‘কিভাবে শোধ করবো ঋণ′ | আলাপ | DW | 10.07.2020

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘কিভাবে শোধ করবো ঋণ'

সিঙ্গাপুর থেকে ফেরা শ্রমিক রাশেদুল হাসান রুমি

করোনার মহামারীতে প্রবাসী অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিলেন। বিশাল ঋণের বোঝা এখনো মাথার উপর। কিন্তু দেশে ফিরতে হয়েছে। সামনে কি হবে? কিভাবে চলবেন? কিভাবে শোধ হবে ঋণ? ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে এসব নিয়ে উদ্বেগের কথা বলছিলেন সিঙ্গাপুর থেকে ফেরা টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রাশেদুল হাসান রুমি।

ডয়চে ভেলে : আপনি কোন দেশে কাজ করতেন? আর কেন দেশে চলে আসতে হলো?

রাশেদুল হাসান রুমি : আমি সিঙ্গাপুরে ছিলাম। বাংলাদেশের অনেক আগেই সিঙ্গাপুরে করোনার প্রভাব শুরু হয়েছে। সেই কারণে ওখানে খুব একটা কাজ ‍ছিলো না। এই সুযোগে অনেক কোম্পানি, বিশেষ করে আমার কোম্পানি বলেছে, অনেক সময় তো তোমরা চাইলেও ছুটি পাও না, তাই এখন ছুটিতে যাও। আমরা ছুটিতে চলে এলাম। এরপর তো বাংলাদেশেও শুরু হলো। সিঙ্গাপুরের অবস্থাও খারাপ হলো। কোম্পানি হুট করে পারমিট বাতিল করে দিলো। বলল, যদি পরিস্থিতি ভালো হয় তাহলে আবার আমাদের নিয়ে যাবে। দেশে এসে এখন আমরা বিরাট বিপদে পড়ে গেছি। বাইরে থেকে যেটা দেখা যাচ্ছে, আসলে সেটা না। আমরা অনেক খারাপ অবস্থায় আছি।

সিঙ্গাপুরে আপনার মতো আরো যারা কাজ করেন তারা কি ধরনের সমস্যায় পড়েছেন?

সিঙ্গাপুরে কিন্তু অভিবাসীরাই বেশি আক্রান্ত। ওখানে এখন কাজকর্ম নেই। যারা এখনো ওখানে আছেন তারা এখন বের হতে পারছেন না। যদিও সরকারের তরফ থেকে খাওয়া দাওয়া দেওয়া হচ্ছে। আর বাংলাদেশে যারা এসেছে তারা যেতে পারছে না। এখন পুরো বিষয়টা অনিশ্চিত। আসলে যেতে পারবো কি পারবো না কিছুই বুঝতে পারছি না। কারণ কোম্পানিরও কোন কাজ নেই। এখন কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কবে কাজ হবে সেটা তো অনিশ্চিত।

আপনার সঙ্গে কতজন এসেছেন?

এক ফ্লাইটে আমরা ১৯০ জনের মতো এসেছি। 

সবাই কি ওয়ার্ক পারমিট বাতিল হওয়ার কারণে ফিরে এসেছেন?

কিছু মানুষ ছুটিতেও এসেছেন। আর কিছু কোম্পানি পারমিট নবায়ন করেনি, তাই চলে এসেছেন। আমাদের মতো ফেব্রুয়ারি-মার্চে যারা এসেছেন তারা মূলত কাজে ভাটা পড়ার কারণে চলে এসেছেন। তাদের চীনের সঙ্গে ব্যবসা ছিলো। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে আসলে ওখানে এখন কোন কাজ নেই।

দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে কি আপনাদের কোন আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে?

না, আমাদের কেউ কোন আর্থিক সুবিধা দেয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে কি কেউ আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে?

না, আমাদের কেউ কিছু বলেনি। অন্যদের বলেছে কি-না জানি না। কিন্তু আমাদের ফ্লাইটে যারা এসেছেন তাদের কেউ কিছু বলেনি। আমরা স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা নিরিক্ষা করে চলে এসেছি।

‘আমার এখনো আশায় আছে, আমি যেতে পারবো’: রাশেদুল হাসান রুমি

এলাকায় যাওয়ার পর এলাকার মানুষ আপনাকে কিভাবে গ্রহণ করেছে?

আসলে এলাকায় আসার পর আমি এক মাস বাড়ি থেকেই বের হইনি। বাজারে যাওয়া বা মানুষের সঙ্গে মেলামেশা সেটা করিনি। আমি আসার পরই বিদেশ ফেরতদের নিয়ে হুলস্থুল শুরু হলো। আমি বের না হওয়ার কারণে এগুলোর মধ্যে পড়িনি।

আপনি কবে সিঙ্গাপুর গেছেন, আর যেতে কত টাকা খরচ হয়েছে?

আমি ২০১৭ সালের নভেম্বরে সিঙ্গাপুরে গেছি। আর যেতে প্রায় ৭ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে।

যতদিন ছিলেন তাতে কি খরচের টাকা উঠেছে?

