কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে কতটা সহায়তা করবে চীন? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 13.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

কাশ্মীর

কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে কতটা সহায়তা করবে চীন?

কাশ্মীর সংকট নিরসনে ভারত এবং পাকিস্তান চীনের সহায়তা চাচ্ছে৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও চীন কাশ্মীর অঞ্চলে ভারতের নিয়ন্ত্রণের সমালোচনা করছে, তবে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের উপর প্রভাব পড়ে এমন কিছু করবে না তারা৷

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি গত শুক্রবার বেইজিং সফর করে কাশ্মীর সংকট সমাধানে দেশটির সহায়তা কামনা করেছেন৷ ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের ‘বিশেষ মর্যাদা' বাতিলের সিদ্ধান্তের পর এই সফর করেন তিনি৷

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের এই অবস্থান বদল, বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীর থেকে লাদাখকে আলাদা করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার যে সিদ্ধান্ত নতুন দিল্লি নিয়েছে, তার বিরোধিতা করেছে বেইজিং৷ চীন সরকারের মুখপাত্র ভারতের এই সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য' আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন যে, দেশটি কাশ্মীর অঞ্চল রক্ষায় পাকিস্তানের ‘আইনসম্মত অধিকার এবং আগ্রহকে' সহায়তা করবে৷

কোরেশি দাবি করেছেন, ইসলামাবাদ যদি কাশ্মীরের বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করে, তাহলে চীন তাতে ‘সম্পূর্ণ সহযোগিতার' প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷

কোরেশির সফরের পরপরই অবশ্য রবিবার তিন দিনের সফরে চীন গেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর৷ পূর্বনির্ধারিত এই সফর শুরুর পর সোমবার চীন জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি এবং স্থিতি বজায় রাখতে নতুন দিল্লির কাছ থেকে ‘গঠনমূলক ভূমিকা' প্রত্যাশা করে বেইজিং৷

প্রসঙ্গত, বহুবছর ধরে ভারত এবং পাকিস্তান কাশ্মীরকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে আসছে৷ তবে দুই দেশই কাশ্মীরের অংশবিশেষ নিয়ন্ত্রণ করছে৷ ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় থেকেই কাশ্মীর নিয়ে এই দুই প্রতিবেশী দেশের বিরোধ চলছে৷ বর্তমানে কাশ্মীরের ৪৫ শতাংশ ভারতের, ৩৫ শতাংশ পাকিস্তানের এবং বাকি বিশ শতাংশ চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে৷

বিশ্লেষকরা মনে করেন, আঞ্চলিক ইস্যুতে চীন ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের পক্ষ নিলেও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রক্ষার বিষয়টিও সেদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ৷ আর বর্তমানে চীন যে অবস্থায় রয়েছে, সেখান থেকে কাশ্মীর ইস্যুতে কঠোর কোনো উদ্যোগ নেয়াও দেশটির পক্ষে সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷

নতুনদিল্লিভিত্তিক লেখক এবং বিদেশ নীতি বিশেষজ্ঞ নারায়ণী বসু এই বিষয়ে বলেন, ‘‘চীন এই মুহূর্তে বেশকিছু আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে কাজ করছে৷ ফলে দেশটির পক্ষে এখন শুধু কাশ্মীরের দিকে মনোযোগ দেয়ার সুযোগ নেই৷ এ কারণে উভয়পক্ষ কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি নিয়ে নানা কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো ফল দেখা যাবে না৷''

চীনের অবস্থা যদি এমন হয় তাহলে সেটা কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে আরো নিঃসঙ্গ করে ফেলবে৷ এখন অবধি দেশটি এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক তেমন কোনো সহায়তা পায়নি৷ বরং রাশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন দিল্লির উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে৷ পাকিস্তানের মিত্র হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবও ইসলামাবাদকে কোনো সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়নি৷

কুনাল পুরোহিত (মুম্বাই)/এআই

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন