কায়রো শহরে সবুজের ছোঁয়া আনতে অভিনব উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 11.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

কায়রো শহরে সবুজের ছোঁয়া আনতে অভিনব উদ্যোগ

সাপও মরলো, লাঠিও ভাঙলো না – এমন সমাধানসূত্র কে না চায়৷ কায়রো শহরে দরিদ্র এলাকায় ছাদের উপর বাগান বসিয়ে পরিবেশ ও অর্থনীতির উন্নতির চেষ্টা চালাচ্ছে এক এনজিও৷

ছাদের উপর চাষবাস

মোহামেদ তাহা প্রতিদিন নিজের বাগানের পরিচর্যা করেন৷ এল বাসাতিন এলাকার মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে তিনি ৩ বছর ধরে ছাদের বারান্দায় নানা ধরনের শাকসবজির চাষ করে চলেছেন৷ তাঁর প্রচেষ্টায় কায়রো শহরের কংক্রিটের জঙ্গলের মধ্যে একফালি সবুজের ছোঁয়া এসেছে৷ মোহামেদ বলেন, ‘‘আমি মূলত এই এলাকা ও ছাদের উপর পরিষ্কার এক পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই৷ এর বেশি কিছু নয়৷ এতে যা আয় হয়, তা মসজিদের চ্যারিটি ট্রাস্টে চলে যায়৷''

তিনি প্রায়ই নিজের নাতনিকে সঙ্গে আনেন৷ সে কাঁচা পাতাকপি খেতে ভালবাসে৷ মোহামেদকে চাষের সরঞ্জামের দাম মেটাতে হয় নি৷ কায়রো-ভিত্তিক সংগঠন শাদুফ বিনামূল্যে সব বন্দোবস্ত করেছে৷ আট বছর আগে শেরিফ হোসনি ও তাঁর ভাই এই এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন৷ তাঁরা হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতি প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ তাতে খুব কম পানির প্রয়োজন হয়৷ মাটিও লাগে না৷ প্রায় যে কোনো ছাদের উপরেই কার্যকর এই ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়৷ শেরিফ হোসনি বলেন, ‘‘এমন প্রকল্প স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য বিশেষভাবে কার্যকরী হয়৷ ছাদে বাগান বসিয়ে শাকসবজি বিক্রি করে তাদের আয় কিছুটা বাড়াতে পারে৷ ফলে শুধু পরিবেশগত নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ সুবিধা বয়ে আনছে৷''

হেলাওয়ানের মতো অপেক্ষাকৃত দরিদ্র এলাকায় বাড়ির ছাদ প্রায়ই পুরানো আবর্জনায় ভরে থাকে৷ শাদুফ সেখানে ৫০০ বাগান তৈরি করছে৷ সেখানে একটি ভবনের বাসিন্দারা মাস তিনেক আগে তাদের মাইক্রো ফার্ম গড়ে তুলেছেন৷ এবার প্রথম ফসল তোলার সময় এসেছে৷ ওম মোহামেদ এই উদ্যোগের সুফল পাচ্ছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘খুব সুন্দর৷ সবাই যদি এমনটা করতো! যাদেরই খালি জায়গা রয়েছে, তাদের এমনটা করা উচিত৷ এখানে ছাদ তো কাজেই লাগে না৷''

ভিডিও দেখুন 04:27

মিশরের সবুজ ছাদ

উন্নয়ন সাহায্যের সুফল

ছাদের উপর বাগান গড়ে তুলতে প্রায় ৬৩০ ইউরো ব্যয় হয়৷ কিন্তু পরিবারগুলিকে মাত্র ২০ ইউরো দিতে হয়৷ সুইজারল্যান্ডের এক ফাউন্ডেশন ৯৫ শতাংশ ব্যয়ভার বহন করে৷ শাদুফ উদ্বৃত্ত শাকসবজি কিনে নিয়ে অন্যান্য স্থানীয় এনজিও-র সাহায্যে কায়রো শহরে বিক্রি করে৷

শাদুফের কমিউনিটি ম্যানেজার মোতাসেম মোস্তফা ৮ বছর আগে প্রথমবার ছাদের উপর বাগান গড়ে তোলেন৷ তারপর থেকে প্রায় ২০০টি বাগান তৈরি করে দিয়েছেন তিনি৷ মোতাসেম বলেন, ‘‘৬ই অক্টোবর নামের এলাকার সপ্তম বসতির এই ছাদের উপর আমরা দু'টি পরিবারের সঙ্গে কাজ করছি৷ প্রত্যেক পরিবার একটি করে ইউনিট পাবে৷ সব মিলিয়ে ৪২০টি কাপ, যাতে ৪২০টি গাছ থাকবে৷''

কত ঘনঘন পানি দিতে হবে, কোন গাছ ভালোভাবে বড় হয়, শাদুফ সংগঠনের কর্মীরা সবকিছু ভাল করে বুঝিয়ে বলেন৷ শাদুফের প্রতিনিধি সোহেইলা মোস্তফা বলেন, ‘‘৯ থেকে ১৫ বছর বয়সি মেয়েদের নিয়ে প্রকল্পে আমরা বীজ বপন করেছি৷ যে কোনো বয়সের মানুষ এই হাইড্রোপনিক ব্যবস্থা ব্যবহার শিখতে পারে৷ এই প্রক্রিয়া মোটেই জটিল নয়৷ পরেও অসুবিধা হয় না৷''

বাসিন্দারা সব কাপের গায়ে উইকিং স্ট্রিপ বা ফিতা লাগানোর কাজও শেখেন৷ এগুলি শিকড়ে পানি সরবরাহ করে৷ তারপর বীজ যোগ করা হয়৷ এবার মোলোখিয়া গাছ বেছে নেওয়া হয়েছে৷ মিশরে এই উদ্ভিদের ব্যাপক চাষ হয়৷ এই গাছ থেকে লেটুস পাতা পাওয়া যায়৷ কয়েক মাস পর গাছগুলি বড় হলে পরিবারগুলি মাসে দুবার পাতা তুলতে পারবেন৷ হেলাওয়ান এলাকার বাসিন্দা মোহামেদ তান্তাউই মনে করেন, ‘‘গাছ লাগানো ছাড়াও আমরা ছাদের সৌন্দর্য বাড়াচ্ছি৷ মানুষ জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে বা কাছে এলে সুন্দর দৃশ্য দেখতে পাবেন৷''

কয়েকটি পরিবারের এমন উৎসাহ বাকিদেরও সেই পথে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে, এমনটা আশা করা হচ্ছে৷ ছাদের উপর বাগান কায়রো শহরকে এখনই কিছুটা অন্তত সবুজ করে তুলতে সাহায্য করছে৷

এল তুনি/মিলকে/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন