কাশ্মীর হারাতে বসেছে ‘বিশেষ মর্যাদা’ | বিশ্ব | DW | 05.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

কাশ্মীর হারাতে বসেছে ‘বিশেষ মর্যাদা’

১৯৪৭ সালে ভারতের অংশ হবার পর থেকেই জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের জন্য বরাদ্দ ছিল সংবিধানসম্মত ‘বিশেষ মর্যাদা'৷ সোমবার রাজ্যসভায় এই মর্যাদা সরিয়ে নেবার প্রস্তাব পাশ হয়েছে৷

১৯৪৭ সালে কাশ্মীরকে পাকিস্তানের বদলে স্বাধীন ভারতের অংশ হতে দিতে রাজি হন তৎকালীন কাশ্মীরের রাজা হরিসিং৷ নতুন রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অংশ হলেও ভারতীয় সংবিধানে তার জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ‘বিশেষ মর্যাদা'৷ এতদিন পর্যন্ত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নং ধারা অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে শীর্ষ ক্ষমতা থাকতো রাজ্য সরকার ও বিধানসভার হাতে৷ সেখানে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের কোনো স্থান ছিল না৷

কাশ্মীরের এই বিশেষ মর্যাদা স্বাধীনতা পরবর্তী বছরগুলিতে হয়ে উঠেছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতানৈক্যের কারণ৷ বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি জন্মলগ্ন থেকে ছিল এই বিশেষ বিধানের বিপক্ষে৷ উল্টোদিকে কংগ্রেস ও বামপন্থি দলগুলির বেশির ভাগই ছিল কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রিত স্বায়ত্ত শাসনের পক্ষে৷

সংবিধান কার্যকর হবার ৬৯ বছর পর সোমবার লোকসভায় একটি প্রস্তাব পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ৷ সেখানে সংবিধানের ৩৭০ ধারার অবসানের দাবি তোলেন তিনি৷ বর্তমান সংসদে ভারতীয় জনতা পার্টির সবচেয়ে বেশি সদস্য থাকার ফলে রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট পায় এই বিল৷ একই দিনে তাতে স্বাক্ষর করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ৷ ফলে, কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা' এখন আইনত বাতিল হবার পথে৷

শুধু ‘মর্যাদা'-ছিন্নই নয়, জম্মু ও কাশ্মীর হারাতে চলেছে রাজ্যের মানও৷ পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীর ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বা ‘ইউনিয়ন টেরিটোরি' করা হবে যথাক্রমে লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর নামে৷ উল্লেখ্য, ভারতের আইন অনুযায়ী, রাজ্যের তুলনায় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পরিচালনায় কেন্দ্র সরকারের ক্ষমতা থাকে অনেকটাই বেশি৷

বিভক্ত বিরোধী পক্ষ, সংবাদমাধ্যম

এই বিলটি লোকসভায় পেশ করা হলে তা ‘ভারতীয় সংবিধানকে খুন করার সমান' বলেন রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদ৷ অন্যদিকে, বিজেপির জোটসঙ্গী দল পিডিপি'র সদস্য ও জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি একটি টুইটে জানান, ‘‘আমরা যারা গণতন্ত্রে আস্থা রাখতাম, তাদের ঠকানো হয়েছে৷ এতে করে কাশ্মীরের জনতা ভারতীয় সংবিধানের প্রতি আস্থা আরো বেশি হারাবে৷''

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহ থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল যে, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা হয়তো কেড়ে নেওয়া হবে৷ এর ফলে সেখানে তৈরি হতে পারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, আঁচ করছিলেন সরকারসহ অনেকেই৷ সে-কারণেই, রোববার ৫,০০০ ব্যাটেলিয়ন সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়, জারি করা হয় ১৪৪ ধারা৷ পাশাপাশি মুফতিসহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন গৃহবন্দি৷

কাশ্মীরকে ঘিরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও বিভক্তি চোখে পড়ছে৷ এক অংশ যদিও এই বদলকে দেখছেন ভারতের বহু প্রতীক্ষিত জয় হিসাবে, আরেক অংশে সরকারের সমালোচনা করছেন মিডিয়ার বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব৷ বর্তমানে টুইটার সরগরম কাশ্মীরের খবরেই৷ শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, কাশ্মীরে ছিন্ন রয়েছে ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিষেবা৷ ফলে এখনই মাঠপর্যায়ের খবর পাওয়া দুষ্কর৷

এসএস/এসিবি (এপি, রয়টার্স, পিটিআই)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়