সন্তানের কারণে পুলিশ তাদেরও ডাকতে পারে৷''

এই কিশোরদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘অপরাধ অনুযায়ী আইনে যে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা আছে, সেই ব্যবস্থাই নেয়া হবে৷ অস্ত্র বা ধারলো কোনো কিছু পাওয়া গেলে অস্ত্র আইনে ধরা হবে তাদের৷ এছাড়া সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করলে সিএমপি অ্যাক্টে আটকের বিধান আছে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

রাত ৯টার পর কিশোররা বাইরে বের হলেই কি তাদের আটক বা গ্রেপ্তার করা হবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে৷ তাছাড়া তাদের মধ্যে কারুর আচরণ যদি সন্দেহজনক হয় বা তাদের কাছে অবৈধ কিছু পাওয়া যায়, তাহলে তাদের আটক করা হবে৷ যেখানে মামলার প্রয়োজন সেখানে মামলা করা হবে৷ আর যেখানে মুচলেকার প্রয়োজন সেখানে অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নেয়া হবে৷''

শিশু-কিশোরদের জন্য তো আইন আলাদা, তাদের তো অপরাধী বিবেচনা করা যায় না৷ আইনের এই প্রসঙ্গ তুলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আটকের পর আমরা বয়স দেখেই আইনি ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেই৷ যারা শিশু বা কিশোর আইনে পড়ে তাদের ব্যাপারে সেই আইনই অনুসরণ করা হয়৷''

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘‘এটাকে আমরা ‘প্রিভেন্টিভ' ব্যবস্থা হিসেবে দেখছি৷ আমরা ছোটবেলা মাগরিবের আজানের আগে ঘরে ফিরেছি৷ হয়ত কোচিং-এর কারণে এখন রাত ৯টা পর্যন্ত বাইরে থাকতে হতে পারে৷ কিন্তু সেটা কতজন? রাত ৯টার পর বাইরে তাদের কী কাজ থাকতে পারে? এই অভিযানের কারণে, চেকপোস্টের কারণে, কিশোরদের রাতে বাইরে ঘোরঘুরি কমবে৷ তাদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণাতাও কমবে৷''

এর বাইরে বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং-এর মাধ্যমে সচেতনতার কাজও হচ্ছে বলে জানান তিনি৷ বলেন, ‘‘অপরাধ দমনে বিশেষ পরিস্থতির কারণে এই অভিযান চালাচ্ছি আমরা৷ এছাড়া অপরাধ দমনে আমাদের নিয়মিত কাজতো চলছেই৷''

এই তল্লাশি কিশোর মনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে কি? এই প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম বলেন, ‘‘হ্যাঁ, প্রভাব তো ফেলতেই পারে৷ সেজন্যই আমরা অভিযানের শুরু থেকে মাইকিং করে অভিভাবকদের সচেতন করছি৷ তারা যেন তাদের কিশোর সন্তানদের দিকে নজর দেন৷ তাদের যেন তল্লাশির মুখে পড়তে না হয়৷ তাদের তো মনিটরিং-এর আওতায় রাখতে হবে৷ সেটা যদি ফ্যামিলি করে, তাহলে আমাদের আর তল্লাশির প্রয়োজন পড়বে না৷ এই অভিযান নিয়ে নেগেটিভ-পজেপিভ দু'ধরনের মতই আছে৷ কিন্তু তাতে আমাদের কিছু করার নেই৷ কারণ মনিটরিং-এর আওতায় কোনো না কোনোভাবে থাকতেই হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন