কারাবন্দিদের পোশাক কারখানা | বিশ্ব | DW | 27.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

কারাবন্দিদের পোশাক কারখানা

নারায়ণগঞ্জ কারাগারে একটি পূর্ণাঙ্গ পোশাক কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে৷ চালু হয়েছে জামদানি শাড়ির কারখানা ‘রিজিলিয়েন্স'-ও৷ জেলা প্রশাসক জানান, ‘‘আমরা তাঁদের নতুন জীবন দিতে চাই, দিতে চাই স্বাভাবিক জীবন, তাই এই প্রচেষ্টা৷''

বুধবার এই পোশাক কারখানা এবং জামদানি শাড়ির কারাখানা উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল৷ উদ্বোধনের পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘‘বন্দিদের উৎপাদিত পণ্যের প্রসারের জন্য এবার আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য মেলায় একটি ‘প্যাভিলিয়ন' নেওয়া হয়েছে৷ এতে করে এ সব পণ্যের চাহিদা বাড়বে৷ এবং উৎপাদিত পণ্যে লাভের ৫০ শতাংশ তুলে দেয়া হবে বন্দিদের হাতেই৷

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে প্রতি মাসে একবার কারাগার পরিদর্শন করি৷ সেখান থেকেই কারাবান্দিদের জন্য স্থায়ী এবং টেকসই কিছু একটা করার চিন্তা মাথায় আসে৷ আর সেই চিন্তা থেকেই পোশাক কারখানা ও জামদানি উৎপাদন কেন্দ্র করার এই উদ্যোগ৷ এগুলো করতে আমরা ব্যবসায়ী এবং দানশীল মানুষদের সহায়তা পেয়েছি৷ সমাজসেবা অধিদপ্তরও সহায়তা করেছে৷ এছাড়া কিছু আর্থিক সহায়তা করেছে কারা অধিদপ্তর৷''

অডিও শুনুন 05:16
এখন লাইভ
05:16 মিনিট

‘আমরা কারাবন্দিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি এখন পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়েছে’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা কারাবন্দিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি৷ এখন পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়েছে৷ আমরা চাই এখান থেকে কারাবন্দিরা যখন ছাড়া পাবেন, তারা যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন৷ আর তারা যখন কারাগারে থাকবেন, নিজেদের আয়ের একটা অংশ পরিবারের কাছে পাঠাতে পারবেন তারা৷''

জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘ নামের এই পোশাক কারাখানাটিতে ৫৪টি মেশিনে কাজ শুরু হয়েছে৷ তবে পর্যায়ক্রমে এখানে ৩০০টি মেশিন স্থাপন করা হবে৷ এই কারখানায় কাটিং, প্রিন্টিং ও আয়রনসহ সব সেকশনই রয়েছে৷ কারখানার প্রতিটি মেশিনে একজন দক্ষ কারিগর ও একজন হেল্পার হিসেবে কাজ করবে৷ এছাড়া কাটিং, প্রিন্টিং, আয়রন ও মালামাল উঠা-নামার জন্য লেবারও প্রয়োজন হবে৷ সে হিসেবে প্রতি শিফটে ১৫০ জন করে বন্দি কাজ করা সুযোগ পাবেন৷ এই মুহূর্তে দুই শিফটে ৩০০ জন বন্দি এখন কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন৷ এটা নিট গার্মেন্টস৷ প্রতিদিন ১৫ হাজার পিস পোশাক উৎপাদন হবে৷''

পোশাক কারাখানা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের কারাগারে ১০টি জামদানি তাঁত স্থাপন করা হয়েছে৷ প্রতিটি তাঁতে দু'জন করে ২০ জন এবং তাদের সহকারী আরও ২০ জন কাজের সুযোগ পাবেন৷ জামদানি কারখানায় দুই শিফটে মোট ৮০ জন বন্দি কাজ করতে পারবেন৷ এছাড়া জেলখানার ভেতরে বিছানার চাদর তৈরি, চুমকির কাজ, ব্লক, বাটিক, মোমবাতি বানানো, টিসু বক্স বানানো এবং অন্যান্য হ্যান্ডিক্রাফটের কাজ চলছে৷ এ সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ৪৫০ জন বন্দির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে৷

অডিও শুনুন 04:28
এখন লাইভ
04:28 মিনিট

‘প্রতি শিফটে ১৫০ জন করে বন্দি কাজ করা সুযোগ পাবেন, প্রতিদিন ১৫ হাজার পিস পোশাক উৎপাদন হবে'

এ সব পণ্য কারাগারের নিজস্ব শো রুম ছাড়াও আড়ং-এর মাধ্যমে বাজারজাত করা হবে৷ এর পাশাপাশি বিকেএমইএ-ও পোশাক বাজারজাতে সহায়তা করবে৷ বিকেএমইএ-র সভাপতি সেলিম ওসমান জানান, ‘‘কারা কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের সহায়তা করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র সংগ্রহ করে বায়ারদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেয়, তাহলে এখান থেকে তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানি করে বছরে ১০ থেকে ১৫ লাখ ডলার আয় করা সম্ভব৷ বিকেএমইএ এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত৷''

আইজি (প্রিজন) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘‘দীর্ঘমেয়াদি বন্দিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে৷ শুধু তাই নয়, স্বল্পমেয়াদি বন্দিদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে এই কাজে লাগানো হবে, যাতে তারা কারাগার থেকে বের হয়ে ঐ কাজ করে পরবর্তী জীবনটা ভালোভাবে কাটাতে পারে৷''

বাংলাদেশের বিাভিন্ন কারাগারে তৈরি পোশাকের কারখানা আছে৷ তবে পূর্ণাঙ্গ পোশাক কারখানা এটাই প্রথম৷ বাংলাদেশের সব  কারাগারেই এ ধরনের উদ্যোগনেয়া যেতে পারে৷ রাব্বী মিয়া বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের এই প্রকল্প উদ্বোধন করে বলেছেন, এটা সফল হলে অন্যান্য কারাগারেও একইভাবে পোশাক কারখানা চালু হতে পারে৷''

প্রতিবেদনটা কেমন লাগলো লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন