কাদা বেচে ধনী হতে পারে গ্রিনল্যান্ড | অন্বেষণ | DW | 19.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

কাদা বেচে ধনী হতে পারে গ্রিনল্যান্ড

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পুষ্টির অভাবে মাটির উর্বরতা কমে চলেছে৷ অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গ্রিনল্যান্ডে বরফ গলে যে কাদা সৃষ্টি হচ্ছে, তা কাজে লাগালে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব৷ এক ভূবিজ্ঞানী সেই স্বপ্নই দেখছেন৷

গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণে গেলে বোঝা যায়, ভাইকিংরা কেন একসময়ে এটিকে সবুজ দ্বীপ বলতো৷ চারিদিকে টিলা, মাঠ, হ্রদ ও নদী৷ উত্তরে গেলে তবেই অনন্ত বরফের রাশি দেখা যায়৷ মিনিক রোসিং-এর কাছে এই নিসর্গই হলো স্বভূমি৷ তাঁর জন্ম গ্রিনল্যান্ডে৷ তাঁর পূর্বপুরুষরা সেখানেই শিকার করতেন৷ ডেনমার্কের এই ভূবিজ্ঞানী তাই প্রায়ই সেখানে চলে যান৷ তাঁর মতে, গ্রিনল্যান্ড এক খোলা বইয়ের মতো, যা শুধু পড়ার অপেক্ষায় রয়েছে৷ মিনিক রোসিং বলেন, ‘‘প্রকৃতির বুকে প্রত্যেকটি পাথর নিজের কাহিনি শোনায়৷ অবশ্যই তাদের ভাষা বুঝতে হবে৷ তখন আর কোনো রহস্য থাকবে না৷ তারা আসলে নিজেদের কাহিনি শোনাতে উন্মুখ হয়ে রয়েছে৷’’

গ্রিনল্যান্ডে পাওয়া এক পাথর পরীক্ষা করেই রোসিং প্রমাণ করেন যে, পৃথিবীর বুকে প্রাণের আবির্ভাব ঘটেছিল প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে৷ সেই আবিষ্কারের জন্য তিনি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছেন৷ এখন তিনি পাথরের বদলে কাদা সংগ্রহ করছেন৷ কারণ তিনি এক নতুন কাহিনির পেছনে ধাওয়া করছেন৷ অনেকে মনে করছেন, এর মধ্যে বিশাল প্রতিশ্রুতি লুকিয়ে রয়েছে৷

একটি অংশে জমির উপরের বরফ গলে বিশাল পাথর ও নুড়িপাথরের স্তূপ বেরিয়ে পড়েছে৷ তবে পাথরের মরুভূমির মতো দেখতে হলেও এ হলো ধাতব পুষ্টির প্রায় অনন্ত এক ভাণ্ডার৷ রোসিং বলেন, ‘‘হিমবাহের এই কাদা আসলে বরফের চাপে পিষ্ট পাথর৷ বিশ্বের যে সব প্রান্তে মাটিতে পুষ্টির অভাব রয়েছে, এই পুষ্টিকর কাদা সেখানে পাঠানো সম্ভব৷ বিশেষ করে সবচেয়ে জনবহুল ক্রান্তীয় অঞ্চলের মাটিতে পুষ্টির বড়ই অভাব৷’’

এই সূক্ষ্ম ছিদ্রভরা কাদাই বরফ গলা পানি সঙ্গে নিয়ে চলে৷ সেই পানি ঝরে খরস্রোতা পাহাড়ি নদী সৃষ্টি হয়৷ সেই প্রক্রিয়ার ফলে শেষে নতুন এক এলাকা সৃষ্টি হয়৷ রোসিং-এর মতে, বছরে প্রায় ১০০ কোটি টন কাদা এভাবে গ্রিনল্যান্ডের উপকূলে পৌঁছে যায়৷ সেই কাদার পুষ্টি গোটা বিশ্বের জন্য খাদ্য উৎপাদনের ক্ষমতা রাখে৷

গ্রিনল্যান্ডে ফেরার পথে রোসিং এক পুরানো পরিচিত ব্যক্তির দেখা পেলেন৷ মর্টেন নিলসেন গ্রিনহাউসে নানা হার্বস বা জড়িবুটি ও লেটুস পাতা উৎপাদন করেন৷ গ্রিনল্যান্ডে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হাতেনাতে টের পাওয়া যাচ্ছে৷ দেশের দক্ষিণে এখন স্ট্রবেরি ও আলু গজাচ্ছে৷ তবে ভবিষ্যতেও সেখানে বড় আকারে চাষবাস সম্ভব হবে না৷  রোসিং বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তন এক কঠিন বাস্তব এবং সেই ঘটনাকে বাস্তবসম্মতভাবে দেখতে হবে৷ তার ভালো ও খারাপ দিক রয়েছে৷ গ্রিনল্যান্ডসহ সারা বিশ্বে আমরা প্রকৃতির অংশ৷ তাতে পরিবর্তন এলে আমাদের যতটা সম্ভব মানিয়ে নিতে হবে৷’’

ঠিক সেই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছেন৷ রোসিং নিজের দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অত্যন্ত আশাবাদী ও বাস্তববাদী৷ তাঁর মতে, স্বনির্ভর হতে চাইলে অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রয়োজন৷ মিনিক রোসিং বলেন, ‘‘সমাজ হিসেবে আমরা কীসের উপর নির্ভর করবো? গ্রিনল্যান্ডের অক্ষুণ্ণ ও অনন্ত প্রকৃতি রয়েছে৷ সুমুদ্রে বিশাল পরিমাণ মাছ আছে৷ এ সবের মূল্য বেড়েই চলেছে৷ অন্যদিকে পেট্রোলিয়ামে হাত দেওয়া উচিত নয়৷ আমার পেছনে যে ধূসর কাদা রয়েছে, তার আর্থিক মূল্য বিশাল৷ একদিন আমরা এ থেকে অনেক আয় করবো৷’’

গভীর সমুদ্রে প্রাকৃতিক সম্পদের স্বপ্ন দেখার বদলে হাতের নাগালেই বিশাল পরিমাণে যে সম্পদ রয়েছে, তা কাজে লাগালেই চলবে৷

মার্ক-ক্রিস্টফ ভাগনার/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন