কাতারকে চরমপত্রের মেয়াদ বাড়ল আরো ৪৮ ঘণ্টা | বিশ্ব | DW | 03.07.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

কাতার

কাতারকে চরমপত্রের মেয়াদ বাড়ল আরো ৪৮ ঘণ্টা

সৌদি নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় গোষ্ঠী কাতারকে যে চরমপত্র দিয়েছে, তার মেয়াদ বাড়ল কুয়েতি মধ্যস্থতায়৷ অপরদিকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার এই এলাকায় তাঁর সফর শুরু করছেন৷ 

রবিবার মধ্যরাত্রে চরমপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর তাদের দাবিদাওয়ার মেটানোর ব্যাপারে সক্রিয় হওয়ার জন্য দোহাকে আরো দু'দিন সময় দিতে সম্মত হয়েছে, নয়ত উত্তরোত্তর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্ভাবনা থাকবে৷

সৌদি মালিকানার আল-আরাবিয়া নিউজ চ্যানেলের বিবরণ অনুযায়ী, অপরাপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে কাতার-কে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি থেকে সাসপেন্ড করার কথা ভাবা হচ্ছে৷ ছ'টি দেশের সম্বলিত এই জোট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতার সূত্রে আবদ্ধ৷

সৌদি আরব, ইউএই, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও ওমান, এই ছ'টি দেশ মিলে সৃষ্ট জিসিসি যে সব দেশ ও কোম্পানির কাতারের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন আছে, তাদের উপরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করতে পারে, বলে আল-আরাবিয়া জানিয়েছে৷

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানি চরমপত্রের দাবিদাওয়া সম্পর্কে কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমেদ আল-জাবের আল-সাবাহকে সোমবার সরকারিভাবে কাতারের উত্তর জানাবেন, বলে আল-আরাবিয়া যোগ করেছে৷

মিশর, ইউএই, বাহরাইন ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীবর্গ বুধবার কায়রোয় মিলিত হয়ে কাতারের ব্যাপারে ‘‘ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ'' নিয়ে আলোচনা করবেন৷

গত ৫ই জুন এই চারটি দেশ ঘোষণা করে যে, তারা কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও পরিবহণ সংক্রান্ত সম্পর্ক ছিন্ন করছে – তাদের অভিযোগ, কাতার সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয়; এছাড়া কাতার তাদের আঞ্চলিক বৈরি ইরানের মিত্র৷ এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে তীব্রতম কূটনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে৷ সৌদি আরব কাতারি বিমানের সৌদি বায়ু অঞ্চল দিয়ে ওড়া নিষিদ্ধ করেছে এবং কাতারের একমাত্র ভূমি সীমান্ত রোধ করেছে – যে সীমান্ত দিয়ে কাতার খাদ্য আমদানি করে থাকে৷

গত সপ্তাহে কাতার সৌদি নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর ১৩টি দাবির তালিকা প্রকাশ করে, যার মধ্যে রয়েছে: ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হ্রাস, ইসলামি গোষ্ঠীগুলির প্রতি সমর্থনের অবসান ঘটানো এবং দোহা-ভিত্তিক সম্প্রচার কেন্দ্র আল-জাজিরা ও তার টেলিভিশন চ্যানেলগুলি বন্ধ করা৷ এই সব দাবি পূরণ করা না হলে কাতারকে তার উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের তরফ থেকে ‘‘তালাকের'' ভয় দেখিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত – এবং মন্তব্য করেছে যে, এই সব দাবি নিয়ে আলাপ-আলোচনার কোনো সুযোগ নেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

পরে ঐ চারটি দেশ কাতারের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত ৫৯ জন ব্যক্তি ও ১২টি গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসবাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে৷

জার্মানির তরফ থেকে আলাপ-আলোচনার ডাক

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গাব্রিয়েল সোমবার একাধিক আরব দেশ সফরে যাত্রা করেছেন – তিনি উপসাগরের কূটনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য ‘‘আন্তরিক আলাপ-আলোচনা''-র আহ্বান জানিয়েছেন৷

‘‘বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আরব উপদ্বীপের ভ্রাতৃসুলভ দেশ ও প্রতিবেশিরা একটি সংঘাতে বাঁধা পড়ে রয়েছে যা উদ্বেগের সৃষ্টি করছে'', রবিবার একটি বিবৃতিতে বলেন গাব্রিয়েল৷

‘‘আমারা কোনো পক্ষে নই৷ কিন্তু যারা সরাসরিভাবে সংশ্লিষ্ট, এই সংঘাত শুধু তাদের জন্য নয়; আমাদের, এবং আমাদের স্বার্থের উপরও এর প্রভাব পড়ছে'', বলে গাব্রিয়েল মন্তব্য করেন৷

‘‘জিসিজি-কে সহযোগিতা ও সংঘাত সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম হয়ে উঠতে হবে, বলে আমাদের বিশ্বাস৷ এছাড়া আমরা কুয়েতের আমিরের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরালোভাবে সমর্থন করি'' – জার্মানি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ও চরমপন্থিদের অর্থসংস্থান বন্ধ করার ডাক দিচ্ছে, বলে গাব্রিয়েল যোগ করেন৷

গাব্রিয়েল তাঁর তিনদিনব্যাপী সফরে সৌদি আরব, ইউএই, কাতার ও কুয়েত সফর করছেন৷

এসি/ডিজি (এএফপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়