কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় | বিশ্ব | DW | 09.05.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায়

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধ মামলার চতুর্থ রায় দেয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার৷ এই রায়ে জামায়াত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২৷

রায়কে সামনে রেখে শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে৷ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় রয়েছে ৩ স্তরের নিরাপত্তা৷

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় ২০১০ সালের ২৯শে জুলাই৷ আর তাকে যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় একই বছরের ২রা আগস্ট৷

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ সাত ধরণের মানবতা বিরোধী অভিযোগ আনা হয় কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে৷ ট্রাইব্যুনাল-২'এ গত ১৬ই এপ্রিল মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনসহ সব ধরণের কাজ শেষ হয়৷ এরপর আজ বৃহস্পতিবার রায় দেয়া হলো৷ তার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটতরাজসহ পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-২ দুপুরে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়৷ আদালতে ১৫২ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ প্রায় ৬২ পৃষ্ঠা পড়ে শোনানো হয়৷

Delwar Hossain Sayedee Kriegsverbrechen Todesurteil Bangladesch Jubel

দুপুরে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে কামরুজ্জামানের ফাঁসির রায়ের খবর এলে সেখানে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে (ফাইল ছবি)

কামারুজ্জামান শেরপুর অঞ্চলে হত্যা ও ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ৷ এছাড়া, আলবদর বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বরসহ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়৷

২০১০ সালের ২৫শে মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ার পর, এখনও পর্যন্ত মোট চারটি মামলার রায় ঘোষণা করা হলো৷ প্রথম রায়ে জামায়াতের সাবেক নেতা মাওলানা আবুল কালাম আযাদকে পলাতক অবস্থায় মৃতু্যদণ্ড দেয়া হয়৷ দ্বিতীয় রায়ে জমায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তৃতীয় রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে মৃতু্যদণ্ড দেয়া হয়৷ ২৮শে ফেব্রুয়ারি সাঈদীর মৃতু্যদণ্ডের রায় ঘোষণার পর, জামায়াত শিবির সারা দেশে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়৷ চার দিনের তাণ্ডবে তারা দেশের ২১টি জেলায় পুলিশ স্টেশনে হামলা, পুলিশের ওপর হামলা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং তাদের বাড়িঘর এবং উপসনালয়ে আগুন দিয়ে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে৷ সে সময় সারা দেশে পুলিশসহ প্রায় ১০০ জন নিহত হন৷

সেই ত্রাসের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে রায় দেয়া হলো৷ এটি ট্রাইব্যুনালের চতুর্থ রায়৷ ব়্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কর্ণেল জিয়াউল আহসান ডয়চে ভেলেকে জানান, রায় ঘেষণার পর এবার আর তাণ্ডব সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেয়া হবে না৷ তাই শুধু ঢাকা নয় সারা দেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে৷ পুলিশ, ব়্যাব ছাড়াও গোয়েন্দা জাল বিস্তার করা হয়েছে৷ আর ঢাকার ট্রাইব্যুনাল এবং তার আশেপাশের এলাকা তিন স্তরের নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে৷

এদিকে, দুপুরে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে কামরুজ্জামানের ফাঁসির রায়ের খবর এলে সেখানে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে৷ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে৷ তবে রায় ঘোষণার পর বিচ্ছিন্নভাবে ঢাকায় কয়েকটি গাড়ি পোড়ানোর খবরও পাওয়া গেছে৷
 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন