কিছু পেশায় অটিজম বাড়তি সুবিধা বয়ে আনে | অন্বেষণ | DW | 11.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পরিবেশ

কিছু পেশায় অটিজম বাড়তি সুবিধা বয়ে আনে

অটিজম থাকলে বেশিরভাগ মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে৷ অথচ এমন মানুষের কিছু অসাধারণ প্রতিভার সদ্ব্যবহার করলে বিস্ময়কর সাফল্য পাওয়া যেতে পারে৷ মিউনিখের এক কোম্পানি সেই কাজই করছে৷

অটিজিমের বৈশিষ্ট্য

অনেকের কাছে বৃষ্টির পানি গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনের উপর কয়েকটি বিন্দুমাত্র৷ কিন্তু ইয়ুর্গেন শুখ তার মধ্যে এমন নক্সা দেখতে পান, যা পথ থেকে তাঁর মনোযোগ সরিয়ে নেয়৷ তিনি বলেন, ‘‘ভালো দিনে আমার কিছু এসে যায় না৷ কিন্তু খারাপ দিনে আমি গাড়ি চালাই না, কারণ আমি মনোযোগ দিতে পারি না৷ যেমন খারাপ দিনে বৃষ্টি হলে আমি বৃষ্টির প্রতিটি বিন্দুর দিকে মনোযোগ দেই৷''

‘অ্যাস্পারগার সিন্ড্রোম'-এ ভুগছেন৷ এটি একটি অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার৷ এর ফলে বাকিদের মতো দেখা, শোনা বা অনুভব করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়৷ তখন সমাজের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে৷

প্রতিভার সদ্ব্যবহার

শুখ নিজে আউটিকন কোম্পানিতে কাজ করেন৷ মিউনিখে কোম্পানির সদর দপ্তর৷ অটিজম থাকলে অনেক মানুষের যে বিশেষ প্রতিভা দেখা যায়, এই কোম্পানি তার সদ্ব্যবহার করে৷ তিনি বিভিন্ন কোম্পানির ওয়েবসাইট প্রোগ্রাম করেন এবং অ্যাপ তৈরি করেন৷ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি যতটা কাজ সারতে পারেন, বাকিদের তার জন্য এক দিন সময় লাগে৷ ফলে সফটওয়্যারের কাঠামো সম্পর্কে ভাবনাচিন্তা করতে করতে তিনি দীর্ঘ পথ হাঁটে বেরিয়ে পড়তে পারেন৷

ভিডিও দেখুন 04:14

যেসব কাজে অটিজম বাড়তি সুবিধা

ইয়ুর্গেন শুখ নিজের অতীত সম্পর্কে বলেন, ‘‘প্রোগ্রামিং চিরকালই আমার শখ ছিল৷ বেশ কম বয়সে প্রথম কম্পিউটারের মালিক হয়েছিলাম৷ মনে হয়েছিল, সেটি ঠিক আমার ইচ্ছামতো কাজ করছে না৷ তখন কম্পিউটার বশে আনার কায়দা শিখে ফেললাম৷ কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু করলাম৷ কিন্তু যখন বুঝলাম তাতে কোনো লাভ হচ্ছে না, তখন পাঠক্রম থেকে বেরিয়ে এলাম৷ আমার নিজের প্রোফেসরদের তুলনায় আমি বেশি চালাকচতুর ছিলাম৷''

বাড়তি ক্ষমতা

আউটিকন কোম্পানি এমন মানুষকে চাকুরি দেয়, অটিজমের সঙ্গে সঙ্গে যাদের বিস্ময়কর কগনিটিভ ক্ষমতা রয়েছে৷ যেমন তাঁরা দীর্ঘ সংখ্যা নিয়ে কাজ করার সময়ও মনোনিবেশ করতে পারেন৷ সোর্স কোডে সামান্যতম ত্রুটিও তাঁদের চোখে পড়ে৷ অন্যান্য কর্মীদের ক্ষেত্রে অটিজম আরও চোখে পড়ার মতো৷ আউটিকন কোম্পানিতে আসার আগে তাঁদের অনেকেরই কোনো চাকুরি ছিল না৷ তাঁরা জগতকে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করেন৷ কেউ কেউ একেবারেই অগোছালো হতে পারে না৷ পরের দিনের পোশাক তাঁদের নিখুঁতভাবে সাজাতে হয়৷ অনেকে অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণভাবে ভাবেন এবং অরাজকতা কাটিয়ে সবকিছু নিয়মের বেড়াজালে বাঁধতে চান৷ অথবা তাঁরা জটিল প্রণালী বিশ্লেষণ করে নিমেষের মধ্যে তার অংশগুলি বুঝে ফেলতে পারেন৷

ইয়ুর্গেন শুখ বুঝতে পারলেন, যে কর্মীরা তাঁদের অটিজমের ধাক্কা সামলাতে পারছেন না৷ ২০ বার চাকুরি বদল করে তিনি অবশেষে আউটিকন কোম্পানিতে যোগ দিয়েছেন৷ সেখানে তাঁর ক্ষমতার কদর করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন৷ ইয়ুর্গেন বলেন, ‘‘আমার চাকুরিজীবনে বুঝতে পেরেছি, যে মানুষ আমার কাজের ধরন ঠিক বুঝতে পারেন না৷ তাঁরা দেখেন, আমি কীভাবে দিনে মাত্র এক ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে তাঁদের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে কাজ সেরে ফেলি৷''

খুঁতখুঁতে মনোভাব

আউটিকন কোম্পানির ডিটার হান এমন কর্মীদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেন, ‘‘অটিজম থাকলে বেশিরভাগ মানুষের শ্রমবাজারে সমস্যা হয়, কারণ তাঁরা সবকিছু নিখুঁতভাবে করতে চান৷ তাঁরা আঙুল দিয়ে দুর্বল জায়গা দেখিয়ে স্পষ্ট বলে দেন কী ভুল হচ্ছে৷ অনেকেই এমন কথা শুনতে চান না৷ তাই কর্মস্থলে উন্নতি কঠিন হয়ে পড়ে৷''

আউটিকন কোম্পানিতে ২০০ কর্মী কাজ করেন৷ ইউরোপ ও উত্তর অ্যামেরিকায় কোম্পানির ১৪টি দফতর রয়েছে৷ তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে তারা বড় বড় কোম্পানিগুলিকে পরামর্শ দিয়ে থাকে৷ বিশেষ করে সফটওয়্যারের ত্রুটি বিশ্লেষণের কাজে এই কোম্পানি বিশেষভাবে পারদর্শী৷

অটিজম থাকলে বেকারত্বের আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়৷ অথচ নিয়োগকর্তারা তাঁদের অসাধারণ প্রতিভা সম্পর্কে সচেতন হলে সেই সংখ্যা অনেক কমে যেতে পারে৷

ডনিকা ডেনেভা/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন