কাশ্মীর সংকটের মধ্যেই চীনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 11.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

কাশ্মীর সংকটের মধ্যেই চীনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চীন সফরে গেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর৷ ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর এ সফরে কাশ্মীর ইস্যুটিই আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর এতোদিন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য নামে বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছিল৷ কিন্তু নতুন দিল্লির আকস্মিক সিদ্ধান্তে রাতারাতি বদলে যায় এ মর্যাদা৷ রাজ্য ভেঙে তৈরি করা হয় দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল- লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীর৷

এরপর ‘কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত একা সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা', এমন অবস্থান নেয় চীন৷ ভারতের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দাও জানায় দেশটি৷ এমনকি এতে চীনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব নষ্ট হচ্ছে বলেও দাবি জানানো হয়৷ ঐতিহাসিক যে সীমানা কাশ্মীর অঞ্চলের ছিল তা এখন পাকিস্তান, ভারত ও চীন- এই তিনটি দেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে৷

কাশ্মীরের পুরোটাই নিজেদের দাবি করে ভারত ও পাকিস্তান৷ ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে এ নিয়ে দেশ দুটির মধ্য়ে রয়েছে তীব্র বিরোধ৷ বর্তমানে ভারতের নিয়ন্ত্রণে কাশ্মীরের শতকরা ৪৫ ভাগ অঞ্চল রয়েছে৷ বেশিরভাগ কাশ্মীরির বাসও করেন ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

পাকিস্তানের দখলে রয়েছে কাশ্মীরের ৩৫ শতাংশ, বাকি ২০ শতাংশের দখলে চীন৷

ভারতের সিদ্ধান্তের পর চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিইং জানিয়েছেন, ‘‘পশ্চিমাঞ্চলের ভারত-চীন সীমান্তে চীনা এলাকা ভারতে অন্তর্ভূক্ত করার প্রতিবাদ বরাবরাই জানিয়ে এসেছি আমরা৷''

তিনি বলেন, ‘‘ভারত সবসময় নিজেদের আইন পালটে চীনের সার্বভৌমত্ব নষ্টের পাঁয়তারা করেছে৷ ভারতের এমন সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য এবং এর কোনো আইনী ভিত্তি নেই৷''

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ দুটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ চলছে৷ মাঝেমধ্যে এ নিয়ে সীমান্তে সংঘর্ষেও জড়িয়েছে দেশ দুটি৷

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের প্রায় ৯০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিজেদের ‘দক্ষিণ তিব্বত' বলে দাবি করে চীন৷ অন্যদিকে চানের ‘আকসাই চীন' এলাকার ৩৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিজেদের কাশ্মীরের অংশ দাবি করে ভারত৷

পাকিস্তানের পক্ষে চীন

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্তের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান৷ রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার ও প্রত্াহার ছাড়াও বিভিন্ন বৈশ্বিক পরাশক্তির কাছে নালিশও জানিয়েছে তারা৷ এরই অংশ হিসেবে দুদিন আগেই বেইজিং সফর করে এসেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মোহাম্মদ কোরায়েশি৷ চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকের পর বেইজিং ঘোষণা দেয়, পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় ‘বিচার' চাওয়ার৷

বেইজিংয়ের সমর্থনে কাশ্মীর ইস্যুটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের করা হবে বলে শনিবার জানিয়েছে ইসলামাবাদ৷

এক সংবাদ সম্মেলনে কোরায়েশি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমি চীনকে জানিয়েছি যে পাকিস্তান সরকার এ বিষয়টিকে নিরাপত্তা পরিষদে তুলতে চায়৷ আমাদের চীনের সহায়তা লাগবে৷ চীনও আমাদের সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷ ''

ভারত অবশ্য শুরু থেকেই কাশ্মীর ইস্যুটিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে দাবি করে আসছে৷ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘‘ভারত কখনও অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করে না, অন্য দেশের কাছেও ভারত এমন আচরণ আশা করে৷''

পারস্পরিক অবিশ্বাস

১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকে চীন-ভারত সম্পর্ক অনেকটাই অবিশ্বাসের দোলাচলে আগাগোড়া মোড়ানো৷ তিব্বতের ধর্মীয় গুরু দালাইলামাকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত, অন্যদিকে ভারতের আঞ্চলিক শত্রু পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েই চলেছে চীন৷

গত এক দশক ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি বাড়িয়ে চলেছে চীন৷ এ বিষয়টিকে কখনই ভালোভাবে নেয়নি ভারত৷ অন্যদিকে জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাড়তে থাকা বন্ধুত্বকে ভালো চোখে দেখে না চীনও৷

শ্রীনিবাস মজুমদারু/এডিকে

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন