কিশোরদের গ্যাং: কারণ বিনোদনহীনতা, পরিবার এবং অর্থ | বিশ্ব | DW | 30.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

কিশোরদের গ্যাং: কারণ বিনোদনহীনতা, পরিবার এবং অর্থ

কিছুদিন পরপরই ঢাকায় এক গ্রুপ কিশোরের হাতে আরেক গ্রুপের কিশোর খুন হচ্ছে৷ কিশোরদের এমন সংগঠিত হয়ে অপরাধে জড়ানোকে বলা হচ্ছে ‘গ্যাং কালচার'৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নানা তৎপরতার পরও থামানো যাচ্ছে না তাদের৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করেন, পারিবারিক সংস্কৃতি ভেঙে পড়ার কারণেই থামানো যাচ্ছে না এই গ্যাং কালচার৷

সর্বশেষ সোমবার শবে বরাতের রাতে ঢাকার সূত্রাপুরে দুই গ্রুপ কিশোরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়৷ এতে একজন কিশোর নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছে৷ এই ঘটনায় তিন কিশোরকে আটক করেছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ৷

সূত্রাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ মামুনুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নিহত কিশোর অনন্তের (১৬) বাবা বাদি হয়ে ৬ কিশোরের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছে৷ ওই মামলার আসামি তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে৷’’ যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের বয়স ১৪-১৫ বলে জানান তিনি৷

এই ঘটনায় সাজু আহমেদ (১৪) নামে আরেক কিশোর আহত হয়েছে৷ আহত কিশোর সাজু জানিয়েছে, তারা ৮-৯ জন নামাজ পড়ে ঘুরাফেরা করে বাসায় ফেরার পথে ফরাশগঞ্জ ঘাট এলাকায় সাজুকে মারধর করে ফেরদৌসসহ ১০-১২ জন৷ তখন অনন্ত প্রতিবাদ করতে এগিয়ে গেলে ফেরদৌস অনন্তের পেটে বেশ কয়েকবার ছুরিকাঘাত করে৷ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন৷ নিহত অনন্ত স্থানীয় জুবলী স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল৷ দুই ভাইয়ের মধ্যে অনন্ত ছিল ছোট৷

অডিও শুনুন 04:32

আদালত রিমান্ডে দিলে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব: ওসি

সূত্রাপুর থানার ওসি বলেন, ‘‘গত ১০ মার্চ একটি চাকুসহ অনন্তকে আমরা আটক করেছিলাম৷ পরে তার বাবা মুচলেকা দিয়ে নিয়ে যায়৷ তাকে গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ দুই দিন আগে আবার ঢাকায় এসেছে৷ আজই তার গ্রামে চলে যাওয়ার কথা ছিল৷ আসলে এই হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে ১৬ বছরের কিশোরের সামনে ১৪ বছরের কিশোরের সিগারেট খাওয়ায় সিনিয়রের সম্মানহানি হয়েছে বলে৷ এটা নিয়েই আসলে তাদের বিরোধ৷’’ 

সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক নেহাল করিম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আইনের শাসন না থাকার কারণেই এই ধরনের কিশোর গ্যাং কালচার গড়ে উঠেছে৷ পাশাপাশি পারিবারিক সংস্কৃতিরও অভাব৷ ঢাকা শহরে খেলার মাঠ নেই, আমরা ছোটবেলায় পড়ার বাইরে খেলাধুলা করে সময় কাটাতাম৷ এরা তো মহল্লার মোড়ে প্রাচীরের উপর বসে আড্ডা দেয়৷ সেখানে ভালো কোনো আলোচনা হয় না৷ আরেকটা বিষয় হলো, অপেক্ষাকৃত নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলেরাই এই ধরনের গ্রুপে বেশি জড়াচ্ছে৷ তারা মাদকাসক্ত হচ্ছে, সেখান থেকে চুরি-ছিনতাই করছে৷’’ কিন্তু উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেরাও যে এমন গ্যাং কালচারে জড়িয়ে পড়ছে সে কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ায় অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন, ‘‘এ কারণেই তো বলছি, পারিবারিক সংস্কৃতি যতদিন গড়ে না উঠবে, এ থেকে পরিত্রানের পথ নেই৷’’

অডিও শুনুন 03:52

আইনের শাসন না থাকার কারণেই কিশোর গ্যাং কালচার গড়ে উঠেছে: অধ্যাপক নেহাল করিম

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকায় অর্ধশত ‘কিশোর গ্যাং’ এর নাম আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রয়েছে৷ ১৫-২০ বছর বয়সি কিশোরদের প্রতিটি গ্রুপে ১০ থেকে ২০ জন করে সদস্য থাকে৷ অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন, ‘‘আগে গ্রামের মুরুব্বিকে সবাই ভয় পেতো৷ এখন আকাশ সংস্কৃতির কারণে মুরুব্বিদের তারা ভয় পায় না, উল্টো মুরুব্বিরাই ভয়ে থাকেন৷ তারা দক্ষিণের যে ছবিগুলো দেখছে, সেখানে মারামারিই প্রাধান্য পাচ্ছে৷ এগুলো তাদের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে৷’’

এর আগে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের দুই শতাধিক সদস্যকে আটক করে সংশোধনাগারে পাঠায়৷ মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ‘স্টার বন্ড গ্রুপের’ ১৭ সদস্যকে আটক করে এক বছর করে সাজা  দেওয়া হয়৷ এছাড়া ‘জুম্মন গ্রুপ’, ‘চান-জাদু (জমজ ভাই) গ্যাং’, ‘ডেভিল কিং ফুল পার্টি’, ‘ভলিয়ুম টু ও ভাণ্ডারি'সহ বিভিন্ন নামে কিশোর গ্রুপ রয়েছে৷ এর আগে বরগুনার ‘নয়ন বন্ড গ্রুপ’ও দেশজুড়ে আলোচনায় আসে৷

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিউটের অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এইসব গ্যাং কালচারের কিশোরদের অধিকাংশই মাদকসেবী৷ মাদক এমন একটি জিনিস সেটা ব্রেনের নার্ভকে নষ্ট করে দেয়৷ ফলে তার হিতাহিত জ্ঞান থাকে না বা মুহূর্তেই সে উত্তেজিত হয়ে পড়ে৷ এসব কারণে কিশোরদের মধ্যে অপরাধ-প্রবণতা বাড়ছে এবং খুনোখুনির ঘটনা বেশি হচ্ছে৷ এই কিশোররা নিজেকে ক্ষমতাবান করতে চায়৷ এ জন্য গড়ে তোলে গ্যাং৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়