কাশ্মীর আছে কাশ্মীরেই, সমাধান কই? | বিশ্ব | DW | 23.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

কাশ্মীর আছে কাশ্মীরেই, সমাধান কই?

ভালো সময় কাটছে না ট্রাম্পের৷ চীনের সাথে মুখ থুবড়ে পড়েছে বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা৷ সাম্প্রতিক কোরিয়া সফর থেকেও মেলেনি কোনো স্বস্তির আশ্বাস৷ এমন পরিস্থিতিতে কাশ্মীর নিয়ে লাইমলাইটে এলেন ট্রাম্প৷

২২ জুলাই হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প৷ দুই রাষ্ট্রনেতা একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন ও ট্রাম্প সেখানে জানান একটি অবাক করা তথ্য৷ তিনি বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী আমায় কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের  মধ্যে মধ্যস্থতা করতে অনুরোধ করেছেন৷ আমি যদি পারি, তাহলে অবশ্যই মধ্যস্থতা করব৷''

ট্রাম্পের এই মন্তব্য অবাক করে, কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে জানাবোঝা থাকা সব ব্যক্তিই জানেন কাশ্মীরকে ঘিরে ভারতের অবস্থান ঠিক কী৷ নরেন্দ্র মোদীসহ স্বাধীন ভারতের সব প্রধানমন্ত্রীর ছিল এই বিষয়ে কড়া অবস্থান- কাশ্মীর ইস্যু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়৷ ভারত রাষ্ট্র কখনই এখানে তৃতীয় কোনো শক্তির মধ্যস্থতা চায়না৷

শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশ হবার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার একটি টুইটে ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি করেন৷ নাকচ করে দেন মোদীর ট্রাম্পের দ্বারস্থ হবার ঘটনার সত্যতা৷

অ্যামেরিকার বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট পার্টি ইতিমধ্যে ট্রাম্পের মন্তব্যকে বলেছে ‘অপরিণত ও লজ্জাজনক'৷

উল্লেখ্য, পাকিস্তান বরাবরই নীতিগতভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতা দাবি করে এসেছে৷ অন্যদিকে, ভারত চিরকাল এই চিন্তার বিরোধী৷

ট্রাম্পের অকারণ আস্ফালন  

Malik Maqbool Kommentarbild App

মকবুল মালিক , ডয়চে ভেলের উর্দু বিভাগ

এবিষয়ে ডয়চে ভেলের উর্দু বিভাগের সাংবাদিক মকবুল আহমেদ মালিক বলেন, ‘‘আমি এই মুহূর্তে কাশ্মীর সমস্যার কোনো সমাধান দেখিনা৷ হ্যাঁ, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ও এর উত্তরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে ভারত কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ইমরান খানের ভূমিকা খুব অল্প হলেও প্রশংসিত হচ্ছে৷ কিন্তু তার মানে এই নয় যে সমাধানের পথে এখনই হাঁটছে পাকিস্তান৷''  

Jha Mahesh Kommentarbild App

মহেশ ঝা , ডয়চে ভেলের হিন্দী বিভাগ

অন্যদিকে, ডয়চে ভেলের হিন্দি বিভাগের প্রধান মহেশ ঝা জানান, ‘‘সমাধান তখনই সম্ভব যদি পাকিস্তান তাদের রাষ্ট্রের মদতে চলা সন্ত্রাসবাদকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ এটা ভারতের বহু দিন ধরেই দাবি৷ যতদিন না এবিষয়ে পাকিস্তান কিছু পদক্ষেপ নেবে, সমাধান কীভাবে হবে? কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে গেলে দুই রাষ্ট্রকে আইনব্যবস্থা, গণতন্ত্র ও পারস্পরিক সম্মান মেনেই সংলাপে বসতে হবে৷ ট্রাম্প চিরকালই অসংলগ্ন কথা বলে থাকেন, তাই এই মন্তব্যের কোনো প্রভাব অন্তত ভারতের কাশ্মীর নীতিতে পড়বে না৷'' 

দুই সাংবাদিক নিজের জায়গায় অটল থাকলেও মকবুল মালিক স্বীকার করেন যে দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিগুলির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ‘কাশ্মীর'৷ ফলে সমাধান বা সংলাপের চেয়েও আগে এই দুই দেশের উচিত কাশ্মীরের নিজ নিজ অঙ্গে উন্নয়ন করা শিক্ষা বা স্বাস্থ্য পরিষেবার মাধ্যমে৷

প্রসঙ্গত, এর আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্টরা চেষ্টা করেছিলেন কাশ্মীর ইস্যু ঘিরে মধ্যস্থতা করার৷ তখনও বাধ সেধেছিল ভারতের ‘নো থার্ড পার্টি' নীতি৷ ট্রাম্পের এই আগ বাড়িয়ে সাহায্য করতে যাওয়াকে তাই অকারণ আস্ফালনই বলা যায়, যা আসলে কোনো গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয় না৷ আর যে বিষয়ে তিনি সাহায্য করতে চান বলে দাবি করছেন, সেই বিষয় নিয়ে আদৌ ভারত ও পাকিস্তান দুই রাষ্ট্রনেতৃত্ব ভাবিত কি না, তা নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না৷

যা পাওয়া যাচ্ছে, তা সেই পুরোনো কাসুন্দিরই পুনরাবৃত্তি৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন