কারা হত্যার হুমকি দিয়েছিল বাচ্চুকে ? | বিশ্ব | DW | 12.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

কারা হত্যার হুমকি দিয়েছিল বাচ্চুকে ?

দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত লেখক, প্রকাশক ও সিপিবি নেতা শাহজাহান বাচ্চুকে আগে বার বার হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে৷ ফোনে এবং ফেসবুকে কারা এই হুমকি দিয়েছিল তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ৷ তদন্তে জঙ্গিদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে৷

সোমবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে লেখক ও বিশাখা প্রকাশনীর মালিক শাহজাহান বাচ্চু(৬০) নিহত হন৷ তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র মুন্সিগঞ্জ জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক৷

 প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শাহজাহান বাচ্চু গ্রামের বাড়ি পূর্ব কাকালদীর এলাকার একটি ওষুধের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন৷ এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চার জন দুর্বৃত্ত এসে প্রথমে বোমা ফাটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে৷ পরে শাহজাহান বাচ্চুকে দোকানের সামনে গুলি করলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়৷

এই হত্যাকাণ্ডের পর মঙ্গলবার সিরাজদিখান থানায় অজ্ঞাত চার জনকে আসামি করে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী আফসানা জাহান মামলা করেছেন৷ কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ৷

মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তাঁকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়৷ যেখানে হত্যা করা হয় সেখানে ৫০-৬০ জন লোক ছিল৷ ‘রং ঢং তামাশা' নামে তাঁর নিজের লেখা একটি বই আছে৷ এছাড়া তিনি ফেসবুকে লেখালেখি করতেন৷ আমরা তাঁর ফেসবুকের লেখা এবং বই এরইমধ্যে যতদূর সম্ভব পড়ে দেখেছি৷ তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আগে হত্যার হুমকি দেয়ার বিষয়টিও আমাদের জানানো হয়েছে৷ আমরা তদন্তে জঙ্গির বিষয়টি মাথায় রেখেছি, তবে এখনো নিশ্চিত নয়, কারা , কী কারণে তাঁকে হত্যা করেছে৷''

অডিও শুনুন 01:11
এখন লাইভ
01:11 মিনিট

‘দেড় বছর আগে আমার বাবাকে টেলিফোনে হত্যার হুমকি দেয়া হয়’

এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন সিরাজদিখান থানার এএসআই মো. মাসুম আলী৷ তিনি ঘটনার সময় তাঁর ডিউটি সেরে ওই পথে ফিরছিলেন৷ মাসুম আলী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ডিউটি শেষ করে ইফতারির ঠিক ১০-১২ মিনিট আগে আমি ওই রাস্তা  ধরে মোটরসাইকেলে থানায় যাচ্ছিলাম৷ এমন সময় একটা শব্দ পাই৷ আরও কিছু দূর সামনে গিয়ে রাস্তার ওপরে একজন মানুষকে পড়ে থাকতে দেখি৷ মোটরসাইকেল থেকে আমি নেমে দাঁড়াই৷ প্রথমে ভেবেছিলাম বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার কোনও ব্যাপার৷ কারণ, পাশেই একটা বিদ্যুতের খুঁটি আছে৷ এরপর একটু দূরে দেখি একজন মোটরসাইকেলে উঠেছে৷ আরেকটি মোটরসাইকেলে একজন বসা এবং দু'জন দাঁড়িয়ে আছে৷ আমাকে দেখে একজন বলে পুলিশ, তখন তাদের একজন বলে, ‘গুলি করে দে, পুলিশকে গুলি করে দে৷' আমি সঙ্গে সঙ্গে নিজের মোটরসাইকেলের আড়ালে অবস্থান নেই৷ এরপর তারা ব্যাগ থেকে একটা বোমা বের করে রাস্তায় ফাটিয়ে মোটরসাইকেলে দ্রুত পালিয়ে যায়৷''

তিনি বলেন, ‘‘পরিস্থিতির কারনে আমি মোটর সাইকেলের রঙ বা ওই চার জনের চেহারা মনে করতে পারছি না৷''

বাচ্চুর মোট চার সন্তান৷ তাঁর মেয়ে আঁচল জাহান ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘দেড় বছর আগে আমার বাবাকে টেলিফোনে হত্যার হুমকি দেয়া হয়৷ এরপর আরো অনেকবার টেলিফোন ও ফেসবুকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে৷ শুধু আমার বাবাকে নয়, পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়৷ কিন্তু কারা হুমকি দিয়েছে তা আমাদের বাবা বলেননি৷'' 

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘বাবার সঙ্গে কারুর জমিজমা বা অন্য কোনো বিষয়ে শত্রুতা বা দ্বন্দ্ব ছিল না৷ সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল৷''

সিরাজদিখান এলাকায় সরেজমিন নিহতের পরিবার এবং স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বাংলা ট্রিবিউন'-এর সিনিয়ার রিপোর্টার নুরুজ্জামান লাবু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাচ্চু ফেসবুকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ধর্মীয় বিষয় নিয়েও লেখালেখি করতেন৷ তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাচ্চুর যে ফেসবুক আইডিটি আমাকে নিশ্চিত করেছে, তা থেকেই আমি বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি৷ এছাড়া বাচ্চুর নিজের লেখা একটি ডায়েরিও পাওয়া গেছে৷ সেখানে জঙ্গিরা কেন আত্মঘাতী হয়, সে বিষয়ে একটি কবিতা আছে৷''

অডিও শুনুন 01:24
এখন লাইভ
01:24 মিনিট

‘তাদের একজন বলে, গুলি করে দে, পুলিশকে গুলি করে দে’

নুরুজ্জামান জানান, ‘‘তাঁর পরিবার আমাকে জানিয়েছে হুমকির মুখে প্রাণভয়ে বাচ্চু গত মার্চে ভারতে চলে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু কিছুদিন ভারতে থাকার পর তিনি আবার দেশে ফিরে আসেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘মামলার এজাহারে বাচ্চুর স্ত্রী এই বিষয়গুলো উল্লেক করেছেন৷ তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ করেন ফেসবুকে লেখালেখির কারণেই বাচ্চুকে হত্যা করা হয়েছে৷''

এদিকে বাচ্চুকে যে স্টাইলে হত্যা করা হয়েছে তার সঙ্গে জঙ্গিদের হত্যাকাণ্ডের স্টাইলের মিল রয়েছে৷ পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘জঙ্গিদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাচ্চু হত্যাকাণ্ডের স্টাইলের মিল থাকলেও জনবহুল জায়গায় কেন তাঁকে হত্যা করা হলো এটা আমাদের তদন্তের বিষয়৷ কারণ, ওখানে অনেক নির্জন রাস্তা ছিল, সেখানেও তাঁকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করতে পারতো৷ আমরা বাচ্চুর স্ত্রী'র সঙ্গে কথা বলেছি৷ তিনি আগে বাচ্চুকে হত্যার হুমকির কথা আমাদের জানিয়েছিলেন৷ কিন্তু ঠিক কারা এবং কেন হুমকি দিয়েছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলতে পারেনি৷''

এদিকে যে ওষুধের দোকানের সামনে বাচ্চুকে হত্যা করা হয়, সেই দোকানের মালিক আনোয়ার হোসেন বাচ্চুর বন্ধু৷ এই দোকানেই বাচ্চু আড্ডা দিতেন৷ পুলিশ আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ঘটনার  পূর্ণ বিবরণ জানতে তাঁর জবানবন্দি নিয়েছে৷ এএসআই মাসুম আলীও জবানবন্দি দিয়েছেন৷

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) একটি টিম ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে৷

ছাত্রজীবনে শাহজাহান বাচ্চু ছাত্র ইউনিয়ন করতেন৷ পরে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন৷ ২০১২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত  মুন্সীগঞ্জ জেলা সিপিবি'র সাধারণ সম্পাদক ছিলেন৷ শাহজাহান বাচ্চু লেখালেখি করতেন৷ ‘রং ঢং তামাশা' নামে তাঁর একটি ছড়ার বই বেশ আলোচিত৷ ইদানীং তিনি ফেসবুকেই বেশি লেখালেখি করতেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন