কাশ্মীর ইস্যু থেকে লাভবান হতে উদ্যোগী বলিউড | বিশ্ব | DW | 04.03.2019

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

কাশ্মীর ইস্যু থেকে লাভবান হতে উদ্যোগী বলিউড

পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা এবং বালাকোটে ভারতের বিমান হামলার পর পুলওয়ামা এবং বালাকোট নাম দুটিকে জুড়ে সিনেমার নাম নথিভুক্তিকরণের হিড়িক পড়ে গেছে ভারতীয় সিনেমায়৷

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর ১০ জন সশস্ত্র জঙ্গির একটি দল সমুদ্রপথে ভারতে ঢুকে মুম্বই শহরের ১২টি জায়গায় ভয়ংকর হামলা চালিয়েছিল৷ কমপক্ষে ১৭৪ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ গিয়েছিল সেই হামলায়, জখম হয়েছিলেন অন্তত ৩০০ জন৷ জায়গাগুলির মধ্যে একটি ছিল গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ার কাছে তাজমহল হোটেল৷ এই হামলার মাত্র তিন দিন পর, যখনও মুম্বইসহ বাকি দেশ ওই জঙ্গি নাশকতা এবং নৃশংসতার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি, পুলিশের ঘিরে রাখা গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া চত্বরে এবং তছনছ হয়ে যাওয়া তাজমহল হোটেলে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল হিন্দি সিনেমার পরিচালক রামগোপাল বর্মা এবং তাঁর দলবলকে৷ তখনই শোনা গিয়েছিল, ওই  সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে রামগোপাল একটি ছবি বানাতে চান এবং সেই কারণেই ওই ধ্বংসস্তূপে, ওই মৃত্যুমিছিলের মধ্যে তথ্য খুঁজতে সাত তাড়াতাড়ি ছুটে গেছেন৷ সে ছবি বানিয়েওছিলেন রামগোপাল, পাঁচ বছর পরে৷ কিন্তু তার আগেই প্রশ্ন উঠেছিল একজন চলচ্চিত্র পরিচালকের মানবিকতা এবং সংবেদনশীলতার অভাব নিয়ে৷ লোকজন বিরক্ত হয়েছিল৷

সেই একই বিরক্তি ফিরে এল ১৪ ফেব্রুয়ারির পুলওয়ামা জঙ্গি হামলা এবং সম্প্রতি ভারতীয় বিমানবাহিনীর সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের বালাকোটে গিয়ে বোমা হামলা চালিয়ে আসার ঘটনায়৷ জানা গেছে, পুলওয়ামা এবং বালাকোট শব্দদুটি আছে, এমন নাম দিয়ে নতুন ছবির নথিভুক্তির হিড়িক পড়ে গেছে মুম্বইতে৷

যদিও এমন নয় যে এই ধরনের ঘটনা নিয়ে ছবি এই প্রথম হচ্ছে৷ কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে, এবং জনপ্রিয় হয়েছে, প্রচুর টাকার ব্যবসা করেছে কাশ্মীরের উরি সেক্টরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সার্জিকাল স্ট্রাইক নিয়ে তৈরি ছবি ‘‌উরি'৷ তার আগে, নব্বইয়ের দশকে পশ্চিম সীমান্তের লঙ্গোয়াল সেক্টরে পাকিস্তান-ভারতের সংঘর্ষ নিয়ে তৈরি ছবি ‘‌বর্ডার'‌ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল৷ এছাড়া দু'‌দেশের বৈরিতাকে মূলধন করে সিনেমা তৈরির আরও বহু উদাহরণ হিন্দি ছবিতে আছে৷

অডিও শুনুন 02:03

জঙ্গি হামলা নিয়ে ছবি করা মনে হয় দেশাত্মবোধক একটা ব্যাপার, কিন্তু আদতে কি তাই: সৌমিক সেন

অসুস্থতার লক্ষণ?

কিন্তু পুলওয়ামার মতো ঘটনা, যেখানে কোনও প্রত্যক্ষ যুদ্ধ ছাড়াই ৪০ জন নিরাপত্তাকর্মীর প্রাণ যায়, বা বালাকোটে যে বিমান হামলা প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছিল, তা নিয়ে সিনেমা তৈরির এই হিড়িক কি অসুস্থতার লক্ষণ নয়?‌ 

মুম্বইয়ের বাঙালি পরিচালক সৌমিক সেন জানাচ্ছেন, তিনি নিজেও বিষয়টা নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছেন৷ কারণ সিনেমা তৈরি করাটা তাঁর কাছে একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া৷ প্রথমে বিষয় এবং গল্প নির্বাচন হয়, তার পর তার চিত্রনাট্য তৈরি হয়, অভিনেতা-অভিনেত্রী নির্বাচন হয় এবং তার পরে সিনেমার নাম ঠিক হয়, সেটি নথিভুক্ত হয়৷ কিন্তু এই যে গোটা ব্যাপারটা উলটোদিক থেকে শুরু হচ্ছে, এটা তিনি ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না৷ তা ছাড়া এই যে জঙ্গি হানা, বা বিমান হামলা নিয়ে ছবি হবে, এটাও তাঁর একটা অস্বস্তি৷ ‘‘‌মনে হয় খুব দেশাত্মবোধক একটা ব্যাপার, কিন্তু আদতে কি তাই?‌'‌' পালটা প্রশ্ন তুলেছেন সৌমিক৷

অডিও শুনুন 01:42

কেবল মুম্বই নয়, কলকাতার প্রযোজকরাও এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকতে রাজি নয়: অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

কিন্তু বালাকোট বা পুলওয়ামা দিয়ে নামকরণ করলেই কি মূল বিষয় বা ঘটনা কারও একচেটিয়া হয়ে যায়?‌ ডয়চে ভেলের এই প্রশ্নের জবাবে সৌমিক জানাচ্ছেন, ‘‘‌অ্যাবসলিউটলি নয়৷ আজকে আমি একটা নাম রেজিস্টার করলাম৷ কালকে যদি সেটা নিয়ে কোনও ছবি তৈরি না হয়, তা হলে একটা সময়ের পর সেই নথিভুক্তি বাতিল হয়ে যাওয়া উচিত৷'' অনন্তকালের জন্য কারও দখলে একটা নাম থেকে যাবে, এটা হওয়া উচিত নয় বলে সৌমিক ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন৷

কলকাতায়ও আগ্রহ

কলকাতার পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় আরও সোজাসাপ্টা নিজের আপত্তির কথা জানালেন৷ তার আগে তিনি একটা মজার কথা জানালেন, যাতে বোঝা গেল, কেবল মুম্বই নয়, কলকাতার প্রযোজকরাও এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকতে রাজি নয়৷ অনিকেত বললেন, ‘‘গতকাল একজন প্রযোজক, বড় একটি গোষ্ঠীর প্রযোজক আমার কাছে এসেছিল৷ এসে বলল, যে তাঁরা খুব আগ্রহী এরকম ধরনের একটা ছবি তৈরি করতে৷''‌ অনিকেতের পরিষ্কার বক্তব্য, ‘‘‌তার মানে দেশপ্রেম যে সারা দেশ জুড়েই একটা ভাল পণ্য, সবাই টের পেয়ে গেছে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন