কলম্বিয়ার লুপ্তপ্রায় বানর বাঁচাতে উদ্যোগ | বিশ্ব | DW | 12.09.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

কলম্বিয়ার লুপ্তপ্রায় বানর বাঁচাতে উদ্যোগ

বিশ্বের লুপ্তপ্রায় প্রাণীদের মধ্যে কলম্বিয়ার কটন-টপ ট্যামারিন বানর অন্যতম৷ তাদের অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে এক অভিনব বহুমুখী প্রকল্প চলছে৷ স্থানীয় মানুষের উপার্জনের ব্যবস্থা করে রেন ফরেস্ট বাঁচানোর প্রচেষ্টাও তার অঙ্গ৷

বর্তমানে মাত্র সাত হাজারের মতো কটন-টপ ট্যামারিন মুক্ত প্রকৃতিতে বসবাস করে৷ অসংখ্য জঙ্গল ও ডোবা পেরিয়ে তবেই মুক্ত প্রকৃতিতে কটন-টপ ট্যামারিন-দের দেখা মেলে৷ খুবই লাজুক প্রকৃতির এই প্রাণীর আকার বিড়ালের মতো, ওজন আধ কিলোরও কম৷ গাছের মাথায় তারা থাকে৷ টিটি প্রকল্প ফাউন্ডেশনের প্রধান রোসামিরা গিয়েন বলেন, ‘‘আমার কাছে কটন-টপ ট্যামারিন বানরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে৷ তাদের নিয়ে কাজ করতে খুব ভালো লাগে৷ তারা সত্যি সুন্দর এক প্রজাতি৷ ফলে তাদের সংরক্ষণের স্বার্থে আমরা বেশি আগ্রহ জাগাতে পারি৷''

এই প্রজাতি বিশ্বের সবচেয়ে লুপ্তপ্রায় প্রাণীদের অন্যতম৷ রোসামিরা বলেন, ‘‘কটন-টপ ট্যামারিন একমাত্র কলম্বিয়ায় পাওয়া যায়৷ শুধু ক্যারিবীয় এলাকার একটি অংশে তাদের দেখা মেলে৷ যাট ও সত্তরের দশকে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায়, বিশেষ করে আন্ত্রিক ক্যানসার সম্পর্কে গবেষণায় তাদের বিশাল সংখ্যায় ব্যবহার করা হতো৷ সে সময় এই প্রজাতির ২০ থেকে ৩০ হাজার প্রাণীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়৷''

ভিডিও দেখুন 05:27
এখন লাইভ
05:27 মিনিট

বানর বাঁচানোর উদ্যোগ

রোসামিরা গিয়েন এক সময়ে চিড়িয়াখানার অধিকর্তা ছিলেন৷ তারপর চাকুরি জীবন ছেড়ে তিনি এই প্রজাতির সংরক্ষণে সহায়তা করছেন এবং সেই লক্ষ্যে একটি প্রকল্প চালাচ্ছেন৷ প্রকল্পের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক হলো বিশ্ববিখ্যাত মিডিয়া কোম্পানি ডিজনি৷ রোসামিরা বলেন, ‘‘কটন-টপ ট্যামারিনদের নিয়ে গবেষণা ও তাদের সুরক্ষাই আমাদের মূল লক্ষ্য৷ তবে বানরগুলিকে বাঁচাতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো রেন ফরেস্ট সংরক্ষণ৷''

কলম্বিয়ার উত্তরের এই রেন ফরেস্ট আসলে অনেকগুলি বিচ্ছিন্ন জঙ্গল এলাকার সমষ্টি৷ এই অঞ্চলে ব্যাপক হারে গাছ কাটা হয়েছে৷ এই এনজিও করিডোর তৈরি করে বিচ্ছিন্ন জঙ্গলগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়৷ তাদের নিজস্ব পুনর্বনায়ন কেন্দ্র রয়েছে৷ সেখানে নানা ধরনের ছোট-বড় গাছ চাষ করা হয়৷ তবে শুধু নতুন করে অরণ্য সৃষ্টি করে কটন-টপ ট্যামারিনদের বাঁচানো সম্ভব নয়৷

এই প্রকল্প স্থানীয় গ্রামের মানুষের সঙ্গেও কাজ করে৷ আগে সেখানকার মানুষ এই বানরদের শিকার করে বিক্রি করতো৷ এনজিও-র টিম স্থানীয় মানুষদের জন্য আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি করতে সাহায্য করেছে৷ গ্রামের নারীরা এক হস্তশিল্প গোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন৷ ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ব্যাগ দিয়ে তাঁরা রঙিন হ্যান্ডব্যাগ তৈরি করছেন৷ নারীদের হস্তশিল্প গোষ্ঠীর আনা ইসাবেল আরোইয়ো বলেন, ‘‘আমরা এমন স্টাফড খেলনাও তৈরি করি৷ আমাদের বার্তা হলো, নকল প্রাণী কিনুন, তবে আসলগুলি নয়৷ এই প্রক্রিয়ায় বৃহত্তর সমাজের উপকার হয় এবং কটন-টপ ট্যামারিন বানরের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়৷''

বিক্রির অর্থ এই প্রকল্পের কাজে এবং নারী শ্রমিকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়৷ প্রায় ১৬ বছর ধরে এই এনজিও মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে৷ কটন-টপ ট্যামারিনদের সংরক্ষণের বার্তাসহ নতুন সাইনবোর্ড গোটা গ্রামে শোভা পাচ্ছে৷ এমনকি স্থানীয় স্কুলের পাঠক্রমেও এই বানররা স্থান পেয়েছে৷

স্কুলপড়ুয়ারা একটি খেলায় সেই প্রাণীদের চরিত্রে অভিনয় করে৷ প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজের গাছ, অর্থাৎ, চেয়ার বাঁচাতে লড়াই করতে হয়৷ বাস্তব জগতে গাছের অভাব বোঝাতে খেলার মধ্যে যথেষ্ট সংখ্যক চেয়ার রাখা হয় না৷ তারা প্রশ্ন তোলে, জঙ্গলের প্রাণীদের কী হবে? তারা মারা যাবে৷ তাদের কোনো খাদ্য, বাসস্থান, গাছ নেই৷

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষা, ভবিষ্যতে বনায়ন এবং নতুন ধরনের পেশা৷ এই প্রকল্প তার লক্ষ্য পূরণ করতে একাধিক ক্ষেত্রে সক্রিয় রয়েছে৷ রোসামিরা গিয়েন বলেন, ‘‘যদি মানুষের স্থায়ী আয় না থাকে এবং এই প্রজাতি সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা না থাকে, তাহলে কিছুই হবে না৷ অন্যদিকে মানুষের হাতে তথ্য থাকলেও জঙ্গল সংরক্ষণ সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা না থাকলেও চলবে না৷ আমাদের লক্ষ্য পূরণে স্বপ্ন সহায়ক হবে বলে আমরা আশা করি৷ কটন-টপ ট্যামারিনদের বিলুপ্তির হুমকি থেকে বাঁচাতে চাই৷''

কাটিয়া ড্যোনে/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন