কাবুলের হামলা: শিখ ও ইসলাম ধর্ম | বিশ্ব | DW | 26.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

আফগানিস্তান

কাবুলের হামলা: শিখ ও ইসলাম ধর্ম

একদিন আগে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ২৫ জনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানেও বোমা হামলা হুলো৷ তবে বৃহস্পতিবার এ অনুষ্ঠানে কারো হতাহত হবার খবর পাওয়া যায়নি৷

আগেরদিন বুধবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি শিখ-হিন্দু মন্দিরে হামলা চালিয়ে ৬ বছর বয়সি একশিশুসহ ২৫ জনকে হত্যা করা হয়৷ পরে হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট৷

হামলাটি এমন এক সময় চালানো হয় যখন আফগান শান্তি চুক্তির আলোচনার অংশ হিসেবে বন্দি বিনিময় নিয়ে তালেবানের সঙ্গে দেশটির সরকারের একটি মুখোমুখি বৈঠক হবার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়৷ এছাড়া ঠিক একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলার (আট হাজার কোটি টাকা) কমিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়৷

ভিডিও দেখুন 01:41

আফগান নির্বাচনে এক নরিন্দরের লড়াই

নতুন নয়

মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আফগানিস্তানে শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের ওপর হামলা নতুন কিছু নয়৷ সবশেষ ২০১৮ সালে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের শহর জালালাবাদে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে ১৯ জন শিখকে হত্যা করা হয়৷  শিখরা তখন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন৷ সেই হামলারও দায় স্বীকার করে আইএস৷

শিখদের ওপর নিপীড়ন ও বৈষম্যের ইতিহাস অবশ্য আরো অনেক আগেকার৷ আশির দশকে সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় অসংখ্য শিখ পৃথিবীর ৯০ শতাংশ শিখের দেশ ভারতে পালিয়ে যান৷ এরপর

নব্বইয়ের দশকে, বিশেষ করে নজিবুল্লাহর পতনের পর ব্যাপক হারে তারা আফগানিস্তান ছাড়েন৷ যেখানে ৯০ এর আগে আফগানিস্তানে শিখ জনসংখ্যা ছিল ৫০ হাজারেরও বেশি, সেখানে এখন মাত্র কয়েক হাজারকেই এখন খুঁজে পাওয়া যাবে দেশটিতে৷

তালেবান আমলে পুরো দেশজুড়ে শিখদের উপাসনালয় অধিকাংশ গুরুদুয়ারা ভেঙ্গে ফেলা হয়৷

এছাড়া তালেবানরা শিখদের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে৷ তাদের হলুদ বাহুবন্ধনী পরতে বলা হয়, যেন চিহ্নিত করা যায়৷ এছাড়া তাদের ধর্মমতে, মৃতের শরীর পোড়ানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়৷ অনেক মৃতশরীর পোড়ানোর জায়গা নষ্ট করে দেয়া হয়৷

পরবর্তীতে তালেবান সরকারের পতনের পরও শিখরা তাদের ধর্মমতে শেষকৃত্য পালন করতে গিয়ে অনেক জায়গায় স্থানীয় মুসলিমদের বাধার সন্মুখীন হন৷ ২০০৩ সালে তারা আফগান সরকারের কাছে মৃতশরীর পোড়ানোর জায়গা চাইলে ২০০৬ সাল নাগাদ সরকার তাদের পুরোনো জায়গাগুলো ফেরত দেয়৷ কিন্তু এরপরও তারা স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন৷

শিখ ও ইসলাম ধর্ম

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আফগানিস্তানে শিখ ধর্মের মানুষরা কেন বারবার হামলার শিকার হয়েছেন? অনেকেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক বলে মনে করেন৷ কারণ দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে সহাবস্থানের উদাহরণ রয়েছে৷ এমনকি ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচারেও কিছু কিছু জায়গায় মিল রয়েছে৷ 

মৃতকে কেমন করে সৎকার করা হবে, এ জায়গায় শিখ ও ইসলাম ধর্মের মধ্যে তফাৎ থাকলেও এই দুই ধর্মের মধ্যে অনেক বিষয়েই মিল রয়েছে৷ অনেক ধর্মতত্ত্ববিদ মনে করেন, শিখ ধর্ম আসলে ইসলাম ধর্ম থেকে অনুপ্রাণিত৷ অনেকে এতে হিন্দু ধর্মের সঙ্গে বেশি মিল খুঁজে পান৷ কেউ কেউ বলেন, এই দুই ধর্মের মিশেলে এর বুৎপত্তি৷

তবে সার্বিকভাবে বেশ কিছু বিষয়ে মিল রয়েছে ইসলাম ও শিখ ধর্মের৷ যেমন, দুই ধর্মই এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করে৷ ইসলামে ‘আল্লাহ' হলেন মহান সৃষ্টিকর্তা৷ শিখরা বলেন ‘এক' হলো ‘সত্য'৷ গুরুর মাধ্যমে এই সত্যকে পাওয়া সম্ভব৷

ইসলাম ও শিখধর্ম উভয়েই মূর্তিপূজা সমর্থন করে না৷ ইসলামের দৃষ্টিতে এটি ‘শিরক' ও অমার্জনীয় অপরাধ৷ শিখ ধর্মে একে নিরর্থক বলা হয়েছে৷

দুই ধর্মেই মদ ও অন্য নেশাদ্রব্য গ্রহণ করা নিষিদ্ধ৷ শিখরা এর কারণ হিসেবে শরীরের পবিত্রতার কথা বলেন৷

এছাড়া শিখ ও ইসলাম ধর্ম অবতারবাদকে বিশ্বাস করে না৷ অবতারবাদ হলো, ইশ্বরের মানুষরূপে অবতীর্ণ হওয়া৷

অনেক ধর্মে যেমন পুরোহিতরা জাগতিক বিষয় থেকে দূরে থাকেন৷ তারা পরিবারের বা সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হন না৷ কিন্তু ইসলাম ও শিখ উভয় ধর্মে এই সুযোগ আছে৷ ইমাম বা গুরুরা বিয়ে করতে পারেন, পারিবারিক জীবন চালাতে পারেন৷ এছাড়া দুই ধর্মই জাতপ্রথাকে অস্বীকার করে৷

তবে দুই ধর্মে কিছু বিষয় একেবারেই ভিন্ন৷ যেমন, শিখ ধর্ম পুনর্জন্মে বিশ্বাস করে৷ কিন্তু ইসলাম ধর্ম করে না৷ এছাড়া মৃতের সৎকারের বিষয়টি তো আছেই৷ কিন্তু অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন, এই দুই ধর্মের অমিলের চেয়ে মিলই বেশি৷ 

ইসলামি স্কলার আবদুল জলিল বলেন, ‘‘শিখ ধর্মের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এর প্রবর্তক হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও মুসলিমদের সঙ্গে তাদের প্রার্থনায় শরীক হয়েছেন, প্রকাশ্যেই তাদের আচার পালন করেছেন,'' ‘বার্থ অফ সিখিজম' নামের একটি লেখায় উল্লেখ করেন তিনি৷

জেডএ/এসিবি (এপি, মুসলিম টাইমস, আল ইসলাম)

২০১৮ সালের ছবিঘরটি দেখুন:

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন