কাশ্মীরি যুব সমাজের মন জয় করতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ | বিশ্ব | DW | 11.10.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

কাশ্মীরি যুব সমাজের মন জয় করতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ

কাশ্মীরের অশান্ত পরিস্থিতি অব্যাহত৷ নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক কিশোরের মৃত্যুকে ঘিরে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত৷ শান্তি ফেরাতে রাজ্যের যুবশক্তির আস্থা অর্জন করা অপরিহার্য  বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন৷

কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিন তিনটা যুদ্ধ, নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, সীমান্ত পারের জঙ্গিদের সঙ্গে নিয়মিত গুলির লড়াই, কোনো কিছুই কাশ্মীরে শান্তি ফেরাতে পারছে না৷ কেন পারছে না, এটাই প্রশ্ন৷ গত রবিবার পুলিশের ছররা গুলিতে এক কিশোরের মৃত্যুকে ঘিরে পরিস্থিতি আবারো হয়ে ওঠে সহিংস৷ পাঁচটি থানা এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নতুন করে জারি করা হয় কারফিউ৷ তবে শ্রীনগর শহরের কেন্দ্রস্থল লালচক এলাকায় অবশ্য জনজীবন প্রায় স্বাভাবিক৷

শান্তি ফেরাতে হলে ভূমিগত বাস্তবতার নিরিখে সমস্যার গভীরে গিয়ে এর কারণ বিশ্লেষন করতে হবে৷ অবলম্বন করতে হবে নয়া কৌশল৷ নইলে এই রক্তপাত থামার নয়৷ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সহিংসতা, ৭০ দিন ধরে চলা কারফিউ, নিরাপত্তা বাহিনীসহ হতাহতের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলবে৷ এই লাগাতার সহিংসতার মূলে এক বড় ভূমিকা রয়েছে, বলা বাহুল্য, রাজ্যের যুব সম্প্রদায়ের, যাদের একটা বড় অংশ স্থানীয় জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের৷ ওই জঙ্গি সংগঠনটি গড়ে উঠেছিল ৮০-র দশকে আফগান জিহাদিদের প্রভাবে৷ লস্কর-ই-তৈয়বা কিংবা জয়সে মহম্মদ জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ সংযোগ ছিল এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে হ্যাঁ, পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত ছিল এবং আছে৷

এই হিজবুল মুজাহিদিনের প্রাণশক্তি কাশ্মীরের যুব সম্প্রদায়৷ এদের বেশির ভাগই শিক্ষিত বেকার৷ অথচ শান্তি প্রক্রিয়ার কোনো স্তরেই এদের কখনো সম্পৃক্ত করা হয়নি৷ এদের আস্থা অর্জনের চেষ্টাও করা হয়নি৷ আস্থা অর্জন কিভাবে হতে পারে? হতে পারে কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এবং উপযুক্ত যোগাযোগের সেতু গড়ে তুলে৷ মিডিয়া ব্ল্যাক-আউট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে, সোশ্যাল মিডিয়া জোরদার করে৷ মানাবাধিকারের নজীর রেখে, দমনপীড়ন আইন প্রত্যাহার করে৷

কাশ্মীরি যুব সমাজকে বোঝাতে হবে বুরহান ওয়ানি প্রকৃত অর্থে কে ? কী তাঁর পরিচয় ? চে গুয়েভারার তকমা দিলে কেন সেটা বিপ্লবের অপমান হবে সেটাও বোঝাতে হবে৷ সেই দিশায় যোগাযোগের পথে পা না বাড়িয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন অটল বিহারি বাজপেয়ি, মনমোহন সিং এবং নরেন্দ্র মোদী৷ তার ফলাফল কী হয়েছে সেটা কারো অজানা নয়৷ তাই কাশ্মীর সংকটের জটিলতা দূর করতে প্রথমেই স্থানীয় কাশ্মীরি যুব সম্প্রদায়কে শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷ তবে ৯০-এর দশক থেকে যেভাবে তাঁদের মানসিকতা বদলে গেছে, বরং বলা উচিত বদলে দেওয়া হয়েছে, সেটা বিপরীতমুখি করে তোলা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও তা করে দেখাতে হবে৷

 কারণ বর্তমান আন্দোলন ৯০-এর দশকের তুলনায় ভিন্ন, সম্পূর্ণ স্থানীয়৷ ইনসানিয়াত, কাশ্মীরিয়াত বা জামহুরিয়াত বলাই যথেষ্ট নয়৷ কাশ্মীরের যুবমানসের গতিপ্রকৃতি বুঝে কাছে টানতে হবে৷ বৃহত্তর জনসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নয়৷ এই সত্যটার ওপর জোর দিতে বলেছেন রাজনৈতিক, মনস্তাত্বিক এবং সামাজিক বিশ্লেষকরা৷ জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং তাঁর উপদেষ্টারা বুঝে উঠতে পারেননি যে, কাশ্মীর রাজ্যের ভেতরে ভেতরে কী ঘটছে৷ দিল্লির কম্পাস কিভাবে, কোন দিকে ঘুরছে, সেটাও আন্দাজ করতে পারছেন না মেহবুবা সরকার৷ কাশ্মীরি যুব সমাজের মন জয় করতে কার্যত রাজ্য সরকার ব্যর্থ৷ সমস্যাটা এইখানেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন