কামড়ে দেবার মানসিকতার পেছনে কারণ আছে | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 26.06.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

কামড়ে দেবার মানসিকতার পেছনে কারণ আছে

দাঁতহীন দুধের শিশুর কামড়, প্রথম দাঁত গজাবার পর অন্যকে কামড় – এ সবের প্রতিক্রিয়া হয় প্রশ্রয়ভরা হাসি৷ কিন্তু খেলার মাঠে প্রাপ্তবয়স্ক খেলোয়াড় অন্যদের নিয়মিত কামড়াতে থাকলে সেটা দুশ্চিন্তার বিষয়-মনে করছেন মনোবিজ্ঞানীরা৷

উরুগুয়ে দলের তারকা ফুটবলার লুইস সুয়ারেজ আবার কামড় দিয়েছেন৷ এই ঘটনা নিয়ে যথারীতি আবার হইচই পড়ে গেছে৷ এমন আচরণ বিশ্লেষণ করতে এবার মাঠে নেমেছেন মনোবিজ্ঞানীরা৷

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ইভা কিমোনিস বলেছেন, ম্যাচের ভিডিও দেখে মনে হচ্ছে ইটালির খেলোয়াড় কিয়েলিনি সুয়ারেজের পথ আটকে দেওয়ায় সুয়ারেজ তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন৷ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি কিয়েলিনিকে কামড়ে দিয়েছেন৷ তাঁর অতীত আচরণের ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে এমন ঘটনার পরিণাম কী হতে পারে, সেই মুহূর্তে সেটা আর ভাবতে পারেননি৷ যখন বুঝেছেন, তখন তিনি নিজেই আহত হবার ভান করেছেন৷

কিমোনিস বেশ কিছুকাল ধরে মানুষের অসামাজিক আচরণ নিয়ে গবেষণা করছেন৷ তাঁর মতে, শৈশবে কামড়ানোর অভ্যাস অনেকের মধ্যেই দেখা যায়, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এমন প্রবণতা বিরল৷ তবে এটা সাধারণত কোনো বিচ্ছিন্ন আচরণ নয়৷ দীর্ঘকাল ধরে বেয়াদবি বা আগ্রাসী মনোভাবের অভ্যাসের মধ্যে কামড় ছাড়াও মারধর করা, শাসানো, চিৎকার করার মতো প্রবণতাও দেখা যায়৷

এমন ধরনের মানুষ কোনো হুমকির মুখে পড়লে সাতপাঁচ বিবেচনা না করে অন্যকে মারধর করে বা কামড়ে দেয়৷ সেই হুমকি আসল না মনগড়া, তাও জানার দরকার নেই৷ কিছু হাসিল করার সম্ভাবনা দেখলেও হাত বা দাঁত চলতে পারে৷ প্রায়ই দেখা যায় সেই ব্যক্তি কোনো কারণে আগে থেকেই রাগে ফুঁসতে শুরু করেছে৷ ব্যর্থতা বা মানসিক চাপ থেকেও ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে৷ তবে আগ্রাসী মনোভাব অভ্যাসে পরিণত হলে সেটা খুবই দুশ্চিন্তার বিষয়৷

‘ক্রনিক অ্যাগ্রেশন'-এর চিকিৎসার জন্য কিছু থেরাপির ব্যবস্থা রয়েছে৷ এর মাধ্যমে ক্ষোভ বা মানসিক চাপের কারণ শনাক্ত করতে সাহায্য করা হয়৷ কোনো ব্যক্তি এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা পেলে সে অনেক সহজে সেই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে৷

সুয়ারেজের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন মনোবিজ্ঞানীরা৷ তাঁদের মতে, টিম-এর বাকি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ এমন কাণ্ড ঘটানোর পর কেউ যদি দেখে, যে বাকিরা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সেটা পছন্দ বা সমর্থন করছে, তাহলে সে নিজেকে বদলাবে না৷

আরেকটি বিষয়ও মনে রাখতে হবে৷ অনেক অ্যাথলিট খ্যাতির শিখরে পৌঁছে যে মাত্রায় মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তা সামলানো মোটেই সহজ কাজ নয়৷ সেই অবস্থায় অনেকেই মাত্রাজ্ঞান হারিয়ে ফেলেন৷ কেউ কেউ অবশ্য পরে অনুতাপে ভোগেন, লজ্জা অনুভব করেন৷ সমস্যাকে সমস্যা হিসেবে মানতে পারলে তবেই তা দূর করা সম্ভব বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা৷

এসবি/ডিজি (রয়টার্স, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন