কার্বন নিরপেক্ষ শহর হতে অসলো যা করছে | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 12.01.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

কার্বন নিরপেক্ষ শহর হতে অসলো যা করছে

২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ শহর হতে চায় নরওয়ের রাজধানী অসলো৷ সে কারণে পরিবেশবান্ধব ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে৷ এছাড়া আরও কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷

ভিডিও দেখুন 04:36

কার্বন নিরপেক্ষ হতে চায় অসলো

যেমন মানুষ যেন ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে জাতীয় জাদুঘরে যেতে উৎসাহী না হয় সেজন্য সেখানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়নি৷ সাইকেল ও গণপরিবহনের কথা মাথায় রেখে শহরের যাতায়াত ব্যবস্থাও নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে৷

অনেকদিন ধরে অসলোর নগর পরিকল্পনায় নজর রাখছেন স্থপতি আনে মারিট লুন্ডে৷ তিনি বলেন, ‘‘গত ২০ বছরে অসলোতে অনেক পরিবর্তন এসেছে৷ শহরের মধ্য থেকে গাড়ি সরিয়ে নেয়া হয়েছে৷ সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট অনেকগুলো ভবন গড়ে উঠেছে, মূলত হার্বার ঘিরে৷ এটি আরও প্রাণবন্ত, খোলামেলা ও সবাইকে কাছে টানার মতো শহর হয়ে উঠেছে বলে আমার মনে হয়৷''

নব্বই শতকের শেষদিক পর্যন্তও বিওরভিকা বন্দর ঘিরে অনেক পরিবহণ দেখা যেত৷ কিন্তু এখন সেটা মানুষ, সংস্কৃতি ও পরিবেশের মিলনস্থল হয়ে উঠেছে৷ যেমন সেখানে আছে ‘ডাইখম্যান বিওরভিকা' লাইব্রেরি৷ নরওয়ের মান অনুযায়ী, এটা জ্বালানি খুব কম ব্যবহার করা একটি ভবন, যাকে সাধারণত ‘প্যাসিভ হাউস' বলে৷ ভবনের ভেতরে ঢুকলে ছয়টি তলার দেখা পাওয়া যায়, যেখানে অনেক ফাঁকা জায়গা আছে - অনেকটা যেন বাসার বসার ঘরের মতো৷

আনে মারিট লুন্ডে জানান, ‘‘শহরের বাসিন্দাদের জন্য এটা একটা প্রাণবন্ত জায়গা৷ সবাই এখানে আসতে পারে৷ ভবনটা টেকসইভাবে তৈরি করা হয়েছে৷ যেমন এখানে কোনো পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই৷ ফলে আপনাকে গণপরিবহন ব্যবহার করতে হবে৷ এছাড়া ভবনে আরও এমন অনেককিছু আছে যেটা আসলেই টেকসই৷''

এখানে প্রায় সাড়ে চার লাখ বই ও এমন কিছু আছে, যা আপনাকে সৃষ্টিশীল হতে উৎসাহিত করে৷ যেমন থ্রিডি প্রিন্টার, পডকাস্ট করার জন্য একটা অডিও স্টুডিও৷ আরও আছে মিউজিক ইনস্ট্রুমেন্ট, যেগুলো সবাই ব্যবহার করতে পারে৷

লাইব্রেরির কাছে আকা ব্রুগে এলাকায় আছে নতুন জাতীয় জাদুঘর৷ ভবনের বাইরের অংশে নরওয়েতে পাওয়া যায় এমন স্লেট পাথর ব্যবহার করা হয়েছে, যা অনেকদিন পর্যন্ত টিকে থাকে৷

২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হতে চায় অসলো৷ সে কারণে সাইকেল ও গণপরিবহনের কথা মাথায় রেখে নতুন যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে৷ ইলেক্ট্রিক গাড়ি কেনার জন্য বোনাস, কর সুবিধাও দেয়া হচ্ছে৷ গাড়ি চার্জ করার জায়গাও বানানো হচ্ছে৷ 

অসলোতে দেখানোর মতো আরেকটা জায়গা হচ্ছে ভুলকান৷ আগে সেটা শিল্পাঞ্চল ছিল৷ এখন সেখানে পরিবেশবান্ধব আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন গড়ে উঠেছে৷ আরও আছে একটা বাজার৷ সেখানে জিওথার্মাল জ্বালানি ও সোলার প্যানেলের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা আছে৷ সেখান থেকে আশেপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়৷

অসলোর পরিবেশবান্ধব নীতি প্রাণিদের জন্যও সুফল বয়ে এনেছে৷ বিভিন্ন ভবনের ছাদে প্রায় ৪৫টি মৌচাক দেখাশোনা করেন আলেকজান্ডার ডু রিয়ে৷ মৌমাছিদের খাবারের জন্য অসলোর মধ্য দিয়ে একটি হাইওয়ে তৈরি করা হয়েছে৷ ডু রিয়ে বলেন, ‘‘হাইওয়েটা এভাবে কাজ করে৷ অসলোর কেন্দ্র দিয়ে চলে গেছে এমন এক রাস্তায় আমরা এমন সব গাছ লাগিয়েছি যেন মৌমাছি সেখান থেকে মধু সংগ্রহ করতে পারে৷ ফলে আশেপাশে উড়ে বেড়ানোর সময় মৌমাছিকে আর তার খাবার নিয়ে চিন্তা করতে হয় না৷''

অসলোর ভবিষ্যৎমুখী নগর পরিকল্পনা অন্য শহরগুলোর জন্য শিক্ষনীয় হতে পারে৷

ক্রিস্টিয়ান ভাইবেসান/জেডএইচ

সংশ্লিষ্ট বিষয়