আসলে সত্যি বলতে কি, খরচের টাকা উঠেনি। কারণ আমি যে টাকা পাঠিয়েছি, সেটা তো সংসার চালাতেও খরচ হয়েছে। এই কারণে আমার ঋণের টাকা শোধ হয়নি।

কত টাকা ঋণ  আছে আপনার?

আমার এখনো ৪-৫ লাখ টাকা ঋণ আছে।

আপনার পরিবারের সদস্য কতজন? আয়ের উৎস কি?

আমার পরিবারের সদস্য সাত জন। স্ত্রী, সন্তান ছাড়াও আমার মা বেঁচে আছেন। আর ভাই, তার স্ত্রী ও সন্তান আছে। আমাদের যৌথ পরিবার। আমার ভাই একটি কোচিং সেন্টারে চাকরি করতো। এখন তো সেটাও বন্ধ। আসলে আমাদের এখন কোন উপার্জনই নেই।

তাহলে সংসার চলছে কিভাবে?

আমি বিদেশ থেকে কিছু টাকা এনেছিলাম। সেটা দিয়ে চলেছি। এক সপ্তাহ আগেও এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার করেছি। এভাবেই চলছে।

আপনি ঋণ শোধ করবেন কিভাবে?

আমার এখনো আশায় আছে, আমি যেতে পারবো। কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারা এ কথা বলেনি, যে নেবে না। কিন্তু কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আর কবে যেতে পারবো সেটা নিয়েই দুঃচিন্তায় আছি।

ভবিষ্যত নিয়ে আপনি এখন কতটা চিন্তিত?

বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে যে, প্রবাসীযারা ফিরেছে তারা কষ্টের মধ্যে আছে। কিন্তু আসলেই কতটা কষ্টে আছি, সেটা বাইরে থেকে বোঝা যাবে না। আমরা আসলে অনেকগুন বেশি কষ্টে আছি। এখন আসলে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছি। যেতে পারবো কি-না? না যেতে পারলে কি করবো? ব্যবসা করতে হলে টাকা পাবো কোথায়? এসব নিয়ে আসলে চিন্তায় আছি।

সরকারের কাছে আপনার চাওয়া কি?

এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পাইনি। এখন কতদিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে জানি না। যদি এক বছর লাগে তাহলে কি হবে? এক মাসই তো চলতে পারছি না। তাই নগদ টাকা না, আমরা আসলে সরকারের কাছে কাজ চাই। স্বল্প সময়ের জন্য হলেও আমাদের কাজ দেওয়া হোক।

সিঙ্গাপুরে আমাদের দূতাবাস কি কোন খোঁজ খবর নেয়?

আমি আসলে কখনও জানার চেষ্টা করিনি। ফলে খোঁজ খবর নেয় কি-না আমি জানি না।

যারা আছেন তাদের সঙ্গে কি যোগাযোগ হয়?

হ্যাঁ হয়। আমার বন্ধুদের আমি ফোন করি। তারা বলেন, এখনও তাদেরই কোন কর্মসংস্থান করতে পারেনি। ফলে বাইরে যারা আছে তাদের সহসাই নেবে বলে মনে হচ্ছে না। আর কোম্পানি চাইলেও এখন শ্রমিক নিতে পারবে না। ওই দেশের সরকারের উপর সবকিছু নির্ভর করছে।

আপনার সঙ্গে আর কোন দেশের মানুষ কাজ করতেন?

আমাদের দেশের বাইরে ভারতীয় অনেক শ্রমিক কাজ করতেন।

তাদের সঙ্গে কি আপনাদের কোন বৈষম্য লক্ষ্য করেছেন?

হ্যাঁ, বৈষম্য তো আছেই। আমাদের চেয়ে ভারতীয়দের বেতন বেশি। একই কাজ করি, তারপরও ওদের বেতন বেশি। কেন বেশি জানি না। হয়তো সরকারি তরফ থেকে এগুলো দেখা হয়। সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার যেসব শ্রমিক আছে তাদের চেয়ে অনেক সময় বাঙালিরা অনেক বেশি যোগ্য। অথচ একজন সিঙ্গাপুরের শ্রমিকের বেতন যেখানে ১২০ ডলার, সেখানে আমাদের বেতন খালি ২০ ডলার। এগুলো কাউকে কিছু বলিনি। শুধু নিজেরাই আক্ষেপ করি।

আপনি ফেরার পর পরিবারের সদস্যরা কিভাবে দেখছে?

দুই ধরনের বিষয় আছে। এই মহামারীতে আমি বাড়ি ফিরেছি তাতে আমার মা খুবই খুশি। যে সন্তান কাছে আছে। আবার কিভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে আমার সঙ্গে মাও কিন্তু খুবই উদ্বিগ্ন। আমি আবার যেতে পারবো কি-না? ভবিষ্যতে কি হবে এগুলো নিয়ে তো চিন্তায় আছে।

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়